আইপিএল জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে জামালগঞ্জের যুবসমাজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) নিয়ে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র চলছে জমজমাট জুয়া বাণিজ্য। বিগত আসরগুলোতে এভাবে জুয়া খেলে ব্যবসা-বাণিজ্য নষ্টসহ অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ধরনের নজরদারি না থাকায় জুয়া যেন অপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে।

এ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) হল সর্বোচ্চ বাজেটের একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এ খেলায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্বের সব নামী-দামী খেলোয়াড়। কিন্তু আইপিএল জুয়ার নেশায় মেতে উঠেছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, রিকশা-ভ্যান চালক, গাড়ির স্টাফ, দোকান কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজন।

পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান, অফিস, বাসা-বাড়ি এমনকি যেখানেই টিভি সেখানেই চলছে বাজি ধরা। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে এই বাজি ১০০ থেকে শুরু হয়ে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে।

কেবল ম্যাচে হারজিত নিয়েই বাজি নয়, প্রতি ওভারে ওভারে- এমনকি বলে বলে বাজি ধরছেন ছোট-বড় বাজিকররা। এতে করে প্রতিদিনই প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাজিকরের দল।

এছাড়া স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বেট ৩৬৫ নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশে-বিদেশের বাজিকরদের সঙ্গেও বাজি ধরে থাকেন এখানকার উঠতি বয়সী স্কুল কলেজগামী ছাত্ররা। ফলে এসব জুয়াড়িরা অনেকটাই থেকে যাচ্ছে প্রশাসনের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

মোবাইল ও ইন্টারনেট টিভি দেখে সহপাঠিদের সঙ্গে ফোন, হোয়াটস্আপ, ইমু ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে খেলার হারা-জেতার ওপর বিভিন্ন অংকের টাকা বাজি ধরা হয়। কোন খেলোয়াড় বেশি রান করবে, কোন বোলার বেশি উইকেট পাবে, কোন ব্যাটস ম্যান বেশি ছক্কা মারবে, কে বেশি চার মারবে, কোন বলে চার বা ছয় হবে এসবের ওপর প্রতি মুহূর্তেই চলছে বাজিধরা।

এভাবে উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চল আইপিএল জুয়ায় ভাসছে। ফলে ক্রিকেট জুয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ যুবসমাজ।

এ ব্যপারে জামালগঞ্জ থানার ওসি মো.আবুল হাশেম যুগান্তরকে বলেন, আইপিএল ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি যেহেতু জেনেছি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান যুগান্তরকে বলেন, আইপিএল ক্রিকেট নিয়ে যারা জুয়া বাণিজ্য করছে তাদের সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হবে।