বেঁচে থাকা পাভেল এখন রংপুরে!
jugantor
বেঁচে থাকা পাভেল এখন রংপুরে!

  গোলাম কবির বিলু, পীরগঞ্জ (রংপুর)  

০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:২২:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্ঘটনার আট দিন পর তার জ্ঞান ফিরেছে পাভেল ইসলামের (১৭)। তিনি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রংপুর মেডিকেলের পঞ্চম তলার ১৯নং ওয়ার্ডে নিউরো সার্জারি বিভাগের পেয়িং বেডের পি-৪ বিছানায় ভর্তি আছেন। এর আগে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন।

গত ২৬ মার্চ রাজশাহীর কাটাখালিতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পীরগঞ্জের ১৭ জন নিহত হন। বেঁচে যান কলেজছাত্র পাভেল। গত রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাভেলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোকাদ্দেম হোসেন জানান, পাভেল এখন মানুষ চিনতে পারছে। হাল্কা কথাও বলতে পারছেন। তবে তার শারীরিক দুর্বলতা রয়েছে।

জানা গেছে, ২৬ মার্চ সকালে একটি হায়েস মাইক্রোবাসযোগে পীরগঞ্জের কয়েকটি ব্যবসায়ী পরিবারের ১৭ সদস্য রাজশাহীতে পিকনিকে যায়। ওইদিন বেলা ২টার দিকে মাইক্রোবাসটি কাটাখালি থানার সামনে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ সময় হায়েসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসটির চালকসহ ১৭ জন নিহত হন। বেঁচে যান পাভেল। তাকে রাজশাহী মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

রাজশাহী মেডিকেলের আইসিইউর ইনচার্জ ডা. মোস্তফা কামাল জানান, দুর্ঘটনার আট দিন পর (২৬ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল) পাভেলের জ্ঞান ফিরে। ওই দুর্ঘটনায় পাভেলের বাবা মোখলেছার রহমান ও মা পারভীন বেগমও নিহত হন। পাভেলের বাড়ি পীরগঞ্জের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামে।

চাচাতো ভাই সাগর মিয়া বলেন, ২৬ মার্চ মাইক্রোবাসে জায়গা না হওয়ায় পাভেলের ছোট বোন মোহনা জান্নাতি মোম পিকনিকে যায়নি। সে বাড়িতে আছে।

সাগর আরও জানায়, ডাক্তার বলেছে, পাভেলকে কিছু সময় পরপর নাম ধরে ডাকতে। তাই করছি। সে এখন চোখ ও মুখ খুলছে, কথাও বলছে।

তিনি আরও বলেন, পাভেল রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের মহজিদপুর গ্রামের ফুল মিয়া (৪০), স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), ছেলে ফয়সাল মিয়া (১৫), মেয়ে সুমাইয়া (৭) ও ছোট মেয়ে সাজিদা (৩); দুরামিঠিপুর ইউনিয়নের দুরামিঠিপুর গ্রামের সাইদুর রহমান (৪৫), চৈত্রকোল ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের সালাউদ্দিন (৩৯), তার স্ত্রী শামছুন্নাহার (৩২), শ্যালিকা কামরুন্নাহার বেগম (২৫), ছেলে সাজিদ (১০) ও মেয়ে সাবাহ খাতুন (৩), পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রজাপাড়ার মোটরসাইকেল মেকার তাজুল ইসলাম ভুট্টো (৪০), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৩৫), ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন (১৪); রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামের মোকলেছার রহমান (৪০), স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৫) এবং মাইক্রোবাস চালক পৌরসভার পঁচাকান্দর গ্রামের হানিফ মিয়া ওরফে পঁচা (৩০) নিহত হন।

বেঁচে থাকা পাভেল এখন রংপুরে!

 গোলাম কবির বিলু, পীরগঞ্জ (রংপুর) 
০৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:২২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্ঘটনার আট দিন পর তার জ্ঞান ফিরেছে পাভেল ইসলামের (১৭)। তিনি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রংপুর মেডিকেলের পঞ্চম তলার ১৯নং ওয়ার্ডে নিউরো সার্জারি বিভাগের পেয়িং বেডের পি-৪ বিছানায় ভর্তি আছেন। এর আগে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন।

গত ২৬ মার্চ রাজশাহীর কাটাখালিতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পীরগঞ্জের ১৭ জন নিহত হন। বেঁচে যান কলেজছাত্র পাভেল। গত রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাভেলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোকাদ্দেম হোসেন জানান, পাভেল এখন মানুষ চিনতে পারছে। হাল্কা কথাও বলতে পারছেন। তবে তার শারীরিক দুর্বলতা রয়েছে।

জানা গেছে, ২৬ মার্চ সকালে একটি হায়েস মাইক্রোবাসযোগে পীরগঞ্জের কয়েকটি ব্যবসায়ী পরিবারের ১৭ সদস্য রাজশাহীতে পিকনিকে যায়। ওইদিন বেলা ২টার দিকে মাইক্রোবাসটি কাটাখালি থানার সামনে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ সময় হায়েসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসটির চালকসহ ১৭ জন নিহত হন। বেঁচে যান পাভেল। তাকে রাজশাহী মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

রাজশাহী মেডিকেলের আইসিইউর ইনচার্জ ডা. মোস্তফা কামাল জানান, দুর্ঘটনার আট দিন পর (২৬ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল) পাভেলের জ্ঞান ফিরে। ওই দুর্ঘটনায় পাভেলের বাবা মোখলেছার রহমান ও মা পারভীন বেগমও নিহত হন। পাভেলের বাড়ি পীরগঞ্জের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামে।

চাচাতো ভাই সাগর মিয়া বলেন, ২৬ মার্চ মাইক্রোবাসে জায়গা না হওয়ায় পাভেলের ছোট বোন মোহনা জান্নাতি মোম পিকনিকে যায়নি। সে বাড়িতে আছে।

সাগর আরও জানায়, ডাক্তার বলেছে, পাভেলকে কিছু সময় পরপর নাম ধরে ডাকতে। তাই করছি। সে এখন চোখ ও মুখ খুলছে, কথাও বলছে।

তিনি আরও বলেন, পাভেল রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের মহজিদপুর গ্রামের ফুল মিয়া (৪০), স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), ছেলে ফয়সাল মিয়া (১৫), মেয়ে সুমাইয়া (৭) ও ছোট মেয়ে সাজিদা (৩); দুরামিঠিপুর ইউনিয়নের দুরামিঠিপুর গ্রামের সাইদুর রহমান (৪৫), চৈত্রকোল ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের সালাউদ্দিন (৩৯), তার স্ত্রী শামছুন্নাহার (৩২), শ্যালিকা কামরুন্নাহার বেগম (২৫), ছেলে সাজিদ (১০) ও মেয়ে সাবাহ খাতুন (৩), পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রজাপাড়ার মোটরসাইকেল মেকার তাজুল ইসলাম ভুট্টো (৪০), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৩৫), ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন (১৪); রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামের মোকলেছার রহমান (৪০), স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৫) এবং মাইক্রোবাস চালক পৌরসভার পঁচাকান্দর গ্রামের হানিফ মিয়া ওরফে পঁচা (৩০) নিহত হন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন