এবার লাইভে এসে মামা কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিষোদগার ভাগ্নের
jugantor
এবার লাইভে এসে মামা কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিষোদগার ভাগ্নের

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৬ এপ্রিল ২০২১, ২৩:৪৭:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্বে লাইভে এসে তীব্র ভাষায় বিষোদগার করলেন তার ভাগ্নে ব্যাংকার ফখরুল ইসলাম রাহাত।

তিনি বলেন, মেয়র আবদুল কাদের মির্জা একজন ভণ্ড, প্রতারক, মিথ্যাবাদী ও সত্যবচনের নামে জঘন্য মিথ্যাচার করা একজন ব্যক্তি। বেশ কিছুদিন যাবত তিনি সত্যবচনের নামে কোম্পানীগঞ্জবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভাকে অরাজকতার জনপথে পরিণত করেছেন তিনি। আমি এবং আমাদের ভরসারস্থল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট ইশরাতুন্নেছা কাদেরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করার জন্যই লাইভে আসা।

ভাগ্নে রাহাত আরও বলেন, কবিরহাট, ফেনী ও কুমিল্লায় আমার গাড়ি আটকের বিষয়টি তার কল্পনাপ্রসূত ও স্বপ্নের বর্ণিত বিষয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মালিকীয় ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৫০০০নং গাড়িটি আমি গত ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি তারিখে এসএম ট্রেডিং নামক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি; যা বিআরটিএতে রেকর্ড আছে। অথচ মেয়র আবদুল কাদের মির্জা মিথ্যাচার করে বলেছেন, আমার গাড়িটি মাদকসহ থানায় আটক রয়েছে।

আমাদের পারিবারিক মালিকানাধীন এইচআর সিটি মার্কেটটির সঠিক কাগজপত্র রয়েছে। সীমানা বিষয়ক একটি মামলা এখনও আদালতে চলমান আছে। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে মেয়র কাদের মির্জা নিজে টাকা খরচ করে সেনাবাহিনী দিয়ে অবৈধ অংশ দাবি করে ভাঙ্গতে চেয়েছিলেন। গত ৯ মার্চ আমি পৌরসভায় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিলাম বলে তিনি মিথ্যাচার করেছেন। অথচ আমার বাসার সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, সেদিন সে সময়ে আমি আমার নিজ বাসায় অবস্থান করছিলাম।

ভাগ্নে রাহাত বলেন, জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলাম বলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মামা কাদের মির্জা। অথচ ওই ঘটনার সময় আমি জনতা ব্যাংকের বসুরহাট শাখায় ছিলাম না। আমার কর্মস্থল ছিল চৌমুহনী শাখায়। আর এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকের তৎকালীন ক্যাশিয়ার লিটন চন্দ্র দাস এ টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তাতে তো আমাকে অভিযুক্ত করেননি। তাহলে বুঝে দেখুন, আবদুল কাদের মির্জা সত্যবচনের নামে কী ধরনের মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন।

মেয়র আবদুল কাদের মির্জা যেভাবে লাগাতার সত্যবচনের নামে মিথ্যাচার করছেন, যদি নিজের সম্পর্কে সত্যবচন করতেন তাহলে ভালো লাগত। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে সংসদ সদস্যের কোটায় সব টিআর তিনি আত্মসাৎ করেছেন। নিজ পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে তিনি কমিশন আদায় করেন ও খান।

বসুরহাট পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, এলজিইডি, সড়ক ও জনপদসহ সব সংস্থার সব কাজের টেন্ডার তিনি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ, কাজ বণ্টন করেন এবং কমিশন নেন। কুমিল্লা ফোর লেনের কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ কোটি, মুন্সীগঞ্জ জেলার এক ঠিকাদার থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং ফেনীর ফোর লেন কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন তিনি।

আমার নানা হেডমাস্টার মশু মিয়ার (ওবায়দুল কাদের ও কাদের মির্জার বাবা) ১১ সন্তান, সবাইকে তিনি লালন পালন ও লেখাপড়া করিয়েছেন। কাদের মির্জাও তারই সন্তান। ছেঁড়া শার্ট নিয়ে তিনি কেন বসুরহাটে উঠেছেন। একথা সত্য হলে মেয়র কাদের মির্জা এত ব্যবসা-বাণিজ্য অর্থবিত্তের মালিক কীভাবে হলেন।

ঢাকায় মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ে বিলাস বহুল ২টি ফ্লাট বাড়ি, বক্সবাজারে ফাইভ স্টার হোটেল, আমেরিকার নিউইয়র্কে বাড়ি। এছাড়াও ব্যাংকগুলোতে কাড়ি-কাড়ি টাকা আছে। এসব সম্পদের উৎস কোথায়। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন কীভাবে এত অর্থ সম্পদ বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছে।

দুদকের কাছে আহ্বান জানাব- মেয়র আবদুল কাদের মির্জার এসব অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন। আর তাকে অনুরোধ করে বলব, অনেক হয়েছে সত্যবচনের নামে এবার ভণ্ডামী বন্ধ করুন। আপনি এবং আপনার স্ত্রীর মানসিক যন্ত্রণার কারণে আমার ছোটমামা দেলোয়ার আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। মেয়র কাদের মির্জা জননেতা ওবায়দুল কাদেরের মাথা হেঁট করে দিয়েছেন। তার সমস্ত অর্জন ও মানমর্যাদা নষ্ট করে দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা কাদেরের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যাচার করেছেন, এগুলোর কোনো সত্যতা নেই। এ জিম্মিদশা থেকে কোম্পানীগঞ্জবাসীকে মুক্ত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি আমাদের একমাত্র ভরসারস্থল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে।

এবার লাইভে এসে মামা কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিষোদগার ভাগ্নের

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৬ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্বে লাইভে এসে তীব্র ভাষায় বিষোদগার করলেন তার ভাগ্নে ব্যাংকার ফখরুল ইসলাম রাহাত।

তিনি বলেন, মেয়র আবদুল কাদের মির্জা একজন ভণ্ড, প্রতারক, মিথ্যাবাদী ও সত্যবচনের নামে জঘন্য মিথ্যাচার করা একজন ব্যক্তি। বেশ কিছুদিন যাবত তিনি সত্যবচনের নামে কোম্পানীগঞ্জবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন। 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভাকে অরাজকতার জনপথে পরিণত করেছেন তিনি। আমি এবং আমাদের ভরসারস্থল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট ইশরাতুন্নেছা কাদেরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করার জন্যই লাইভে আসা। 

ভাগ্নে রাহাত আরও বলেন, কবিরহাট, ফেনী ও কুমিল্লায় আমার গাড়ি আটকের বিষয়টি তার কল্পনাপ্রসূত ও স্বপ্নের বর্ণিত বিষয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মালিকীয় ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৫০০০নং গাড়িটি আমি গত ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি তারিখে এসএম ট্রেডিং নামক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি; যা বিআরটিএতে রেকর্ড আছে। অথচ মেয়র আবদুল কাদের মির্জা মিথ্যাচার করে বলেছেন, আমার গাড়িটি মাদকসহ থানায় আটক রয়েছে। 

আমাদের পারিবারিক মালিকানাধীন এইচআর সিটি মার্কেটটির সঠিক কাগজপত্র রয়েছে। সীমানা বিষয়ক একটি মামলা এখনও আদালতে চলমান আছে। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে মেয়র কাদের মির্জা নিজে টাকা খরচ করে সেনাবাহিনী দিয়ে অবৈধ অংশ দাবি করে ভাঙ্গতে চেয়েছিলেন। গত ৯ মার্চ আমি পৌরসভায় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিলাম বলে তিনি মিথ্যাচার করেছেন। অথচ আমার বাসার সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, সেদিন সে সময়ে আমি আমার নিজ বাসায় অবস্থান করছিলাম।

ভাগ্নে রাহাত বলেন, জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলাম বলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মামা কাদের মির্জা। অথচ ওই ঘটনার সময় আমি জনতা ব্যাংকের বসুরহাট শাখায় ছিলাম না। আমার কর্মস্থল ছিল চৌমুহনী শাখায়। আর এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকের তৎকালীন ক্যাশিয়ার লিটন চন্দ্র দাস এ টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তাতে তো আমাকে অভিযুক্ত করেননি। তাহলে বুঝে দেখুন, আবদুল কাদের মির্জা সত্যবচনের নামে কী ধরনের মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন।

মেয়র আবদুল কাদের মির্জা যেভাবে লাগাতার সত্যবচনের নামে মিথ্যাচার করছেন, যদি নিজের সম্পর্কে সত্যবচন করতেন তাহলে ভালো লাগত। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে সংসদ সদস্যের কোটায় সব টিআর তিনি আত্মসাৎ করেছেন। নিজ পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে তিনি কমিশন আদায় করেন ও খান।

বসুরহাট পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, এলজিইডি, সড়ক ও জনপদসহ সব সংস্থার সব কাজের টেন্ডার তিনি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ, কাজ বণ্টন করেন এবং কমিশন নেন। কুমিল্লা ফোর লেনের কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে ১ কোটি, মুন্সীগঞ্জ জেলার এক ঠিকাদার থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং ফেনীর ফোর লেন কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন তিনি।

আমার নানা হেডমাস্টার মশু মিয়ার (ওবায়দুল কাদের ও কাদের মির্জার বাবা) ১১ সন্তান, সবাইকে তিনি লালন পালন ও লেখাপড়া করিয়েছেন। কাদের মির্জাও তারই সন্তান। ছেঁড়া শার্ট নিয়ে তিনি কেন বসুরহাটে উঠেছেন। একথা সত্য হলে মেয়র কাদের মির্জা এত ব্যবসা-বাণিজ্য অর্থবিত্তের মালিক কীভাবে হলেন।

ঢাকায় মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ে বিলাস বহুল ২টি ফ্লাট বাড়ি, বক্সবাজারে ফাইভ স্টার হোটেল, আমেরিকার নিউইয়র্কে বাড়ি। এছাড়াও ব্যাংকগুলোতে কাড়ি-কাড়ি টাকা আছে। এসব সম্পদের উৎস কোথায়। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন কীভাবে এত অর্থ সম্পদ বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছে।

দুদকের কাছে আহ্বান জানাব- মেয়র আবদুল কাদের মির্জার এসব অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন। আর তাকে অনুরোধ করে বলব, অনেক হয়েছে সত্যবচনের নামে এবার ভণ্ডামী বন্ধ করুন। আপনি এবং আপনার স্ত্রীর মানসিক যন্ত্রণার কারণে আমার ছোটমামা দেলোয়ার আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। মেয়র কাদের মির্জা জননেতা ওবায়দুল কাদেরের মাথা হেঁট করে দিয়েছেন। তার সমস্ত অর্জন ও মানমর্যাদা নষ্ট করে দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা কাদেরের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যাচার করেছেন, এগুলোর কোনো সত্যতা নেই। এ জিম্মিদশা থেকে কোম্পানীগঞ্জবাসীকে মুক্ত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি আমাদের একমাত্র ভরসারস্থল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আবদুল কাদের মির্জা

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন