মরা গাছ যেন মরণ ফাঁদ!
jugantor
মরা গাছ যেন মরণ ফাঁদ!

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৭:০০:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় কয়েক শতাধিক মরা গাছ এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে পথচারীসহ এলাকার মানুষের। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এসব গাছে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে-এমন আতঙ্ক ও আশংকা নিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার পথচারীরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটো-খাটো দুর্ঘটনাও।

গত ১৯৯৭ সালে হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের ইসবপুর এলাকায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনডিসি) নামে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এলাকায় কমিটি গঠন করে রাস্তার দুপাশে লাগানো হয় কয়েক শতাধিক ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, শিশুসহ বিভিন্ন গাছ। ইতিমধ্যেই গাছের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেসব গাছ মরে গেছে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও সেসব মরা গাছগুলো কাটার কোনো ব্যবস্থা না করায় তা ঝুঁকিপূর্ণ ও মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প বাতাসেই ভেঙ্গে পড়ছে সেসব মরা গাছ ও গাছের ডালপালা। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা। এসব ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় চলাচল করছে পথচারীরা এবং জমিতে আবাদ করছে রাস্তার পাশের জমির মালিকরা।

ভ্যানচালক আমিরুল হোসেন জানান, প্রতিদিন তাকে এই রাস্তায় চলাচল করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কয়েকদিন আগের ঝড়ে একটি গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তিনি। এজন্য তার আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

ইসবপুর গ্রামে ওই রাস্তার পাশের জমিতে বোরো চাষ করা লুৎফর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, রাস্তার পাশে জমিতে বোরো চাষ করছি, জমির পাশেই রাস্তার সব গাছগুলো মরে গেছে। তাই সবসময় ভয়ে থাকি-কখন যে মরা গাছ মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে।

গাছের উপকারভোগী আব্দুল জলিলসহ অনেকেই জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনও গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করা হয়নি। বর্তমানে মরা গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এতে একদিকে মানুষের ঝুঁকি বেড়েছে, অন্যদিকে গাছগুলোর দেখভাল করেও উপকার ভোগ করতে পারছেন না তারা।

স্থানীয় আলীহাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, গাছগুলো মরে যাওয়ায় ওই রাস্তা দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গাছগুলো কাটার জন্য ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও কোনো লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনডিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক সাজু আহম্মেদ জানান, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় হাকিমপুর ইউনিয়নের সব গাছ কাটা শেষ। আলীহাট ইউনিয়নের কিছু রাস্তার গাছ কর্তন করতে একটু দেরি হচ্ছে, দ্রুতই মরা গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর-এ আলম জানান, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা আছে। উপকারভোগীরা ওই কমিটিকে জানালে তারা মিটিং করে উপজেলা কমিটিকে অবহিত করলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মরা গাছ যেন মরণ ফাঁদ!

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
০৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় কয়েক শতাধিক মরা গাছ এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে পথচারীসহ এলাকার মানুষের। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এসব গাছে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে-এমন আতঙ্ক ও আশংকা নিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার পথচারীরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটো-খাটো দুর্ঘটনাও।

গত ১৯৯৭ সালে হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের ইসবপুর এলাকায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনডিসি) নামে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এলাকায় কমিটি গঠন করে রাস্তার দুপাশে লাগানো হয় কয়েক শতাধিক ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, শিশুসহ বিভিন্ন গাছ। ইতিমধ্যেই গাছের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেসব গাছ মরে গেছে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও সেসব মরা গাছগুলো কাটার কোনো ব্যবস্থা না করায় তা ঝুঁকিপূর্ণ ও মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প বাতাসেই ভেঙ্গে পড়ছে সেসব মরা গাছ ও গাছের ডালপালা। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটোখাটো দুর্ঘটনা। এসব ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় চলাচল করছে পথচারীরা এবং জমিতে আবাদ করছে রাস্তার পাশের জমির মালিকরা।
 
ভ্যানচালক আমিরুল হোসেন জানান, প্রতিদিন তাকে এই রাস্তায় চলাচল করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কয়েকদিন আগের ঝড়ে একটি গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তিনি। এজন্য তার আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

ইসবপুর গ্রামে ওই রাস্তার পাশের জমিতে বোরো চাষ করা লুৎফর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, রাস্তার পাশে জমিতে বোরো চাষ করছি, জমির পাশেই রাস্তার সব গাছগুলো মরে গেছে। তাই সবসময় ভয়ে থাকি-কখন যে মরা গাছ মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে।

গাছের উপকারভোগী আব্দুল জলিলসহ অনেকেই জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনও গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করা হয়নি। বর্তমানে মরা গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এতে একদিকে মানুষের ঝুঁকি বেড়েছে, অন্যদিকে গাছগুলোর দেখভাল করেও উপকার ভোগ করতে পারছেন না তারা।

স্থানীয় আলীহাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, গাছগুলো মরে যাওয়ায় ওই রাস্তা দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গাছগুলো কাটার জন্য ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও কোনো লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনডিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক সাজু আহম্মেদ জানান, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় হাকিমপুর ইউনিয়নের সব গাছ কাটা শেষ। আলীহাট ইউনিয়নের কিছু রাস্তার গাছ কর্তন করতে একটু দেরি হচ্ছে, দ্রুতই মরা গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর-এ আলম জানান, এ বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা আছে। উপকারভোগীরা ওই কমিটিকে জানালে তারা মিটিং করে উপজেলা কমিটিকে অবহিত করলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন