হয় পেনশন দেন, না হয় বিষের বোতল দেন
jugantor
হয় পেনশন দেন, না হয় বিষের বোতল দেন

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

০৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩৫:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পাননি, পেনশনের টাকার জন্য এক বছর ধরে ফাইল হাতে নিয়ে অফিসের বারান্দায় ঘুরছেন। তিনি অসুস্থ, ওষুধ কিনতে পারছেন না, স্ত্রীর চিকিৎসা বন্ধ, সন্তানের খাবারও দিতে পারছেন না।

কষ্টের এমন বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মো. আলী আজগার ফরহাদ। তিনি ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সহরবানু বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে যান।

তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী হাসনা আরা অসুস্থ, চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ছেলের লেখাপড়াও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

বুধবার ময়মনসিংহের গৌরীপুরের স্বজন মিডিয়া সেন্টারে দ্রুত পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের জমাকৃত অর্থ ও ভাতা প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলে কাঁদলেন অবসরপ্রাপ্ত ১৪ জন শিক্ষক।

সংবাদ সম্মেলনে নহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। গত বছরের ৬ অক্টোবর জেলা অফিসে পেনশন ফাইল নিয়ে গেলে জমা রাখেনি। রাশিয়ায় পিএইচডিরত সন্তানের খরচ পাঠাতে পারছি না, আমি এক অসহায় বাবা! ২ ছেলে আর ১ মেয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত; তাদের লেখাপড়ার খরচও দিতে পারছি না। দোকানদারদের সামনে গেলে আমাদের নিত্যপণ্যও এখন আর বাকিতে দেয় না।

পেনশনের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে আরও বক্তব্য রাখেন- বৈরাটি আমজত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম, মহিশ্বরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার, পুম্বাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল বারি, গড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নওয়াব উদ্দিন খান পাঠান, তালেব হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরা আক্তার খাতুন, ভিটেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল লতিফ, দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আবু হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিম দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মনোয়ারা ইয়াসমিন, পুম্বাইল দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আবুল হাসেম, লামাপাড়া দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদির, হিম্মতনগর দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক সাহাব উদ্দিনসহ ১৪ জন।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম বলেন, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর শূন্যহাতে বাড়িতে গিয়েছি। ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীর হাতে ঈদে কাপড়, সুচিকিৎসা ও সন্তানের খরচ দিতে পারছি না।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার জানান, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উপোষ থাকছি। কেউ আমাদের খোঁজখরব নিচ্ছে না। ফাইল ঘুরছে, বেতন-ভাতা কিছুই পাচ্ছি না।

মো. আব্দুল বারি বলেন, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পেনশনে গিয়েছি। সন্তানের খরচ দিতে পারছি না, তাই ডিপ্লোমা পড়ুয়া সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এ সময় গড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নওয়াব উদ্দিন খান পাঠান বলেন, সারা বছরের জমানো টাকা পাচ্ছি না। হয় পেনশন দেন না হলে আমাদের বিষের বোতল দেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খেয়ে একবারে মরে যাই। এই যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না।

অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আবুল হাসেম বলেন, আমার এক মেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাকে খরচ দিতে পারছি না। ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেলাম শূন্য হাতে। স্ত্রী আর সন্তানদের সামনে দাঁড়াতে পারছি না।

ভিটেরপাড়ার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অবসরে গিয়েছি। আমার এক ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অপর ছেলে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেয়ে মুমিনুন্নেছা সরকারি কলেজে পড়ে। তাদের খরচও দিতে পারছি না। বিনা চিকিৎসায় আমার মৃত্যু হলে এই পেনশনের টাকা দিয়ে কী হবে!

এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বলেন, আমরা বিধি মোতাবেক পেনশনারদের দ্রুত ভাতাদি প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিউল হক জানান, স্কেল সংক্রান্ত মামলার জটিলতায় পেনশন দেয়া যাচ্ছে না। একজনের ফাইল অনুমোদন করেছিলাম হিসাবরক্ষণ বিভাগ আপত্তি দিয়েছে। তাই বন্ধ ছিল। তবে দ্রুত পেনশন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মেঘলাল মণ্ডল বলেন, শিক্ষকদের কোনো পেনশন ফাইল এ অফিসে আটকা নেই। জেলা শিক্ষা অফিস থেকে অনুমোদন দিচ্ছে না। অনুমোদন দিলে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেনশন ফাইল নিষ্পত্তি করতে আমরা প্রস্তুত।

হয় পেনশন দেন, না হয় বিষের বোতল দেন

 গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
০৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পাননি, পেনশনের টাকার জন্য এক বছর ধরে ফাইল হাতে নিয়ে অফিসের বারান্দায় ঘুরছেন। তিনি অসুস্থ, ওষুধ কিনতে পারছেন না, স্ত্রীর চিকিৎসা বন্ধ, সন্তানের খাবারও দিতে পারছেন না।

কষ্টের এমন বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মো. আলী আজগার ফরহাদ। তিনি ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সহরবানু বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে যান।

তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী হাসনা আরা অসুস্থ, চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ছেলের লেখাপড়াও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

বুধবার ময়মনসিংহের গৌরীপুরের স্বজন মিডিয়া সেন্টারে দ্রুত পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের জমাকৃত অর্থ ও ভাতা প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলে কাঁদলেন অবসরপ্রাপ্ত ১৪ জন শিক্ষক।

সংবাদ সম্মেলনে নহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। গত বছরের ৬ অক্টোবর জেলা অফিসে পেনশন ফাইল নিয়ে গেলে জমা রাখেনি। রাশিয়ায় পিএইচডিরত সন্তানের খরচ পাঠাতে পারছি না, আমি এক অসহায় বাবা! ২ ছেলে আর ১ মেয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত; তাদের লেখাপড়ার খরচও দিতে পারছি না। দোকানদারদের সামনে গেলে আমাদের নিত্যপণ্যও এখন আর বাকিতে দেয় না।

পেনশনের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে আরও বক্তব্য রাখেন- বৈরাটি আমজত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম, মহিশ্বরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার, পুম্বাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল বারি, গড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নওয়াব উদ্দিন খান পাঠান, তালেব হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরা আক্তার খাতুন, ভিটেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল লতিফ, দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আবু হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিম দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মনোয়ারা ইয়াসমিন, পুম্বাইল দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আবুল হাসেম, লামাপাড়া দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদির, হিম্মতনগর দৌলতাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক সাহাব উদ্দিনসহ ১৪ জন।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম বলেন, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর শূন্যহাতে বাড়িতে গিয়েছি। ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীর হাতে ঈদে কাপড়, সুচিকিৎসা ও সন্তানের খরচ দিতে পারছি না।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার জানান, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উপোষ থাকছি। কেউ আমাদের খোঁজখরব নিচ্ছে না। ফাইল ঘুরছে, বেতন-ভাতা কিছুই পাচ্ছি না।

মো. আব্দুল বারি বলেন, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পেনশনে গিয়েছি। সন্তানের খরচ দিতে পারছি না, তাই ডিপ্লোমা পড়ুয়া সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এ সময় গড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নওয়াব উদ্দিন খান পাঠান বলেন, সারা বছরের জমানো টাকা পাচ্ছি না। হয় পেনশন দেন না হলে আমাদের বিষের বোতল দেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খেয়ে একবারে মরে যাই। এই যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না।

অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. আবুল হাসেম বলেন, আমার এক মেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাকে খরচ দিতে পারছি না। ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেলাম শূন্য হাতে। স্ত্রী আর সন্তানদের সামনে দাঁড়াতে পারছি না।

ভিটেরপাড়ার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অবসরে গিয়েছি। আমার এক ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অপর ছেলে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেয়ে মুমিনুন্নেছা সরকারি কলেজে পড়ে। তাদের খরচও দিতে পারছি না। বিনা চিকিৎসায় আমার মৃত্যু হলে এই পেনশনের টাকা দিয়ে কী হবে!

এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বলেন, আমরা বিধি মোতাবেক পেনশনারদের দ্রুত ভাতাদি প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিউল হক জানান, স্কেল সংক্রান্ত মামলার জটিলতায় পেনশন দেয়া যাচ্ছে না। একজনের ফাইল অনুমোদন করেছিলাম হিসাবরক্ষণ বিভাগ আপত্তি দিয়েছে। তাই বন্ধ ছিল। তবে দ্রুত পেনশন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মেঘলাল মণ্ডল বলেন, শিক্ষকদের কোনো পেনশন ফাইল এ অফিসে আটকা নেই। জেলা শিক্ষা অফিস থেকে অনুমোদন দিচ্ছে না। অনুমোদন দিলে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেনশন ফাইল নিষ্পত্তি করতে আমরা প্রস্তুত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন