রং পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না সেই কার্গোর (ভিডিও)
jugantor
রং পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না সেই কার্গোর (ভিডিও)

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ   

০৮ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৪৫:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

রং পাল্টে ফেলেও শেষ রক্ষা হয়নি শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া সেই কার্গো জাহাজটির।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদীতে নোঙর করা অবস্থায় এসকেএল-৩ নামের কার্গো জাহাজটি আটক করেছে পাগলা কোস্টগার্ডের একটি আভিজানিক দল।

এ সময় কার্গো জাহাজটির চালকসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়। এর আগে ধাক্কা দেয়া কার্গোটির মালিক একজন সরকারদলীয় এমপি হওয়ার কারণে সেটিকে আটক বা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছিল আলোচনা সমালোচনা।

কিন্তু শেষঅবধি কার্গো জাহাজটি আটক হওয়ায় এ আলোচনা সমালোচনার অবসান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলেও কার্গো জাহাজটির চালক বা কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি মামলায়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার লঞ্চডুবির ঘটনার পরপরই কার্গো জাহাজটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করে। পরদিন সকালে জাহাজটি নদীতে নোঙর করা অবস্থাতেই রং করা শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানান, লঞ্চ দুর্ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এবং নিহত বেশির ভাগ মানুষই ছিলেন মুন্সীগঞ্জের। তাই জাহাজটি আশপাশের ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়নি। কেউ যাতে বিষয়টি টের না পায় সেজন্য নদীতেই রং করানো হয় জাহাজটি।

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড পাগলা স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আশমাদুল ইসলাম বলেন, যাত্রীবাহী লঞ্চটি ধাক্কা দেওয়ার পর দ্রুত কার্গো জাহাজটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চলে যায়। কার্গোটি গজারিয়ার কোস্টগার্ড স্টেশনের কাছাকাছি নোঙর করা ছিল। জাহাজটির রং বদলে ফেলা হয়েছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ আটক করা হয়েছে। এ সময় কার্গোটির চালকসহ আটক করা হয়েছে ১৪ জনকে।

এর আগে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবিতে হতাহত হওয়ার ঘটনায় কার্গোর চালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) বাবুলাল বৈদ্য।

হত্যার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া গতিতে পণ্যবাহী কার্গোটি চালিয়ে লঞ্চটি ডুবিয়ে ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

অপরদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিকপক্ষ বলছে, গত বুধবার সারাদিন থানায় থানায় ঘুরেও মামলা করতে পারেনি ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমএল সাবিত আল হাসানের মালিক পক্ষ।

বুধবার নারায়ণগঞ্জ নৌথানা ও বন্দর থানায় জাহাজের মাস্টার বাদী হয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। লঞ্চডুবির সময় সাবিত আল হাসানের দায়িত্বে ছিলেন তৃতীয় শ্রেণির সনদধারী মাস্টার জাকির হোসেন।

লঞ্চডুবিতে আহত জাকির চিকিৎসা নিয়ে বুধবার মামলা করতে এসেছিলেন। এ সময় জাকির হোসেনের সঙ্গে ওই লঞ্চের কেরানি মঞ্জুর আলী ও লঞ্চ মালিক সমিতির লোকজনও ছিলেন।

রং পাল্টেও শেষ রক্ষা হলো না সেই কার্গোর (ভিডিও)

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  
০৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রং পাল্টে ফেলেও শেষ রক্ষা হয়নি শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া সেই কার্গো জাহাজটির। 

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদীতে নোঙর করা অবস্থায় এসকেএল-৩ নামের কার্গো জাহাজটি আটক করেছে পাগলা কোস্টগার্ডের একটি আভিজানিক দল। 

এ সময় কার্গো জাহাজটির চালকসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়। এর আগে ধাক্কা দেয়া কার্গোটির মালিক একজন সরকারদলীয় এমপি হওয়ার কারণে সেটিকে আটক বা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছিল আলোচনা সমালোচনা। 

কিন্তু শেষঅবধি কার্গো জাহাজটি আটক হওয়ায় এ আলোচনা সমালোচনার অবসান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলেও কার্গো জাহাজটির চালক বা কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি মামলায়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার লঞ্চডুবির ঘটনার পরপরই কার্গো জাহাজটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করে। পরদিন সকালে জাহাজটি নদীতে নোঙর করা অবস্থাতেই রং করা শুরু হয়। 

স্থানীয়রা জানান, লঞ্চ দুর্ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এবং নিহত বেশির ভাগ মানুষই ছিলেন মুন্সীগঞ্জের। তাই জাহাজটি আশপাশের ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়নি। কেউ যাতে বিষয়টি টের না পায় সেজন্য নদীতেই রং করানো হয় জাহাজটি। 

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড পাগলা স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আশমাদুল ইসলাম বলেন, যাত্রীবাহী লঞ্চটি ধাক্কা দেওয়ার পর দ্রুত কার্গো জাহাজটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চলে যায়। কার্গোটি গজারিয়ার কোস্টগার্ড স্টেশনের কাছাকাছি নোঙর করা ছিল। জাহাজটির রং বদলে ফেলা হয়েছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ আটক করা হয়েছে। এ সময় কার্গোটির চালকসহ আটক করা হয়েছে ১৪ জনকে।

এর আগে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবিতে হতাহত হওয়ার ঘটনায় কার্গোর চালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। 

গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি করেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) বাবুলাল বৈদ্য। 

হত্যার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া গতিতে পণ্যবাহী কার্গোটি চালিয়ে লঞ্চটি ডুবিয়ে ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

অপরদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিকপক্ষ বলছে, গত বুধবার সারাদিন থানায় থানায় ঘুরেও মামলা করতে পারেনি ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমএল সাবিত আল হাসানের মালিক পক্ষ। 

বুধবার নারায়ণগঞ্জ নৌথানা ও বন্দর থানায় জাহাজের মাস্টার বাদী হয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। লঞ্চডুবির সময় সাবিত আল হাসানের দায়িত্বে ছিলেন তৃতীয় শ্রেণির সনদধারী মাস্টার জাকির হোসেন। 

লঞ্চডুবিতে আহত জাকির চিকিৎসা নিয়ে বুধবার মামলা করতে এসেছিলেন। এ সময় জাকির হোসেনের সঙ্গে ওই লঞ্চের কেরানি মঞ্জুর আলী ও লঞ্চ মালিক সমিতির লোকজনও ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন