সুযোগ পেয়েও মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত বৃষ্টির
jugantor
সুযোগ পেয়েও মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত বৃষ্টির

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি  

১২ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৬:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি।

মেধাবী ছাত্রী সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি। তবে গরিব ঘরের। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের দিনমজুর শহীদুল ইসলামের মেয়ে তিনি।

এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছে বৃষ্টির। দারিদ্র্যতার কারণে সুযোগ পেয়েও চিকিৎসক হওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তার বাবা-মা। বৃষ্টির চোখেমুখে এখন শুধু হতাশা।

জানা যায়, জন্মের পর থেকেই জীবনের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত লড়াই করে চলেছেন বৃষ্টি। তবুও লেখাপড়ার হাল ছাড়েননি। বড় হওয়ার স্বপ্নকে ঘিরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। নিজের চেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম হয়েছিলেন। এইচএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

এবার মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে। বৃষ্টির বড়ভাইয়ের আয়ে চলে সংসার। মা নাসিমা বেগম গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে বৃষ্টি ছোট। অভাবের কারণে বড়ভাই নাসির ও বোন হাসিকে পড়ালেখা করাতে পারেনি পরিবার। তবে জমি বলতে বাড়ি ভিটাটুটু।

কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছে বৃষ্টির। সামনের পুরোটা পথ তার অনিশ্চিত।

বৃষ্টির বাবা দিনমজুর শহীদুল ইসলাম জানান, মেয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। মেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই ছিল। মেয়ে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে, কিন্তু ভর্তির টাকা জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। স্বল্প আয়ে চলে চার সদস্যের পরিবার।

স্কুলজীবন থেকে শুরু করে সব পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা বৃষ্টি ডাক্তার হয়ে গরিব অসহায়দের সেবা করতে চায়। বর্তমানে কারও কাছে একটু আর্থিক সহযোগিতা পেলে হাসি ফুটবে বৃষ্টির মুখে।

সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি বলেন, প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়ালেখা করেছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনও কখনও মায়ের সঙ্গে হাতের কাজ করেছি। এই আয় থেকে নিজের পড়ালেখা খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচ করেছি।

মনিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম, এইচএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন এবং মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেয়েছে বৃষ্টি। দিনমজুর পরিবার থেকে অর্থের জোগান দিয়ে মেডিকেলে পড়ানো এই পরিবারের পক্ষে খুব কঠিন।

তার জন্য সমাজের শিক্ষানুরাগী কোনো সুহৃদয় ব্যক্তির একটু সহযোগিতা পেলে তার ডাক্তার হওয়ার পথ নিশ্চিত হতে পারে। বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে এই মোবাইল নম্বরে ‘০১৭৪৫২৫১৩৬৩’ যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হলো।

সুযোগ পেয়েও মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত বৃষ্টির

 বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 
১২ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি।
সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি। ছবি: যুগান্তর

মেধাবী ছাত্রী সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি। তবে গরিব ঘরের। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের দিনমজুর শহীদুল ইসলামের মেয়ে তিনি।

এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছে বৃষ্টির। দারিদ্র্যতার কারণে সুযোগ পেয়েও চিকিৎসক হওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তার বাবা-মা। বৃষ্টির চোখেমুখে এখন শুধু হতাশা।

জানা যায়, জন্মের পর থেকেই জীবনের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত লড়াই করে চলেছেন বৃষ্টি। তবুও লেখাপড়ার হাল ছাড়েননি। বড় হওয়ার স্বপ্নকে ঘিরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। নিজের চেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম হয়েছিলেন। এইচএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

এবার মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে। বৃষ্টির বড়ভাইয়ের আয়ে চলে সংসার। মা নাসিমা বেগম গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে বৃষ্টি ছোট। অভাবের কারণে বড়ভাই নাসির ও বোন হাসিকে পড়ালেখা করাতে পারেনি পরিবার। তবে জমি বলতে বাড়ি ভিটাটুটু।

কিন্তু অর্থাভাবে সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হতে যাচ্ছে বৃষ্টির। সামনের পুরোটা পথ তার অনিশ্চিত।

বৃষ্টির বাবা দিনমজুর শহীদুল ইসলাম জানান, মেয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। মেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আগে থেকেই ছিল। মেয়ে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে, কিন্তু ভর্তির টাকা জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। স্বল্প আয়ে চলে চার সদস্যের পরিবার।

স্কুলজীবন থেকে শুরু করে সব পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা বৃষ্টি ডাক্তার হয়ে গরিব অসহায়দের সেবা করতে চায়। বর্তমানে কারও কাছে একটু আর্থিক সহযোগিতা পেলে হাসি ফুটবে বৃষ্টির মুখে।

সাদিকা ইয়াসমিন বৃষ্টি বলেন, প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়ালেখা করেছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। আবার কখনও কখনও মায়ের সঙ্গে হাতের কাজ করেছি। এই আয় থেকে নিজের পড়ালেখা খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচ করেছি।

মনিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম, এইচএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন এবং মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেয়েছে বৃষ্টি। দিনমজুর পরিবার থেকে অর্থের জোগান দিয়ে মেডিকেলে পড়ানো এই পরিবারের পক্ষে খুব কঠিন।

তার জন্য সমাজের শিক্ষানুরাগী কোনো সুহৃদয় ব্যক্তির একটু সহযোগিতা পেলে তার ডাক্তার হওয়ার পথ নিশ্চিত হতে পারে। বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে এই মোবাইল নম্বরে ‘০১৭৪৫২৫১৩৬৩’ যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হলো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন