অদম্য ইচ্ছাশক্তিতেই মেডিকেলে চান্স পেয়েছে দরিদ্র পিয়াল
jugantor
অদম্য ইচ্ছাশক্তিতেই মেডিকেলে চান্স পেয়েছে দরিদ্র পিয়াল

  খোরশিদুল আলম মজিব, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)  

১২ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৪৩:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

দরিদ্রতার প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে ময়মনসিংহের ত্রিশালের মেহেদী হাসান আকন্দ পিয়াল ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির চান্স পেয়েছে। পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের মেদারপাড় গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র পান দোকানী আবদুল কাদের আকন্দ কাজলের ছেলে পিয়াল ভর্তি পরীক্ষায় ৮৪ নম্বর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ৩০ তম স্থান অর্জন করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগের খবরে আনন্দের জোয়ার বইছে পিয়ালের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মাঝে।

সহায় সম্বল না থাকায় ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি টং দোকানে পান-সিগারেটের ব্যবসা করেন পিয়ালের বাবা কাজল। কাজল ও মিনারা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান পিয়াল। ৫ সদস্যের পরিবারের আয় রোজগার কম থাকায় পিয়ালকে ভর্তি করেন স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন শুকতারা বিদ্যানিকেতনে।

ওই স্কুল থেকে পিএসসি ও জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেলেও গোল্ডেন না আসায় মন ভেঙে যায় তার। পিয়াল ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় নজরুল ডিগ্রি কলেজে।

দারিদ্রতায় হতাশামুক্ত করে দুই শিক্ষক সাজু ও সুফল পিয়ালকে ভর্তি করান ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে। আনন্দ মোহন কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেন এইচএসসি।

শিক্ষক সাজু ও সুফল বলেন, আমরা শুধু ওর প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতা করেছি। দারিদ্র ও হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পিয়াল একটি অনুকরনীয় ও আলোকিত দৃষ্টান্ত।

শুকতারা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন আকন্দ জানান, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণার পাশাপাশি তার দৃঢ় মনোবলে এতদূর এগিয়ে গেছে সে। আমরা তার সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা করছি।

মা মিনারা বেগম পিয়ালের এই সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা হলেও যুগান্তর এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ওর নানার খুব আশা ছিল সে ডাক্তার হবে। তার নানা বেঁচে থাকলে মেডিকেলে ভর্তির খবরে খুব খুশি হতেন।

পান দোকানদার বাবা আবদুল কাদের আকন্দ কাজল বলেন, সবার কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই সে যেন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।

মেহেদী হাসান আকন্দ পিয়াল জানায়, মা-বাবা, শিক্ষক ও স্বজনদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, ও সহযোগিতায় আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমি মহান সৃষ্টি কর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি।

অদম্য ইচ্ছাশক্তিতেই মেডিকেলে চান্স পেয়েছে দরিদ্র পিয়াল

 খোরশিদুল আলম মজিব, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) 
১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দরিদ্রতার প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে ময়মনসিংহের ত্রিশালের  মেহেদী হাসান আকন্দ পিয়াল ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির চান্স পেয়েছে। পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের মেদারপাড় গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র পান দোকানী আবদুল কাদের আকন্দ কাজলের ছেলে পিয়াল ভর্তি পরীক্ষায় ৮৪ নম্বর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ৩০ তম স্থান অর্জন করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগের খবরে আনন্দের জোয়ার বইছে পিয়ালের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মাঝে।

সহায় সম্বল না থাকায় ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি টং দোকানে পান-সিগারেটের ব্যবসা করেন পিয়ালের বাবা কাজল। কাজল ও মিনারা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান পিয়াল। ৫ সদস্যের পরিবারের আয় রোজগার কম থাকায় পিয়ালকে ভর্তি করেন স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন শুকতারা বিদ্যানিকেতনে।

ওই স্কুল থেকে পিএসসি ও জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেলেও গোল্ডেন না আসায় মন ভেঙে যায় তার। পিয়াল ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় নজরুল ডিগ্রি কলেজে।

দারিদ্রতায় হতাশামুক্ত করে দুই শিক্ষক সাজু ও সুফল পিয়ালকে ভর্তি করান ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে। আনন্দ মোহন কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেন এইচএসসি।

শিক্ষক সাজু ও সুফল বলেন, আমরা শুধু ওর প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতা করেছি। দারিদ্র ও  হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পিয়াল একটি অনুকরনীয় ও আলোকিত দৃষ্টান্ত।
 
শুকতারা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন আকন্দ জানান, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণার পাশাপাশি তার দৃঢ় মনোবলে এতদূর এগিয়ে গেছে সে। আমরা তার সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা করছি।

মা মিনারা বেগম পিয়ালের এই সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা হলেও যুগান্তর এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ওর নানার খুব আশা ছিল সে ডাক্তার হবে। তার নানা বেঁচে থাকলে মেডিকেলে ভর্তির খবরে খুব খুশি হতেন।

পান দোকানদার বাবা আবদুল কাদের আকন্দ কাজল বলেন, সবার কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই সে যেন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।

মেহেদী হাসান আকন্দ পিয়াল জানায়, মা-বাবা, শিক্ষক ও স্বজনদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, ও সহযোগিতায় আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমি মহান সৃষ্টি কর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন