আসল  পিতা মৃত্যুশয্যায়, নকল পিতাকে দিয়ে দলিল
jugantor
আসল  পিতা মৃত্যুশয্যায়, নকল পিতাকে দিয়ে দলিল

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  

১৩ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৩০:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

পীরগঞ্জে মৃত্যুশয্যায় পিতাকে রেখে পাঁচ ছেলে অন্যকে পিতা সাজিয়ে এক একর জমির দলিল করে নিয়েছেন। এদিকে পিতার মৃত্যুর পর ওই ভাইদের কাছে দুই বোন জমির অংশ নিতে এলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার পীরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিস চত্বরে ওই দুই বোনের কান্না আর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। উপজেলার ঘাসিপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন সরকারের ৫ ছেলে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চতরা ইউপির ঘাষিপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন সরকারের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। তারা সবাই বিবাহিত। মোসলেম উদ্দিন বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে দীর্ঘদিন নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন।

এ সুযোগে তার পাঁচ ছেলে সিরাজুল ইসলাম, মোজাফফর, তোজাম্মেল, নুরুল ইসলাম ও ইসাহাক মিয়া গত ২০ জানুয়ারি তাদের আত্মীয় মোগলু মিয়াকে পিতা সাজিয়ে এক একর জমির দলিল সম্পাদন করে নেন। মোগলু মিয়া পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ধাওয়া মাঝিয়ান গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেনের ছেলে।

পীরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিলটি সম্পাদনকারী উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাটাদুয়ার গ্রামের আব্দুস সালাম মিয়া বর্তমানে অফিস করছেন না। সম্পাদিত দলিলটির নম্বর ৮৪৯। এ ব্যাপারে ৫ ভাইয়ের এক ভাই সেরাজুল ইসলাম বলেন, আব্বাই দলিল করে দিয়েছেন। অন্য কাউকে আব্বা সাজাইনি।

দলিলটি সম্পাদনের প্রায় দেড় মাস পর মার্চের মাঝামাঝি বৃদ্ধ মোসলেম উদ্দিন মারা গেলে ওই বৃদ্ধের দুই মেয়ে মোকছেদা বেগম ও কন্যাতুন্নেছা পৈতৃক জমির অংশ নিতে বাবার বাড়ি ঘাসিপুরে আসেন। এ সময় ৫ ভাই জানান, বাবা বেঁচে থাকতেই আমাদের জমি দলিল করে দিয়ে গেছেন। এ খবর শুনে বাড়িতেই কান্না আর আহাজারি করতে থাকেন দুই বোন।

ওই দুই বোন মঙ্গলবার পীরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিসে এসে দলিলটি সম্পাদনকারী দলিল লেখক আব্দুস সালাম মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু তাকে তারা পাননি বলে জানান মোকছেদা বেগম।

পীরগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার খালেদা সুলতানা বলেন, সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকরাই দাতা ও গ্রহীতাকে শনাক্ত করবেন। দলিলে দেয়া দাতার ছবি ও উপস্থিত দাতা ব্যক্তির চেহারা মিলিয়ে দলিল সম্পাদন করা হয়। তবে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দলিল লেখকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলিলটি বাতিল করার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

আসল  পিতা মৃত্যুশয্যায়, নকল পিতাকে দিয়ে দলিল

 পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 
১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পীরগঞ্জে মৃত্যুশয্যায় পিতাকে রেখে পাঁচ ছেলে অন্যকে পিতা সাজিয়ে এক একর জমির দলিল করে নিয়েছেন। এদিকে পিতার মৃত্যুর পর ওই ভাইদের কাছে দুই বোন জমির অংশ নিতে এলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার পীরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিস চত্বরে ওই দুই বোনের কান্না আর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। উপজেলার ঘাসিপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন সরকারের ৫ ছেলে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চতরা ইউপির ঘাষিপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন সরকারের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। তারা সবাই বিবাহিত। মোসলেম উদ্দিন বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে দীর্ঘদিন নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন।

এ সুযোগে তার পাঁচ ছেলে সিরাজুল ইসলাম, মোজাফফর, তোজাম্মেল, নুরুল ইসলাম ও ইসাহাক মিয়া গত ২০ জানুয়ারি তাদের আত্মীয় মোগলু মিয়াকে পিতা সাজিয়ে এক একর জমির দলিল সম্পাদন করে নেন। মোগলু মিয়া পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ধাওয়া মাঝিয়ান গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেনের ছেলে।

পীরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিলটি সম্পাদনকারী উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাটাদুয়ার গ্রামের আব্দুস সালাম মিয়া বর্তমানে অফিস করছেন না। সম্পাদিত দলিলটির নম্বর ৮৪৯। এ ব্যাপারে ৫ ভাইয়ের এক ভাই সেরাজুল ইসলাম বলেন, আব্বাই দলিল করে দিয়েছেন। অন্য কাউকে আব্বা সাজাইনি।

দলিলটি সম্পাদনের প্রায় দেড় মাস পর মার্চের মাঝামাঝি বৃদ্ধ মোসলেম উদ্দিন মারা গেলে ওই বৃদ্ধের দুই মেয়ে মোকছেদা বেগম ও কন্যাতুন্নেছা পৈতৃক জমির অংশ নিতে বাবার বাড়ি ঘাসিপুরে আসেন। এ সময় ৫ ভাই জানান, বাবা বেঁচে থাকতেই আমাদের জমি দলিল করে দিয়ে গেছেন। এ খবর শুনে বাড়িতেই কান্না আর আহাজারি করতে থাকেন দুই বোন।

ওই দুই বোন মঙ্গলবার পীরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিসে এসে দলিলটি সম্পাদনকারী দলিল লেখক আব্দুস সালাম মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু তাকে তারা পাননি বলে জানান মোকছেদা বেগম।

পীরগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার খালেদা সুলতানা বলেন, সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকরাই দাতা ও গ্রহীতাকে শনাক্ত করবেন। দলিলে দেয়া দাতার ছবি ও উপস্থিত দাতা ব্যক্তির চেহারা মিলিয়ে দলিল সম্পাদন করা হয়। তবে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দলিল লেখকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলিলটি বাতিল করার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন