গুদাম থেকে চাল পাচার, হাতেনাতে গ্রেফতার খাদ্য পরিদর্শক
jugantor
গুদাম থেকে চাল পাচার, হাতেনাতে গ্রেফতার খাদ্য পরিদর্শক

  ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  

১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৮:০১:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে দুই ট্রাক খাদ্যবান্ধব চাল পাচারের ঘটনায় খাদ্য পরিদর্শক (ওসিএলএসডি) বেলাল হোসেন ও গুদামের নৈশপ্রহরী আল আমীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ সময় চাল বোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। তবে পাচার হওয়া আরেকটি ট্রাকের ৩৬০ বস্তা চালের সন্ধান পায়নি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খাদ্য গুদাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় খাদ্য পরিদর্শক, নৈশপ্রহরী ও অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। গ্রেফতার দুইজনকে বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভূঞাপুর খাদ্য গুদামের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম ধাপে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা কেজি চাল পার্শ্ববর্তী ঘাটাইলের হামিদপুরের একটি রাইস মিলে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। পরে পুনরায় আবার বিকালে আরেকটি ট্রাকে চাল বোঝাই করে। এতে ট্রাকটিতে ৫০ কেজি ওজনের ২৮০ বস্তার ১৪ মেট্রিকটন চাল ছিল।

তবে ওই চাল উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, দিলীপ এবং অর্জুনা ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার সাখায়াত হোসেন লেবুর রেখে যাওয়া চাল ছিল বলে দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত দিয়েছে গুদামের খাদ্য পরিদর্শক। এছাড়াও খাদ্য গুদামের নৈশপ্রহরীও লিখিত জবাব দিয়েছে।

এদিকে প্রশাসন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সহায়তায় ও খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা সুবিধাভোগীদের জন্য আসা ভালোমানের চাল ট্রাকযোগে বিক্রি করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল ট্রাকযোগে পাচার হওয়ার সময় জব্দ করা হয়। এতে জড়িত থাকায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাঝেমধ্যেই সরকারি চাল এভাবে ট্রাক ও ছোট ছোট ট্রলিযোগে পাচার হয়। ডিলাররা তাদের বরাদ্দকৃত চাল সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন রাইস মিলে বিক্রি করে দেয়।

এদিকে আল আমিন ও গুদাম কর্মকর্তার বেলালের লিখিত বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এবং গুদাম কর্মকর্তা দুই রকমের লিখিত বক্তব্যে গড়মিল থাকার পরেও চলে বিষয়টি ধামাচাপা ও ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা জেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।

ভূঞাপুর খাদ্য গুদামের নৈশ প্রহরী আল আমিন তার লিখিত জবাবে জানায়, ওসিএলএসডি কর্মকর্তা স্যারের মৌখিক নির্দেশে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল প্রথমে একটি ট্রাকে ভর্তি হয়ে সেটি ঘাটাইলের হামিদপুরে চলে গেছে। পরে আবার আরেকটি ট্রাকে চাল ভর্তি করা হয়। পরে সেটি জব্দ করা হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহা বলেন, ট্রাকে পাচার হওয়া এবং জব্দ হওয়া ট্রাক ভর্তি নন বাসমতি চালের ওই বস্তাগুলো গত মার্চ মাসে খুলনা থেকে ভূঞাপুর গুদামে ঢুকেছে। আসা এসব চালগুলোর বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি বরাদ্দের জন্য। এরমধ্যেই উনি (খাদ্য পরিদর্শক) কীভাবে চাল পাচার করছেন সেটা জানা নেই। এ বিষয়ে দুইজনের নামসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভূঞাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে গুদাম কর্মকর্তা বেলাল হোসেন ও নৈশ্যপ্রহরী আল-আমিনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হওয়ায় মামলাটি দুদকে রেকর্ড হবে। এ বিষয়ে দুদক টাঙ্গাইল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুদকই এর তদন্ত করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, চাল পাচারের ঘটনায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাসহ দুইজনসহ ট্রাক ভর্তি চাল জব্দ করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পাচার হওয়া আরেক ট্রাকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত খাদ্য গুদাম থেকে যাওয়া ট্রাক ভর্তি চালের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গুদাম থেকে চাল পাচার, হাতেনাতে গ্রেফতার খাদ্য পরিদর্শক

 ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে দুই ট্রাক খাদ্যবান্ধব চাল পাচারের ঘটনায় খাদ্য পরিদর্শক (ওসিএলএসডি) বেলাল হোসেন ও গুদামের নৈশপ্রহরী আল আমীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

এ সময় চাল বোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। তবে পাচার হওয়া আরেকটি ট্রাকের ৩৬০ বস্তা চালের সন্ধান পায়নি কর্তৃপক্ষ। 

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খাদ্য গুদাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় খাদ্য পরিদর্শক, নৈশপ্রহরী ও অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। গ্রেফতার দুইজনকে বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভূঞাপুর খাদ্য গুদামের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম ধাপে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা কেজি চাল পার্শ্ববর্তী ঘাটাইলের হামিদপুরের একটি রাইস মিলে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। পরে পুনরায় আবার বিকালে আরেকটি ট্রাকে চাল বোঝাই করে। এতে ট্রাকটিতে ৫০ কেজি ওজনের ২৮০ বস্তার ১৪ মেট্রিকটন চাল ছিল।

তবে ওই চাল উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, দিলীপ এবং অর্জুনা ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার সাখায়াত হোসেন লেবুর রেখে যাওয়া চাল ছিল বলে দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত দিয়েছে গুদামের খাদ্য পরিদর্শক। এছাড়াও খাদ্য গুদামের নৈশপ্রহরীও লিখিত জবাব দিয়েছে। 

এদিকে প্রশাসন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সহায়তায় ও খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা সুবিধাভোগীদের জন্য আসা ভালোমানের চাল ট্রাকযোগে বিক্রি করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল ট্রাকযোগে পাচার হওয়ার সময় জব্দ করা হয়। এতে জড়িত থাকায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, মাঝেমধ্যেই সরকারি চাল এভাবে ট্রাক ও ছোট ছোট ট্রলিযোগে পাচার হয়। ডিলাররা তাদের বরাদ্দকৃত চাল সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন রাইস মিলে বিক্রি করে দেয়। 

এদিকে আল আমিন ও গুদাম কর্মকর্তার বেলালের লিখিত বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এবং গুদাম কর্মকর্তা দুই রকমের লিখিত বক্তব্যে গড়মিল থাকার পরেও চলে বিষয়টি ধামাচাপা ও ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা জেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।

ভূঞাপুর খাদ্য গুদামের নৈশ প্রহরী আল আমিন তার লিখিত জবাবে জানায়, ওসিএলএসডি কর্মকর্তা স্যারের মৌখিক নির্দেশে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল প্রথমে একটি ট্রাকে ভর্তি হয়ে সেটি ঘাটাইলের হামিদপুরে চলে গেছে। পরে আবার আরেকটি ট্রাকে চাল ভর্তি করা হয়। পরে সেটি জব্দ করা হয়। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহা বলেন, ট্রাকে পাচার হওয়া এবং জব্দ হওয়া ট্রাক ভর্তি নন বাসমতি চালের ওই বস্তাগুলো গত মার্চ মাসে খুলনা থেকে ভূঞাপুর গুদামে ঢুকেছে। আসা এসব চালগুলোর বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি বরাদ্দের জন্য। এরমধ্যেই উনি (খাদ্য পরিদর্শক) কীভাবে চাল পাচার করছেন সেটা জানা নেই। এ বিষয়ে দুইজনের নামসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

ভূঞাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে গুদাম কর্মকর্তা বেলাল হোসেন ও নৈশ্যপ্রহরী আল-আমিনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হওয়ায় মামলাটি দুদকে রেকর্ড হবে। এ বিষয়ে দুদক টাঙ্গাইল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুদকই এর তদন্ত করবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, চাল পাচারের ঘটনায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাসহ দুইজনসহ ট্রাক ভর্তি চাল জব্দ করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পাচার হওয়া আরেক ট্রাকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত খাদ্য গুদাম থেকে যাওয়া ট্রাক ভর্তি চালের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন