এসএমএস জটিলতায় করোনা টিকা গ্রহণে ভোগান্তি 
jugantor
এসএমএস জটিলতায় করোনা টিকা গ্রহণে ভোগান্তি 

  রাজশাহী ব্যুরো  

১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৮:২১:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রথম ডোজ দেওয়ার সময়ই দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানের তারিখ রেজিস্ট্রেশন ফরমে লিখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসএমএস না যাওয়ায় নির্ধারিত দিনে টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন রাজশাহীর শত শত মানুষ।

রাজশাহী মহানগরী এলাকার তিন টিকা কেন্দ্রে প্রতিদিন এ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাকর্মীরা বলছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের গাফলতির কারণেই টিকা গ্রহণেচ্ছুদের এমন বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন। এতে তারাও বাড়তি ঝামেলায় পড়ছেন। মানুষ তাদের ওপর ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ফলে টিকাদান কার্যক্রমের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোচ্ছে না।

রেজিস্ট্রেশন ফরমে উল্লেখ করা তারিখ দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে টিকা দিতে যান নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে হেল্প ডেস্কে গেলে তাকে জানানো হয় আজ তাকে টিকা দেওয়া যাবে না। তাকে এখনো এসএমএস পাঠানো হয়নি। ফর্মে তারিখ উল্লেখ থাকার কথা জানিয়ে তিনি টিকা কর্মীদের বলেন, ব্যস্ততার ফাঁকে কাজ ফেলে টিকা দিতে এসেছেন। এখন আরেক দিন সময় বের করা কঠিন। তিনি অনুরোধ করলেও সে কথা কানে নেননি টিকা কর্মীরা। পরে হাসপাতালের পরিচিত একজন কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি বিশেষ বুথে গিয়ে টিকা নিয়েছেন।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় টিকা লাইনে দাঁড়ান। আধাঘণ্টা পর হেল্প ডেস্কে গেলে তাদের বলা হয় এসএমএস না দেখলে টিকা দেওয়া যাবে না। রেজিস্ট্রেশন ফরমে ১৫ এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজের তারিখ দেওয়া থাকলেও শুধু এসএমএস না পাওয়ায় তারা টিকা দিতে না পেরে ফিরে যান।

তাদের মতো শত শত মানুষ টিকা দিতে কেন্দ্রে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে জানান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেসদৌস আতাতুর্ক।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে তিনটি কেন্দ্রে টিকাদান চলছে। রাজশাহী পুলিশ লাইন হাসপাতাল, সেনা হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ ও সরবরাহ আছে। কিন্তু এসএমএস জটিলতায় অনেকেই টিকা নিতে পারছেন না। বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। রাজশাহী মহানগরী এলাকায় দ্বিতীয় ও বাদপড়া প্রথম ডোজের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তদের এসএমএস পাঠানোর দায়িত্ব রাজশাহী সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য বিভাগের। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে এসএমএস না পেয়ে টিকা দিতে কেন্দ্রে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কারণ এসএমএস না পেলে কাউকে টিকা দেওয়া যাবে না- বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর তিনটি কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার করে মানুষ টিকা দিচ্ছেন। যদিও রাজশাহীতে দৈনিক টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ হাজারের বেশি। গত ৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে এসএমএস জটিলতায় প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। এসএমএস জটিলতা দ্বিতীয় ডোজ শুরুর পর থেকেই চলছে বলে রাজশাহীর তিন কেন্দ্রের টিকা কর্মীরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি প্রতিবারই ফোন কেটে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসএমএস জটিলতায় করোনা টিকা গ্রহণে ভোগান্তি 

 রাজশাহী ব্যুরো 
১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রথম ডোজ দেওয়ার সময়ই দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানের তারিখ রেজিস্ট্রেশন ফরমে লিখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসএমএস না যাওয়ায় নির্ধারিত দিনে টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন রাজশাহীর শত শত মানুষ। 

রাজশাহী মহানগরী এলাকার তিন টিকা কেন্দ্রে প্রতিদিন এ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাকর্মীরা বলছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের গাফলতির কারণেই টিকা গ্রহণেচ্ছুদের এমন বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন। এতে তারাও বাড়তি ঝামেলায় পড়ছেন। মানুষ তাদের ওপর ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ফলে টিকাদান কার্যক্রমের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোচ্ছে না। 

রেজিস্ট্রেশন ফরমে উল্লেখ করা তারিখ দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে টিকা দিতে যান নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে হেল্প ডেস্কে গেলে তাকে জানানো হয় আজ তাকে টিকা দেওয়া যাবে না। তাকে এখনো এসএমএস পাঠানো হয়নি। ফর্মে তারিখ উল্লেখ থাকার কথা জানিয়ে তিনি টিকা কর্মীদের বলেন, ব্যস্ততার ফাঁকে কাজ ফেলে টিকা দিতে এসেছেন। এখন আরেক দিন সময় বের করা কঠিন। তিনি অনুরোধ করলেও সে কথা কানে নেননি টিকা কর্মীরা। পরে হাসপাতালের পরিচিত একজন কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি বিশেষ বুথে গিয়ে টিকা নিয়েছেন। 

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় টিকা লাইনে দাঁড়ান। আধাঘণ্টা পর হেল্প ডেস্কে গেলে তাদের বলা হয় এসএমএস না দেখলে টিকা দেওয়া যাবে না। রেজিস্ট্রেশন ফরমে ১৫ এপ্রিল দ্বিতীয় ডোজের তারিখ দেওয়া থাকলেও শুধু এসএমএস না পাওয়ায় তারা টিকা দিতে না পেরে ফিরে যান। 

তাদের মতো শত শত মানুষ টিকা দিতে কেন্দ্রে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে জানান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেসদৌস আতাতুর্ক।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে তিনটি কেন্দ্রে টিকাদান চলছে। রাজশাহী পুলিশ লাইন হাসপাতাল, সেনা হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ ও সরবরাহ আছে। কিন্তু এসএমএস জটিলতায় অনেকেই টিকা নিতে পারছেন না। বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। রাজশাহী মহানগরী এলাকায় দ্বিতীয় ও বাদপড়া প্রথম ডোজের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তদের এসএমএস পাঠানোর দায়িত্ব রাজশাহী সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য বিভাগের। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে এসএমএস না পেয়ে টিকা দিতে কেন্দ্রে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কারণ এসএমএস না পেলে কাউকে টিকা দেওয়া যাবে না- বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর তিনটি কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার করে মানুষ টিকা দিচ্ছেন। যদিও রাজশাহীতে দৈনিক টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ হাজারের বেশি। গত ৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে এসএমএস জটিলতায় প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। এসএমএস জটিলতা দ্বিতীয় ডোজ শুরুর পর থেকেই চলছে বলে রাজশাহীর তিন কেন্দ্রের টিকা কর্মীরা জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি প্রতিবারই ফোন কেটে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন