একদিকে ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা (ভিডিও)
jugantor
লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত লাবু মিয়া
একদিকে ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা (ভিডিও)

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ  

১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৯:০৯:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

লাবু মিয়া, বয়স বেশি হলে ৩৫। হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রী-সন্তান এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বসবাস। বয়স ৩৫ হলেও শরীর হাড্ডিসার, পেট খানিকটা ফোলা। নিজে নিজে চলাফেরার শক্তিটুকুও নেই। লাবুর স্ত্রী আমেনা বেগম জানালেন, গত এক বছর ধরে জটিল লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত তার স্বামী।

আমেনা বেগম বলেন, চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল অর্থ-সম্পদ সবই শেষ, এর মধ্যে করোনার হানা; ঘরে তো খাবারই নেই চিকিৎসা চলবে কীভাবে? এরপরই নিজেদের সোনালি দিনের স্মৃতি রোমন্থন আর বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। এদিকে ফ্যালফ্যাল করে অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলেন লাবু মিয়া। অশ্রুসিক্ত তার চোখেও মৃত্যু ভয়, প্রতি মুহূর্তেই পাঞ্জা লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে।

জানা গেছে, আট বছর আগে আমেনা বেগমের সঙ্গে ঘর বাঁধেন লাবু মিয়া। টকবগে যুবক লাবু মিয়ার ছিল সোনার সংসার, নিজে ক্ষেত-খামারে চাষাবাদ করে রোজগার করতেন। স্ত্রী-সন্তান বাবা-মাকে নিয়ে ছিল লাবু মিয়ার সুখের সংসার। সন্তান বড় হতে থাকে আর লাবু মিয়ার স্বপ্ন বাড়তে থাকে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন তার ছেলে একদিন বড় হবে, লেখপড়া করবে, চাকরি-বাকরি করবে। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস ছেলের স্কুলে ভর্তির আগেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন লাবু মিয়া। থেমে যায় রোজগারের পথ, ফিকে হতে শুরু করে স্বপ্ন।

আমেনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, যখন বিয়ে হয় তখন বাবুর বাবা বেশ শক্ত সামর্থ্য ছিলেন। আমাদের ছিল সুখের সংসার। কিন্তু এক বছর আগে পেটের ব্যথায় দুর্বল হতে শুরু করল সে। সেই যে বিছানায় পড়ল আর উঠতে পারল না। রংপুর-দিনাজপুরে নিয়ে কত চিকিৎসা করালাম, কত টেস্ট কিন্তু সুস্থ হচ্ছে না। এর মধ্যে দেশে এলো করোনা, কাজ-কাম বন্ধ। যা কিছু সম্বল ছিল সবই শেষ। এখন এমন অবস্থা ঘরে নাই চাল। ছোট্ট বাচ্চাটার আবদার ঠিকমতো মেটাতে পারি না। বাবার বাড়ির অবস্থাও ভালো না, এ অবস্থায় আমার স্বামীর কিছু হলে কীভাবে বাঁচব? এরপরই কাঁদতে শুরু করেন। আবার বলেন, আমার স্বামীর ইনকাম দিয়ে সংসার চলত, এখন অসুস্থ শরীরে কাজ করছেন শ্বশুর। খুব কষ্টে চলছে সংসার। একদিকে পেটের জ্বালা অন্যদিক স্বামীর যন্ত্রণা, সহ্য করতে পারি না।

আমেনা বেগম বলেন, ডাক্তার বলেছেন তিনি (লাবু ইসলাম) লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করালে ফের সুস্থ হবেন তিনি। কিন্তু এ অভাবের সময়ে ১২-১৪ লাখ টাকা কোথায় পাব? টাকার অভাবে হয়তো তাকে চলে যেতে হবে। তখন এই বাচ্চা-সংসারের কী হবে? কাঁদতে থাকেন আমেন বেগম...।

লাবু মিয়ার কঙ্কালসার শরীর কিন্তু পেটটা ফুলে আছে। নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। শুয়ে বসেই সময় কাটে তার। অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। অনেক কষ্টে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, যে কষ্ট তাতে মনে হয় মরে যাই। কিন্তু নিজের ছেলে-বউয়ের জন্য আরও বাঁচতে ইচ্ছে করে। আমি ছাড়া তাদের তো কেউ নাই। শুনেছি অনেকেই অনেককে সাহায্য করেন, আমিও নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চাই। এখন তো রমজান মাস, আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনাদের দানের উত্তম প্রতিদান দিবেন। আমি বাঁচতে চাই, আমাকে বাঁচান।

অসুস্থ লাবু ইসলামকে সাহায্য করতে যোগাযোগ করুন আমাদের প্রতিবেদক Zakaria Ibn Yusuf (https://www.facebook.com/mdzakariaibnyusuf) এর সঙ্গে। হয়তো আপনার একটু সাহায্যেই ঘুরে দাঁড়াবে লাবু ইসলামের পরিবার, ফিকে হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোও সত্যি হবে।


লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত লাবু মিয়া

একদিকে ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা (ভিডিও)

 যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ 
১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৭:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

লাবু মিয়া, বয়স বেশি হলে ৩৫। হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রী-সন্তান এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বসবাস। বয়স ৩৫ হলেও শরীর হাড্ডিসার, পেট খানিকটা ফোলা। নিজে নিজে চলাফেরার শক্তিটুকুও নেই। লাবুর স্ত্রী আমেনা বেগম জানালেন, গত এক বছর ধরে জটিল লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত তার স্বামী।

আমেনা বেগম বলেন, চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল অর্থ-সম্পদ সবই শেষ, এর মধ্যে করোনার হানা; ঘরে তো খাবারই নেই চিকিৎসা চলবে কীভাবে? এরপরই নিজেদের সোনালি দিনের স্মৃতি রোমন্থন আর বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। এদিকে ফ্যালফ্যাল করে অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলেন লাবু মিয়া। অশ্রুসিক্ত তার চোখেও মৃত্যু ভয়, প্রতি মুহূর্তেই পাঞ্জা লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে।

জানা গেছে, আট বছর আগে আমেনা বেগমের সঙ্গে ঘর বাঁধেন লাবু মিয়া। টকবগে যুবক লাবু মিয়ার ছিল সোনার সংসার, নিজে ক্ষেত-খামারে চাষাবাদ করে রোজগার করতেন। স্ত্রী-সন্তান বাবা-মাকে নিয়ে ছিল লাবু মিয়ার সুখের সংসার। সন্তান বড় হতে থাকে আর লাবু মিয়ার স্বপ্ন বাড়তে থাকে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন তার ছেলে একদিন বড় হবে, লেখপড়া করবে, চাকরি-বাকরি করবে। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস ছেলের স্কুলে ভর্তির আগেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন লাবু মিয়া। থেমে যায় রোজগারের পথ, ফিকে হতে শুরু করে স্বপ্ন।

আমেনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, যখন বিয়ে হয় তখন বাবুর বাবা বেশ শক্ত সামর্থ্য ছিলেন। আমাদের ছিল সুখের সংসার। কিন্তু এক বছর আগে পেটের ব্যথায় দুর্বল হতে শুরু করল সে। সেই যে বিছানায় পড়ল আর উঠতে পারল না। রংপুর-দিনাজপুরে নিয়ে কত চিকিৎসা করালাম, কত টেস্ট কিন্তু সুস্থ হচ্ছে না। এর মধ্যে দেশে এলো করোনা, কাজ-কাম বন্ধ। যা কিছু সম্বল ছিল সবই শেষ। এখন এমন অবস্থা ঘরে নাই চাল। ছোট্ট বাচ্চাটার আবদার ঠিকমতো মেটাতে পারি না। বাবার বাড়ির অবস্থাও ভালো না, এ অবস্থায় আমার স্বামীর কিছু হলে কীভাবে বাঁচব? এরপরই কাঁদতে শুরু করেন। আবার বলেন, আমার স্বামীর ইনকাম দিয়ে সংসার চলত, এখন অসুস্থ শরীরে কাজ করছেন শ্বশুর। খুব কষ্টে চলছে সংসার। একদিকে পেটের জ্বালা অন্যদিক স্বামীর যন্ত্রণা, সহ্য করতে পারি না।

আমেনা বেগম বলেন, ডাক্তার বলেছেন তিনি (লাবু ইসলাম) লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করালে ফের সুস্থ হবেন তিনি। কিন্তু এ অভাবের সময়ে ১২-১৪ লাখ টাকা কোথায় পাব? টাকার অভাবে হয়তো তাকে চলে যেতে হবে। তখন এই বাচ্চা-সংসারের কী হবে? কাঁদতে থাকেন আমেন বেগম...।

লাবু মিয়ার কঙ্কালসার শরীর কিন্তু পেটটা ফুলে আছে। নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। শুয়ে বসেই সময় কাটে তার। অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। অনেক কষ্টে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, যে কষ্ট তাতে মনে হয় মরে যাই। কিন্তু নিজের ছেলে-বউয়ের জন্য আরও বাঁচতে ইচ্ছে করে। আমি ছাড়া তাদের তো কেউ নাই। শুনেছি অনেকেই অনেককে সাহায্য করেন, আমিও নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চাই। এখন তো রমজান মাস, আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনাদের দানের উত্তম প্রতিদান দিবেন। আমি বাঁচতে চাই, আমাকে বাঁচান।

অসুস্থ লাবু ইসলামকে সাহায্য করতে যোগাযোগ করুন আমাদের প্রতিবেদক Zakaria Ibn Yusuf (https://www.facebook.com/mdzakariaibnyusuf) এর সঙ্গে। হয়তো আপনার একটু সাহায্যেই ঘুরে দাঁড়াবে লাবু ইসলামের পরিবার, ফিকে হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোও সত্যি হবে।


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন