বাকপ্রতিবন্ধীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অতঃপর...
jugantor
বাকপ্রতিবন্ধীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অতঃপর...

  যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ  

১৫ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৭:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার পর ধর্ষণ চেষ্টা করলে ওই ছিনতাইকারীকে চিনে ফেলায় গলাটিপে হত্যাচেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বীর হাটাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পর মামলা নিতে অসহযোগিতা করছে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বীর হাটাবোর এলাকার বাসিন্দা জানান, তার মেয়ে (৩০) গত ১১ এপ্রিল সকালে হাটাবো থেকে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আমদিয়া কাজিরটেক এলাকার পৌঁছলে ওই অজ্ঞাত অটোচালকের সহযোগিতায় ওতপেতে থাকা বীর হাটাবো নাগদাপাড়ার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোগলসহ অজ্ঞাত আরও তিনজন হামলা চালায়।

এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মুখ বেঁধে রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরে তার গলায় থাকা ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ১ ভরি ২ রতি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে এলোপাতাড়ি মারধর করে ছিনতাইকারীরা।

এ সময় মেয়েটি জোরে শব্দ করলে বীর হাটাবো গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে হালিম ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান। ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। তবে হালিম মিয়া শুধুমাত্র ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোগলকে চিনতে পারেন। বাকিদের মুখে মাস্ক থাকায় চিনতে পারেননি।

পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবারকে জানান। পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবন্ধী নারীর ভাই মোশারফ মিয়া অভিযোগ করেন, আমার বোনকে স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা করা হলেও ভোলাবো তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সানোয়ার হোসেন রহস্যজনক কারণে এ ঘটনার অভিযোগপত্রে ধর্ষণ চেষ্টার কথা লিখতে দেননি। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পূর্বশত্রুতা লিখা হয়েছে। আমার পিতা মূর্খ থাকায় তা বুঝতে পারেননি। ফলে ওই দারোগা আমার বোনের বিচার পেতে সহযোগিতার বদলে বাদীকে অনুৎসাহিত করছেন।

তিনি বলেন, ওই এসআই আমার মোবাইল ফোনে বলেছেন- মেয়েটি বাকপ্রতিবন্ধী। তাই আদালতে সাক্ষী দিতে পারবে না, মামলা করে লাভ হবে না। অযথা হয়রানি হবেন। তাছাড়া অভিযুক্তদের ধরিয়ে দিতে পারলে মামলা নেয়া হবে বলে শর্ত জুড়ে দেন।

তবে এসআই সানোয়ার হোসেন বলেন, বাদীপক্ষকে বলেছিলাম- অভিযুক্তদের অবস্থান জানাতে বা ধরিয়ে দিতে। বাদীপক্ষ গরিব ও অসহায়। তারা থানা ও আদালতে দৌড়াতে পারবে না ভেবে এ কথা বলেছি। তবে অসহযোগিতা করব না। অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করছি।

এছাড়া অভিযুক্ত মোগল মিয়া পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত মোগল ও তার অধীনে একটি চক্র পূর্বাচলে ঘুরতে আসা লোকজনের কাছ থেকে সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এমন ঘটনা আরও রয়েছে। এছাড়াও তারা এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এইচএম জসিম উদ্দিন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের এমন বক্তব্য হতে পারে না। ঘটনা তদন্ত করে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর প্রতিবন্ধী মেয়েটির অভিযোগ পেয়েছি। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বাকপ্রতিবন্ধীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অতঃপর...

 যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ 
১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার পর ধর্ষণ চেষ্টা করলে ওই ছিনতাইকারীকে চিনে ফেলায় গলাটিপে হত্যাচেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বীর হাটাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পর মামলা নিতে অসহযোগিতা করছে তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বীর হাটাবোর এলাকার বাসিন্দা জানান, তার মেয়ে (৩০) গত ১১ এপ্রিল সকালে হাটাবো থেকে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আমদিয়া কাজিরটেক এলাকার পৌঁছলে ওই অজ্ঞাত অটোচালকের সহযোগিতায় ওতপেতে থাকা বীর হাটাবো নাগদাপাড়ার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোগলসহ অজ্ঞাত আরও তিনজন হামলা চালায়।

এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মুখ বেঁধে রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরে তার গলায় থাকা ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ১ ভরি ২ রতি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে এলোপাতাড়ি মারধর করে ছিনতাইকারীরা।

এ সময় মেয়েটি জোরে শব্দ করলে বীর হাটাবো গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে হালিম ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান। ততক্ষণে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। তবে হালিম মিয়া শুধুমাত্র ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মোগলকে চিনতে পারেন। বাকিদের মুখে মাস্ক থাকায় চিনতে পারেননি।

পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবারকে জানান। পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবন্ধী নারীর ভাই মোশারফ মিয়া অভিযোগ করেন, আমার বোনকে স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা করা হলেও ভোলাবো তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সানোয়ার হোসেন রহস্যজনক কারণে এ ঘটনার অভিযোগপত্রে ধর্ষণ চেষ্টার কথা লিখতে দেননি। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পূর্বশত্রুতা লিখা হয়েছে। আমার পিতা মূর্খ থাকায় তা বুঝতে পারেননি। ফলে ওই দারোগা আমার বোনের বিচার পেতে সহযোগিতার বদলে বাদীকে অনুৎসাহিত করছেন।

তিনি বলেন, ওই এসআই আমার মোবাইল ফোনে বলেছেন- মেয়েটি বাকপ্রতিবন্ধী। তাই আদালতে সাক্ষী দিতে পারবে না, মামলা করে লাভ হবে না। অযথা হয়রানি হবেন। তাছাড়া অভিযুক্তদের ধরিয়ে দিতে পারলে মামলা নেয়া হবে বলে শর্ত জুড়ে দেন।

তবে এসআই সানোয়ার হোসেন বলেন, বাদীপক্ষকে বলেছিলাম- অভিযুক্তদের অবস্থান জানাতে বা ধরিয়ে দিতে। বাদীপক্ষ গরিব ও অসহায়। তারা থানা ও আদালতে দৌড়াতে পারবে না ভেবে এ কথা বলেছি। তবে অসহযোগিতা করব না। অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করছি।

এছাড়া অভিযুক্ত মোগল মিয়া পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত মোগল ও তার অধীনে একটি চক্র পূর্বাচলে ঘুরতে আসা লোকজনের কাছ থেকে সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এমন ঘটনা আরও রয়েছে। এছাড়াও তারা এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এইচএম জসিম উদ্দিন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের এমন বক্তব্য হতে পারে না। ঘটনা তদন্ত করে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর প্রতিবন্ধী মেয়েটির অভিযোগ পেয়েছি। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন