মাঠে প্রশাসন, রাস্তায় জনগণ
jugantor
মাঠে প্রশাসন, রাস্তায় জনগণ

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  

১৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:২৮:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

রূপগঞ্জ বাজারে ক্রেতাদের ভিড়

সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চললেও নারায়ণগঞ্জে লকডাউন মানছেন না অসচেতন মানুষ। সর্বাত্মক লকডাউন পালনে পুরো জেলায় ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শত শত সদস্য মাঠে থাকলেও নানা অজুহাতে বের হয়ে আসছেন লোকজন।

শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকায় পুলিশের প্রহরা বেশি থাকায় লোকজন কম থাকলেও নগরীর আশপাশে ও বাজারগুলোতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচল দেখে বোঝার উপায় নেই যে লকডাউন চলছে।

এদিকে করোনার হটস্পট খ্যাত নারায়ণগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। চলতি মাসে গত ১৫ দিনেই সরকারি হিসাবে পুরো জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৬৫ জন।

অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১২৪ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অপরদিকে গত ১৫ দিনে সরকারি হিসাবে জেলায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪ জন। তবে নারায়ণগঞ্জের অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যাচ্ছেন বলে সরকারি হিসাবের বাইরে এ মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩৫ জনের মতো বলে জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, লকডাউনের কারণে শহরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ ছিল। তবে লকডাউনের আওতামুক্ত খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান ও বাজার খোলা ছিল। শহরে যানবাহন ও মানুষের চলাচল কম থাকলেও শহরের প্রধান বাজার দিগুবাবুর বাজারের দৃশ্য ছিল একেবারে ভিন্ন। সেখানে রীতিমতো উপচেপড়া ভিড় ছিল। বাজারে অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। সামাজিক দূরেত্বের কোনো বালাই লক্ষ্য করা যায়নি।

সকাল থেকে চাষাঢ়ায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে অসহায় হয়ে পড়ে খেটেখাওয়া অসহায় মানুষগুলো। আয় রোজগার বন্ধ থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের কড়াকড়িতে রিকশাচালকদের মতো দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো দিশেহারা ছিলেন খাবার জোটানোর জন্য।

তবে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরে মানুষের সমাগম কম থাকলেও বিকাল থেকে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। বিশেষ করে চাষাঢ়ায় ফলের দোকানগুলো এবং ইফতারির বাজারে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এ সময় সামজিক দূরত্ব অমান্য করেছেন সবাই।

অপরদিকে তারাবির নামাজের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও নগরীর প্রায় সব মসজিদেই ছিল মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়। প্রশাসনের নজর এড়াতে মসজিদগুলোর প্রধান ফটক বন্ধ করে এবং লাইট নিভিয়ে চলে তারাবির নামাজ।

যদিও লকডাউন কার্যকর করতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় লকডাউন মেনে ঘরে থাকতে মানুষকে সচেতন করার কাজ করেন তারা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বাইরে অভিযান চালাচ্ছেন। অপ্রয়োজনে বের হওয়া শতাধিক প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে, জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু করোনার ভয়াবহতাই যদি অসচেতন মানুষ না বুঝে তাহলে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আমাদের।

নারায়ণগঞ্জ করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পারসন ডা. জাহিদ জানান, সরকারের বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে পালন না করায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আগে থেকেই বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করছিলাম। মানুষকে যতভাবে সচেতন করা যায় আমরা কোনো ত্রুটি রাখছি না। কিন্তু এরপরও শত শত মানুষ বিনাপ্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন, সরকারের লকডাউনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যন্ত প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন।

এদিকে করোনার ভয়াবহতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচিত কাউন্সিলর মাকুসুদল আলম খন্দকার খোরশেদ যুগান্তরকে জানান, মহামারি করোনায় যারা মারা যাচ্ছেন তারা কী পরিমাণ কষ্ট ভোগ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন তা দেখে আমরা নিজেরাই শিউরে উঠলেও হাজারো মানুষ এখনও করোনাকে সামান্য রোগ হিসেবেই নিচ্ছেন। এখনও যদি সচেতন না হোন সবাই- তাহলে আর উপায় থাকবে না।

মাঠে প্রশাসন, রাস্তায় জনগণ

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ 
১৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রূপগঞ্জ বাজারে ক্রেতাদের ভিড়
রূপগঞ্জ বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চললেও নারায়ণগঞ্জে লকডাউন মানছেন না অসচেতন মানুষ। সর্বাত্মক লকডাউন পালনে পুরো জেলায় ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শত শত সদস্য মাঠে থাকলেও নানা অজুহাতে বের হয়ে আসছেন লোকজন।     

শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকায় পুলিশের প্রহরা বেশি থাকায় লোকজন কম থাকলেও নগরীর আশপাশে ও বাজারগুলোতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচল দেখে বোঝার উপায় নেই যে লকডাউন চলছে।

এদিকে করোনার হটস্পট খ্যাত নারায়ণগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। চলতি মাসে গত ১৫ দিনেই সরকারি হিসাবে পুরো জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৬৫ জন। 

অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১২৪ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অপরদিকে গত ১৫ দিনে সরকারি হিসাবে জেলায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪ জন। তবে নারায়ণগঞ্জের অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যাচ্ছেন বলে সরকারি হিসাবের বাইরে এ মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩৫ জনের মতো বলে জানা গেছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, লকডাউনের কারণে শহরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ ছিল। তবে লকডাউনের আওতামুক্ত খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান ও বাজার খোলা ছিল। শহরে যানবাহন ও মানুষের চলাচল কম থাকলেও শহরের প্রধান বাজার দিগুবাবুর বাজারের দৃশ্য ছিল একেবারে ভিন্ন। সেখানে রীতিমতো উপচেপড়া ভিড় ছিল। বাজারে অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। সামাজিক দূরেত্বের কোনো বালাই লক্ষ্য করা যায়নি। 

সকাল থেকে চাষাঢ়ায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে অসহায় হয়ে পড়ে খেটেখাওয়া অসহায় মানুষগুলো। আয় রোজগার বন্ধ থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের কড়াকড়িতে রিকশাচালকদের মতো দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো দিশেহারা ছিলেন খাবার জোটানোর জন্য। 

তবে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরে মানুষের সমাগম কম থাকলেও বিকাল থেকে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। বিশেষ করে চাষাঢ়ায় ফলের দোকানগুলো এবং ইফতারির বাজারে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এ সময় সামজিক দূরত্ব অমান্য করেছেন সবাই। 

অপরদিকে তারাবির নামাজের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও নগরীর প্রায় সব মসজিদেই ছিল মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়। প্রশাসনের নজর এড়াতে মসজিদগুলোর প্রধান ফটক বন্ধ করে এবং লাইট নিভিয়ে চলে তারাবির নামাজ। 

যদিও লকডাউন কার্যকর করতে কঠোর অবস্থানে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় লকডাউন মেনে ঘরে থাকতে মানুষকে সচেতন করার কাজ করেন তারা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ২০ জন ম্যাজিস্ট্রেট সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বাইরে অভিযান চালাচ্ছেন। অপ্রয়োজনে বের হওয়া শতাধিক প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে, জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু করোনার ভয়াবহতাই যদি অসচেতন মানুষ না বুঝে তাহলে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আমাদের।  

নারায়ণগঞ্জ করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পারসন ডা. জাহিদ জানান, সরকারের বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে পালন না করায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আগে থেকেই বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করছিলাম। মানুষকে যতভাবে সচেতন করা যায় আমরা কোনো ত্রুটি রাখছি না। কিন্তু এরপরও শত শত মানুষ বিনাপ্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছেন, সরকারের লকডাউনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যন্ত প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন। 

এদিকে করোনার ভয়াবহতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচিত কাউন্সিলর মাকুসুদল আলম খন্দকার খোরশেদ যুগান্তরকে জানান, মহামারি করোনায় যারা মারা যাচ্ছেন তারা কী পরিমাণ কষ্ট ভোগ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন তা দেখে আমরা নিজেরাই শিউরে উঠলেও হাজারো মানুষ এখনও করোনাকে সামান্য রোগ হিসেবেই নিচ্ছেন। এখনও যদি সচেতন না হোন সবাই- তাহলে আর উপায় থাকবে না। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন