শতাধিক দুস্থ নারীর ভিজিডির কার্ড নিয়ে অন্যদের দিচ্ছেন চেয়ারম্যান
jugantor
শতাধিক দুস্থ নারীর ভিজিডির কার্ড নিয়ে অন্যদের দিচ্ছেন চেয়ারম্যান

  শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:০০:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নে ভিজিডির জন্য অনুমোদিত শতাধিক দুস্থ নারীর কার্ড জব্দ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

জব্দকৃত কার্ডগুলোর ওপরে লেখা নাম, ঠিকানা, ছবি ও আইডি নম্বর কলম দিয়ে কেটে সেখানে তিনি তার পছন্দের নারীদের নাম বসিয়ে দিচ্ছেন বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। রোববার সংশোধিত এসব কার্ডধারীদের চাল দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

তবে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এসব কার্ডধারীদের নাম ইউনিয়ন পরিষদ হতে অনুমোদিত প্রাথমিক তালিকায় ছিল না। তারা কীভাবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো সেটা যাচাইয়ের জন্য আমি কার্ডগুলো জব্দ করি। তবে প্রকৃত সব কার্ডধারীকে তাদের কার্ড ফিরিয়ে দেয়া হবে।

তিনি ইউপি সচিব পরিমল কুমার ও উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা সালাম সিদ্দিকীকে নাম পরিবর্তনের জন্য দায়ী করেন। কার্ডে নাম পাল্টে দেয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

গোয়ালন্দ উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. সালাম সিদ্দিকী বলেন, ছোটভাকলা ইউনিয়নে ভিজিডির জন্য মোট ৭৮২ জন অনলাইনে আবেদন করেন। সেখান থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, সচিব ও এক নারী সদস্য সিল-স্বাক্ষরসহ ৩৭২ জনকে চূড়ান্ত করে দেন। উপজেলা কমিটি সেই তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করে ৩৭২টি কার্ড সরবরাহ করে।

তিনি বলেন, উপজেলা কমিটির চূড়ান্ত তালিকাতেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও সচিব পরিমল স্বাক্ষর করেছেন। এ সংক্রান্ত সব নথিপত্র তার দপ্তরে জমা রয়েছে। চেয়ারম্যান যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। চেয়ারম্যান দুস্থ নারীদের ভিজিডির কার্ড নিয়ে ভোটের রাজনীতি শুরু করেছেন। নিজের অপরাধ আড়াল করতে অন্যকে মিথ্যা দোষারোপ করছেন।

এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শনকালে রূপবান বেগম বেগম নামের এক নারী বলেন, চেয়ারম্যান আমার কার্ড জব্দ করে নিয়ে সেখানে আকলিমা নামে একজনের নাম বসিয়ে দিয়েছেন। আমি চাল আনতে পরিষদে গিয়ে ফিরে এসেছি।

হাসিনা বেগম নামের অপর এক নারী বলেন, আমার কার্ড বাড়িতে চৌকিদার গিয়ে নিয়ে আসে। চাল দেয়ার খবর শুনে পরিষদে এসেছি। আমার কার্ড ও চাল কোনোটাই দেয়নি। উল্টো গালমন্দ করেছে।

এভাবে তাদের মতো আরও অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে তারা অনলাইনে আবেদন করার পর ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। সে অনুযায়ী তাদের নামে কার্ড হয়। চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে কার্ডগুলো আমাদের হাতে তুলে দেন। আবার প্রায় ১ মাস পর চৌকিদারের মাধ্যমে আমাদের কার্ডগুলো বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এখন শুনছি তিনি নাকি আমাদের কার্ডগুলো অন্যদের দিয়ে দিচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ। তাহলে আমাদের এখন কী হবে। কার্ডগুলো পেতে তাদের কোথাও কোনো টাকা-পয়সা দিতে হয়নি বলে তারা জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে উপকারভোগী ৩৭২ জনের নাম চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। আমি তারসহ কমিটির সবার সিল-স্বাক্ষর দেখে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছি। অনুমোদিত কার্ড জব্দ করা বা সেগুলো প্রকৃত দুস্থ নারীর পরিবর্তে অন্যকে দেয়ার আইনত কোনো সুযোগ নেই এবং তা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ১৫ জন নারী তার কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শতাধিক দুস্থ নারীর ভিজিডির কার্ড নিয়ে অন্যদের দিচ্ছেন চেয়ারম্যান

 শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১০:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নে ভিজিডির জন্য অনুমোদিত শতাধিক দুস্থ নারীর কার্ড জব্দ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। 

জব্দকৃত কার্ডগুলোর ওপরে লেখা নাম, ঠিকানা, ছবি ও আইডি নম্বর কলম দিয়ে কেটে সেখানে তিনি তার পছন্দের নারীদের নাম বসিয়ে দিচ্ছেন বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। রোববার সংশোধিত এসব কার্ডধারীদের চাল দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

তবে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এসব কার্ডধারীদের নাম ইউনিয়ন পরিষদ হতে অনুমোদিত প্রাথমিক তালিকায় ছিল না। তারা কীভাবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো সেটা যাচাইয়ের জন্য আমি কার্ডগুলো জব্দ করি। তবে প্রকৃত সব কার্ডধারীকে তাদের কার্ড ফিরিয়ে দেয়া হবে।

তিনি ইউপি সচিব পরিমল কুমার ও উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা সালাম সিদ্দিকীকে নাম পরিবর্তনের জন্য দায়ী করেন। কার্ডে নাম পাল্টে দেয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

গোয়ালন্দ উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. সালাম সিদ্দিকী বলেন, ছোটভাকলা ইউনিয়নে ভিজিডির জন্য মোট ৭৮২ জন অনলাইনে আবেদন করেন। সেখান থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, সচিব ও এক নারী সদস্য সিল-স্বাক্ষরসহ ৩৭২ জনকে চূড়ান্ত করে দেন। উপজেলা কমিটি সেই তালিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করে ৩৭২টি কার্ড সরবরাহ করে।

তিনি বলেন, উপজেলা কমিটির চূড়ান্ত তালিকাতেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও সচিব পরিমল স্বাক্ষর করেছেন। এ সংক্রান্ত সব নথিপত্র তার দপ্তরে জমা রয়েছে। চেয়ারম্যান যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। চেয়ারম্যান দুস্থ নারীদের ভিজিডির কার্ড নিয়ে ভোটের রাজনীতি শুরু করেছেন। নিজের অপরাধ আড়াল করতে অন্যকে মিথ্যা দোষারোপ করছেন।

এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শনকালে রূপবান বেগম বেগম নামের এক নারী বলেন, চেয়ারম্যান আমার কার্ড জব্দ করে নিয়ে সেখানে আকলিমা নামে একজনের নাম বসিয়ে দিয়েছেন। আমি চাল আনতে পরিষদে গিয়ে ফিরে এসেছি।

হাসিনা বেগম নামের অপর এক নারী বলেন, আমার কার্ড বাড়িতে চৌকিদার গিয়ে নিয়ে আসে। চাল দেয়ার খবর শুনে পরিষদে এসেছি। আমার কার্ড ও চাল কোনোটাই দেয়নি। উল্টো গালমন্দ করেছে।

এভাবে তাদের মতো আরও অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে তারা অনলাইনে আবেদন করার পর ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। সে অনুযায়ী তাদের নামে কার্ড হয়। চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে কার্ডগুলো আমাদের হাতে তুলে দেন। আবার প্রায় ১ মাস পর চৌকিদারের মাধ্যমে আমাদের কার্ডগুলো বাড়ি থেকে নিয়ে যান। এখন শুনছি তিনি নাকি আমাদের কার্ডগুলো অন্যদের দিয়ে দিচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ। তাহলে আমাদের এখন কী হবে। কার্ডগুলো পেতে তাদের কোথাও কোনো টাকা-পয়সা দিতে হয়নি বলে তারা জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে উপকারভোগী ৩৭২ জনের নাম চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। আমি তারসহ কমিটির সবার সিল-স্বাক্ষর দেখে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছি। অনুমোদিত কার্ড জব্দ করা বা সেগুলো প্রকৃত দুস্থ নারীর পরিবর্তে অন্যকে দেয়ার আইনত কোনো সুযোগ নেই এবং তা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ১৫ জন নারী তার কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন