অজ্ঞান বৃদ্ধাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তারা
jugantor
অজ্ঞান বৃদ্ধাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তারা

  যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৬:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ফাতেমার বাসার পাশে আরেকটি বাসায় নির্মাণকাজ করছিল রবিউল মির্জা ও মো. কামরুল ইসলাম। ওই বাসার ছাদ থেকে ফাতেমার বাড়ি পুরোপুরি দেখা যেত। ফাতেমা গোসলখানায় ঢুকলে, নির্মাণ কাজ ফেলে তারা দুজন চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে।

ফাতেমা টের পেয়ে গোসলখানা থেকে বের হয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করলে দুই চোরের কবলে পড়েন। দুই চোরকে চুরি করতে বাধা দেয়ায় সজোরে ধাক্কা মারে ফাতেমাকে। এ সময় দেয়ালের আঘাতে বৃদ্ধা ফাতেমা (৬২) আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে রবিউল ও কামরুল বাথরুমে নিয়ে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। রবিউল ওই বাড়ির একটি কক্ষ থেকে একটি কোদাল নিয়ে ফাতেমার হাতে, মুখে ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে রবিউল মির্জা ও মো. কামরুল ইসলাম র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

এর সপ্তাহ আগে (গত শুক্রবার) সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ফাতেমা আক্তার (৬২) নামে এক বৃদ্ধার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ফাতেমা যশোর জেলার বাঘাপাড়া থানা এলাকার ড. শেখ ফজলুর রহমানের মেয়ে। তিনি সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় ছেলে জাহিদুল আলমের বাসায় থাকতেন। জাহিদুল রাজধানীর মিরপুরে থেকে বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি প্রতি শুক্রবার তার মাকে দেখতে সাভারের খাগান এলাকার নিজ বাড়িতে আসতেন।

নিহতের ছেলে জাহিদুল আলম বলেন, গত শুক্রবার (৯ তারিখ) সকালে মাকে দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হই। বাড়িতে পৌঁছে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কাজের লোককে প্রাচীর টপকে ভিতরে গিয়ে দেখতে বলি। কাজের লোক ভিতর থেকে ফিরে জানায় আপনার মা বাহিরে পড়ে আছে। পরে গেট খুলে ভিতরে প্রবেশ করে মায়ের মরদেহটি দেখতে পাই। এ সময় তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহ হলে ওই দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভার মডেল থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাব-৪ সূত্রে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর মামলাটি পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নওগাঁ জেলার গয়েশপুর, মির্জাপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. রবিউল মির্জা (২৮) ও গাইবান্ধা জেলার চরখুদা এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (১৮)।

আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং বৃদ্ধা ফাতেমাকে কোদালে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

অজ্ঞান বৃদ্ধাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তারা

 যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফাতেমার বাসার পাশে আরেকটি বাসায় নির্মাণকাজ করছিল রবিউল মির্জা ও মো. কামরুল ইসলাম। ওই বাসার ছাদ থেকে ফাতেমার বাড়ি পুরোপুরি দেখা যেত। ফাতেমা গোসলখানায় ঢুকলে, নির্মাণ কাজ ফেলে তারা দুজন চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। 

ফাতেমা টের পেয়ে গোসলখানা থেকে বের হয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করলে দুই চোরের কবলে পড়েন। দুই চোরকে চুরি করতে বাধা দেয়ায় সজোরে ধাক্কা মারে ফাতেমাকে। এ সময় দেয়ালের আঘাতে বৃদ্ধা ফাতেমা (৬২) আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। 

ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে রবিউল ও কামরুল বাথরুমে নিয়ে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। রবিউল ওই বাড়ির একটি কক্ষ থেকে একটি কোদাল নিয়ে ফাতেমার হাতে, মুখে ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় তারা। 

বৃহস্পতিবার রাতে রবিউল মির্জা ও মো. কামরুল ইসলাম র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে। 

এর সপ্তাহ আগে (গত শুক্রবার) সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ফাতেমা আক্তার (৬২) নামে এক বৃদ্ধার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। 

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ফাতেমা যশোর জেলার বাঘাপাড়া থানা এলাকার ড. শেখ ফজলুর রহমানের মেয়ে। তিনি সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় ছেলে জাহিদুল আলমের বাসায় থাকতেন। জাহিদুল রাজধানীর মিরপুরে থেকে বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি প্রতি শুক্রবার তার মাকে দেখতে সাভারের খাগান এলাকার নিজ বাড়িতে আসতেন।

নিহতের ছেলে জাহিদুল আলম বলেন, গত শুক্রবার (৯ তারিখ) সকালে মাকে দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হই। বাড়িতে পৌঁছে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কাজের লোককে প্রাচীর টপকে ভিতরে গিয়ে দেখতে বলি। কাজের লোক ভিতর থেকে ফিরে জানায় আপনার মা বাহিরে পড়ে আছে। পরে গেট খুলে ভিতরে প্রবেশ করে মায়ের মরদেহটি দেখতে পাই। এ সময় তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহ হলে ওই দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভার মডেল থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

র‌্যাব-৪ সূত্রে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর মামলাটি পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নওগাঁ জেলার গয়েশপুর, মির্জাপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. রবিউল মির্জা (২৮) ও গাইবান্ধা জেলার চরখুদা এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (১৮)।

আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং বৃদ্ধা ফাতেমাকে কোদালে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন