৮০ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি চাল পাচ্ছেন জেলেরা
jugantor
৮০ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি চাল পাচ্ছেন জেলেরা

  চাঁদপুর প্রতিনিধি  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৩:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারই প্রথম জাটকা মৌসুমে সরকারের ভিজিএফের চাল একসঙ্গে ৮০ কেজি করে বরাদ্দ দেয় সরকার; যা গত ২৩ মার্চের মধ্যে বিতরণ করার কথা ছিল। বিতরণ করা হয়েছে বটে! কিন্তু ৮০ কেজি নয়, জেলেপ্রতি দেয়া হয়েছে ৫০ কেজি। এমনটাই জানান সুবিধাপ্রাপ্ত জেলেরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে জাটকাসহ (ছোট ইলিশ) সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধ। মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ২শ' দশমিক ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলার চার উপজেলায় ৪০ হাজার ৫টি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিতে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২ মাস প্রতিটি নিবন্ধিত ও কার্ডধারী জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি চাল দেয়ার কথা; কিন্তু এবছরই প্রথম একসঙ্গে দুই মাসের চাল বিতরণ করা হয়।

সোমবার চাঁদপুর সদরের কয়েকটি ইউনিয়নের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলেদের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ দুই মাসের বরাদ্দকৃত চাল এবার দেয়া হয়েছে একসঙ্গে। দুই মাসে তারা ৪০ কেজি করে ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তারা পেয়েছেন ৫০ কেজি করে এক বস্তা চাল। অনেক জেলে এ সময় অভিযোগ করেন গত বছরও তারা বরাদ্দের চাল কম পেয়েছেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা যে পরিমাণ চাল বিতরণ করেন তাই তাদের মেনে নিতে হয়।

আবার কয়েকজন জেলে বলেন, চেয়ারম্যান বলেছেন এ বছর বরাদ্দ কম এসেছে এবং ইউনিয়নে নতুন জেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- তাই চাল কিছুটা কম দেয়া হয়েছে।
১০নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া এলাকার আ. মতিন শেখের ছেলে আলী হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে আমি ২ কিস্তির চাল একসঙ্গে পেয়েছি। প্রত্যেক কিস্তি ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। এবার ৫০ কেজি চালের বস্তা দিয়ে বলছে এখানে দুই কিস্তির চাল; যা দিছে তাই নিয়ে আসছি।

একই ইউনিয়নের বহরিয়া এলাকার আরেক জেলে চান মিঞা রাঢ়ী বলেন, চাল পাওয়ার বিষয়ে কি বলব? বইলা কোনো লাভ নাই। ক্ষমতা জাগো কাছে তারা যা দেয় তাই মাইনা নিতে হয়। তবে এইবার পরিষদের অনেকে কইল নতুন জেলে কার্ড দেয়া হয়েছে অনেকরে। তাগো জন্য বরাদ্দ আসে নাই। তাই আমাদের কম দিয়েছে চাল। আমিও দুই মাসের চাল একসঙ্গে ৫০ কেজি পাইছি।

চাল পাওয়ার বিষয়ে ১৩নং হানারচর ইউনিয়নের জেলে রশিদ পাটওয়ারী ও মোতালেব গাজী বলেন, আমাদের ইউনিয়নে জনসংখ্যা কম। তার মধ্যে বেশিরভাগ জেলে কার্ডধারী। এত জেলে আমাদের ইউনিয়নে নাই। তারপরও আমরা ঠিকমতো চাল পাই না।

ঠিকমতো চাল না পাওয়ায় অনেকেই মাছ ধরতে যান। এইবার প্রত্যেক জেলেদের দুই মাসের চাল একসঙ্গে দিছে। প্রত্যেক জেলেকে ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা দিছে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল। বস্তায় ৫০ কেজি চালও আছিল না। এটার মধ্যেও কম ছিল ৪-৫ কেজি। চেয়ারম্যান মেম্বাররা বলছে চাল কম আইছে।

১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। সেখানেও জেলেদের দেয়া হয়েছে দুই মাসের চাল একসাথে ৫০ কেজি করে।

জেলে কামাল হোসেন, হানিফ রাঢ়ী, মোহাম্মদ মনির বলেন, চাল কম দেওয়া চেয়ারম্যান-মেম্বারগো অভ্যাস হয়ে গেছে। আমরা জেলেরা কীভাবে আছি তারা খোঁজ নেয় না। কিছু কইলে এলাকায় থাকা যাইব না। নদীতে গেলে পুলিশ ধরে। উপরে থাকলে কাম-কাইজ নাই। সংসার কেমনে চালাই কন।

জেলেদের চাল কম পাওয়া বিষয়ে ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খানজাহান আলী কালু বলেন, আমার ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে ১৯৫৮ জন। আর আমি বরাদ্দ পেয়েছি ১৩শ' থেকে কিছুটা বেশি জেলের। আমার ইউনিয়নে বাকি যেসব জেলেরা বরাদ্দ চাল পাননি তাদের জন্য বরাদ্দ পাওয়া চাল থেকে সমন্বয় করা হয়েছে। বরাদ্দ কম পাওয়া বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছিল। তখন আমরা বলেছিলাম আমাদের ইউনিয়নে চাল বিতরণ করতে হলে সবার মাঝে চাল বিতরণ করতে হবে। নয়তো জেলেদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে। আমার জানামতে এসব ইউনিয়ন প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে সমন্বয় করে এভাবেই চাল বিতরণ করেছে।

চাল বিতরণ বিষয়ে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিটি জেলের জন্য ৪০ কেজি করে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং সেভাবেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমি নিজেও কয়েকটি ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলাম। কোনো জেলেকে চাল কম দেওয়া হয়নি। তবে এবার ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের চাল একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, চাল বিতরণের সময় আমাদের মৎস্য কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকেন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে আমি জানতে পারতাম। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তারপরও আমি খোঁজ নেব। আমরা জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত চাল বরাদ্দ দিয়েছি।

৮০ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি চাল পাচ্ছেন জেলেরা

 চাঁদপুর প্রতিনিধি 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারই প্রথম জাটকা মৌসুমে সরকারের ভিজিএফের চাল একসঙ্গে ৮০ কেজি করে বরাদ্দ দেয় সরকার; যা গত ২৩ মার্চের মধ্যে বিতরণ করার কথা ছিল। বিতরণ করা হয়েছে বটে! কিন্তু ৮০ কেজি নয়, জেলেপ্রতি দেয়া হয়েছে ৫০ কেজি। এমনটাই জানান সুবিধাপ্রাপ্ত জেলেরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে জাটকাসহ (ছোট ইলিশ) সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধ। মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ২শ' দশমিক ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

জেলার চার উপজেলায় ৪০ হাজার ৫টি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিতে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২ মাস প্রতিটি নিবন্ধিত ও কার্ডধারী জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি চাল দেয়ার কথা; কিন্তু এবছরই প্রথম একসঙ্গে দুই মাসের চাল বিতরণ করা হয়।

সোমবার চাঁদপুর সদরের কয়েকটি ইউনিয়নের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলেদের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ দুই মাসের বরাদ্দকৃত চাল এবার দেয়া হয়েছে একসঙ্গে। দুই মাসে তারা ৪০ কেজি করে ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তারা পেয়েছেন ৫০ কেজি করে এক বস্তা চাল। অনেক জেলে এ সময় অভিযোগ করেন গত বছরও তারা বরাদ্দের চাল কম পেয়েছেন। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা যে পরিমাণ চাল বিতরণ করেন তাই তাদের মেনে নিতে হয়। 

আবার কয়েকজন জেলে বলেন, চেয়ারম্যান বলেছেন এ বছর বরাদ্দ কম এসেছে এবং ইউনিয়নে নতুন জেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- তাই চাল কিছুটা কম দেয়া হয়েছে।
১০নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া এলাকার আ. মতিন শেখের ছেলে আলী হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে আমি ২ কিস্তির চাল একসঙ্গে পেয়েছি। প্রত্যেক কিস্তি ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। এবার ৫০ কেজি চালের বস্তা দিয়ে বলছে এখানে দুই কিস্তির চাল; যা দিছে তাই নিয়ে আসছি। 

একই ইউনিয়নের বহরিয়া এলাকার আরেক জেলে চান মিঞা রাঢ়ী বলেন, চাল পাওয়ার বিষয়ে কি বলব? বইলা কোনো লাভ নাই। ক্ষমতা জাগো কাছে তারা যা দেয় তাই মাইনা নিতে হয়। তবে এইবার পরিষদের অনেকে কইল নতুন জেলে কার্ড দেয়া হয়েছে অনেকরে। তাগো জন্য বরাদ্দ আসে নাই। তাই আমাদের কম দিয়েছে চাল। আমিও দুই মাসের চাল একসঙ্গে ৫০ কেজি পাইছি।

চাল পাওয়ার বিষয়ে ১৩নং হানারচর ইউনিয়নের জেলে রশিদ পাটওয়ারী ও মোতালেব গাজী বলেন, আমাদের ইউনিয়নে জনসংখ্যা কম। তার মধ্যে বেশিরভাগ জেলে কার্ডধারী। এত জেলে আমাদের ইউনিয়নে নাই। তারপরও আমরা ঠিকমতো চাল পাই না। 

ঠিকমতো চাল না পাওয়ায় অনেকেই মাছ ধরতে যান। এইবার প্রত্যেক জেলেদের দুই মাসের চাল একসঙ্গে দিছে। প্রত্যেক জেলেকে ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা দিছে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল। বস্তায় ৫০ কেজি চালও আছিল না। এটার মধ্যেও কম ছিল ৪-৫ কেজি। চেয়ারম্যান মেম্বাররা বলছে চাল কম আইছে।

১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। সেখানেও জেলেদের দেয়া হয়েছে দুই মাসের চাল একসাথে ৫০ কেজি করে। 

জেলে কামাল হোসেন, হানিফ রাঢ়ী, মোহাম্মদ মনির বলেন, চাল কম দেওয়া চেয়ারম্যান-মেম্বারগো অভ্যাস হয়ে গেছে। আমরা জেলেরা কীভাবে আছি তারা খোঁজ নেয় না। কিছু কইলে এলাকায় থাকা যাইব না। নদীতে গেলে পুলিশ ধরে। উপরে থাকলে কাম-কাইজ নাই। সংসার কেমনে চালাই কন। 

জেলেদের চাল কম পাওয়া বিষয়ে ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খানজাহান আলী কালু বলেন, আমার ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে ১৯৫৮ জন। আর আমি বরাদ্দ পেয়েছি ১৩শ' থেকে কিছুটা বেশি জেলের। আমার ইউনিয়নে বাকি যেসব জেলেরা বরাদ্দ চাল পাননি তাদের জন্য বরাদ্দ পাওয়া চাল থেকে সমন্বয় করা হয়েছে। বরাদ্দ কম পাওয়া বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছিল। তখন আমরা বলেছিলাম আমাদের ইউনিয়নে চাল বিতরণ করতে হলে সবার মাঝে চাল বিতরণ করতে হবে। নয়তো জেলেদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে। আমার জানামতে এসব ইউনিয়ন প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে সমন্বয় করে এভাবেই চাল বিতরণ করেছে।

চাল বিতরণ বিষয়ে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিটি জেলের জন্য ৪০ কেজি করে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং সেভাবেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমি নিজেও কয়েকটি ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলাম। কোনো জেলেকে চাল কম দেওয়া হয়নি। তবে এবার ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের চাল একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, চাল বিতরণের সময় আমাদের মৎস্য কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকেন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে আমি জানতে পারতাম। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তারপরও আমি খোঁজ নেব। আমরা জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত চাল বরাদ্দ দিয়েছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন