চাঁদাবাজির মামলা করায় শিবালয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি
jugantor
চাঁদাবাজির মামলা করায় শিবালয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি
উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় জিডি

  মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি  

১৭ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৪৩:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুরে ঘটনায় মামলা করায় শেখ মো. মানিক হোসেন (৪১) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবার শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাত আওয়ালের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

রাকিব হাসনাত শিবালয় উপজেলার দাসকান্দি গ্রামের মৃত নিয়ামত হোসেনের পুত্র। এদিকে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুর মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজে বালু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এম এম এন্ট্রারপ্রাইজের সত্বাধিকার আমিনুল ইসলাম মিন্টু এবং মহাসড়কটির উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এনডিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আইনুল ইসলামকে মারধর করেন শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাতের সহযোগীরা।

প্রতিষ্ঠান দুটির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না পেয়ে ওই হামলা করা হয়। এ সময় এস্কাভেটর (ভেকু) ভাঙচুর ও চাঁদা হিসাবে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে এম এম এন্ট্রারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার আমিনুল ইসলাম মিন্টু বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ্য করে শিবায়য় থানায় মামলা করেন।

মামলা দায়েরে পর থেকে শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাত আওয়াল ক্ষুদ্ধ হয়ে শেখ মো. মানিক হোসেন এবং মোন্তাজ উদ্দিনকে (মোন্তাজ মাষ্টার) লোকজনের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন।

ভূক্তভোগী শেখ মানিক হোসেন থানায় করা জিডিতে উল্লেখ্য করেছেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাত আওয়াল শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউর রহমান খান জানু ও তার ছোট ছেলে ফুয়াদ রহমান খানের অনুসারী।

এ কারণে মামলা করার পর থেকেই বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তাদেরকে খুন করার ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই জীবনের নিরাপত্তায় চেয়ে শিবালয় থানায় বৃহস্পতিবার রাতে জিডি করেন।

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির সাংবাদিকদের কাছে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে শুক্রবার কথা বলার জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাতের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান খান জানু সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে উপজেলায় দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার অনুসারি। তবে চাঁদা দাবির ঘটনা মিথ্যা। হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনা তার জানা নেই।

এ দিকে চাঁদা দাবি, ভাঙচুর, মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, উপজেলার কাতরাসিন গ্রামের নাঈম হোসেন (২০), নিহালপুর গ্রামের আনিসুর রহমান (২৬) ও রাজিব হোসেন (২৬)। তারা সবাই এজাহারভূক্ত আসামি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার স্যান্নাল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চাঁদাবাজির মামলা করায় শিবালয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি

উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় জিডি
 মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৭ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুরে ঘটনায় মামলা করায় শেখ মো. মানিক হোসেন (৪১) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবার শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাত আওয়ালের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই ব্যবসায়ী।  

রাকিব হাসনাত শিবালয় উপজেলার দাসকান্দি গ্রামের মৃত নিয়ামত হোসেনের পুত্র। এদিকে চাঁদাবাজি ও ভাঙচুর মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজে বালু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এম এম এন্ট্রারপ্রাইজের সত্বাধিকার আমিনুল ইসলাম মিন্টু এবং মহাসড়কটির উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এনডিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আইনুল ইসলামকে মারধর করেন শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাতের সহযোগীরা।

প্রতিষ্ঠান দুটির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না পেয়ে ওই হামলা করা হয়। এ সময় এস্কাভেটর (ভেকু) ভাঙচুর ও চাঁদা হিসাবে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে এম এম এন্ট্রারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার আমিনুল ইসলাম মিন্টু বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ্য করে শিবায়য় থানায় মামলা করেন।

মামলা দায়েরে পর থেকে শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাত আওয়াল ক্ষুদ্ধ হয়ে শেখ মো. মানিক হোসেন এবং মোন্তাজ উদ্দিনকে (মোন্তাজ মাষ্টার) লোকজনের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন।

ভূক্তভোগী শেখ মানিক হোসেন থানায় করা জিডিতে উল্লেখ্য করেছেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাত আওয়াল শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউর রহমান খান জানু ও তার ছোট ছেলে ফুয়াদ রহমান খানের অনুসারী।  

এ কারণে মামলা করার পর থেকেই বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তাদেরকে খুন করার ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই জীবনের নিরাপত্তায় চেয়ে শিবালয় থানায় বৃহস্পতিবার রাতে জিডি করেন।

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির সাংবাদিকদের কাছে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে শুক্রবার কথা বলার জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাতের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান খান জানু সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে উপজেলায় দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার অনুসারি। তবে চাঁদা দাবির ঘটনা মিথ্যা। হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনা তার জানা নেই।

এ দিকে চাঁদা দাবি, ভাঙচুর, মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, উপজেলার কাতরাসিন গ্রামের নাঈম হোসেন (২০), নিহালপুর গ্রামের আনিসুর রহমান (২৬) ও রাজিব হোসেন (২৬)। তারা সবাই এজাহারভূক্ত আসামি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার স্যান্নাল জানান,  গ্রেফতারকৃত আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন