যৌতুকের জন্য গৃহবধূর ‘মাথা ন্যাড়া’
jugantor
যৌতুকের জন্য গৃহবধূর ‘মাথা ন্যাড়া’

  ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৫৯:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যৌতুকের টাকা না দেয়ায় কবিতা (১৮) নামে এক গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনরা। শুধু তাই নয়, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করেছে।

জানা যায়, উপজেলার বাহাদীপুর গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে কবিতার সঙ্গে রাউৎবাড়ী গ্রামের আরশেদের সঙ্গে ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের টাকার জন্য তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনরা প্রায় সময় মারধর করত।

এরপর কবিতাকে নিয়ে গাজীপুরে চলে যায় আরশেদ। সেখানে আরশেদ একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন বলে জানা যায়। কিছুদিন পর আরশেদের একটি ভাড়া বাসায় যায় মা-বাবা। পরে সেখানেও যৌতুকের জন্য কবিতাকে নির্যাতন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর কবিতার মাথা ন্যাড়া করে দেয় তার স্বামী ও স্বজনরা।

কবিতার মা শিমু বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে কবিতার শ্বশুর-শাশুড়ি ও আরশেদের বড়বোন মারধর ও নির্যাতন করত। কিন্তু দরিদ্র থাকায় যৌতুক দিতে না পারায় আরশেদ কবিতাকে নিয়ে গাজীপুর চলে যায়। এর কিছুদিন পর কবিতার শ্বশুর-শাশুড়ি ও আরশেদের বড়বোন সেখানে গিয়েও যৌতুকের জন্য মারধর করে। একপর্যায়ে তারা গত বৃহস্পতিবার আমার মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়।

বৃহস্পতিবার মাথা ন্যাড়া ও নির্যাতনের বিষয়টি কবিতা মোবাইল ফোনে আমাকে জানালে তাকে বাড়ী চলে আসতে বলি। পরে বাড়ি আসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহীউদ্দিন বলেন, কবিতার মাথা ন্যাড়া ও বাম-ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ভূঞাপুর থানার ওসি আব্দুল ওহাব বলেন, মাথা ন্যাড়া ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাটি গাজীপুরের। তাকে কোর্টে বা গাজীপুর থানায় মামলা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

যৌতুকের জন্য গৃহবধূর ‘মাথা ন্যাড়া’

 ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যৌতুকের টাকা না দেয়ায় কবিতা (১৮) নামে এক গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনরা। শুধু তাই নয়, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করেছে।

জানা যায়, উপজেলার বাহাদীপুর গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে কবিতার সঙ্গে রাউৎবাড়ী গ্রামের আরশেদের সঙ্গে ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের টাকার জন্য তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনরা প্রায় সময় মারধর করত।

এরপর কবিতাকে নিয়ে গাজীপুরে চলে যায় আরশেদ। সেখানে আরশেদ একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন বলে জানা যায়। কিছুদিন পর আরশেদের একটি ভাড়া বাসায় যায় মা-বাবা। পরে সেখানেও যৌতুকের জন্য কবিতাকে নির্যাতন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর কবিতার মাথা ন্যাড়া করে দেয় তার স্বামী ও স্বজনরা।

কবিতার মা শিমু বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে কবিতার শ্বশুর-শাশুড়ি ও আরশেদের বড়বোন মারধর ও নির্যাতন করত। কিন্তু দরিদ্র থাকায় যৌতুক দিতে না পারায় আরশেদ কবিতাকে নিয়ে গাজীপুর চলে যায়। এর কিছুদিন পর কবিতার শ্বশুর-শাশুড়ি ও আরশেদের বড়বোন সেখানে গিয়েও যৌতুকের জন্য মারধর করে। একপর্যায়ে তারা গত বৃহস্পতিবার আমার মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়।

বৃহস্পতিবার মাথা ন্যাড়া ও নির্যাতনের বিষয়টি কবিতা মোবাইল ফোনে আমাকে জানালে তাকে বাড়ী চলে আসতে বলি। পরে বাড়ি আসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহীউদ্দিন বলেন, কবিতার মাথা ন্যাড়া ও বাম-ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ভূঞাপুর থানার ওসি আব্দুল ওহাব বলেন, মাথা ন্যাড়া ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাটি গাজীপুরের। তাকে কোর্টে বা গাজীপুর থানায় মামলা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন