স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরেই উন্মুক্ত স্থানে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য
jugantor
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরেই উন্মুক্ত স্থানে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য

  মো. জুয়েল তালুকদার, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল)  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৩৫:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

পাশে রুমেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। ঠিক তার ১০ ফিট সামনে ফেলে হচ্ছে রোগীদের ব্যবহৃত ক্লিনিক্যাল বর্জ্য।

বর্জ্যের স্তূপ দেখে মনে হয় বেশ কয়েক সপ্তাহের বর্জ্য এখানে পড়ে আছে। বর্জ্যের ছবি ধারণ করার দৃশ্য দেখে করোনার টিকা নিতে আসা কয়েকজন এগিয়ে এসে বলেন, ময়লা আবর্জনা আর ক্লিনিক্যাল বর্জ্যরে দুর্গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। এর মধ্যে ৩০ জন ধারণ করার একটি রুমে কয়েকশ' নারী-পুরুষ দাঁড় করিয়ে করোনাভাইরাসের টিকা দিচ্ছেন।

একদিকে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ অন্যদিকে গাদাগাদি করে টিকা নিচ্ছেন। এখানে সুস্থ মানুষ আসলেও অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। এ অবস্থা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলয় সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেন নিজেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে। যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হলেও এরা কোথাও মানছেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও নেই সাবান, পানি। একটি রুমের ভিতরে কয়কশ' নারী-পুরুষ দাঁড় করিয়ে করোনার টিকা নিতে বাধ্য করাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। চরম অব্যবস্থাপনায় গিয়ে পৌঁছেছে স্বাস্থ্যসেবা।

এদিকে করোনাকালীন রোটেশন করে মাত্র ৩-৪ জন চিকিৎসক দিয়ে চালাচ্ছেন আউটডোর ও ইনডোর রোগীদের সেবা। গত কয়েক দিনে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে লোকবল সংকটের মধ্যেই প্রকট আকার ধারণ করছে ডায়রিয়া। গড়ে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ে। তীব্র ইনজেকশন স্যাইলন সংকটে পড়ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, একেকজনের ১৫ থেকে ১৮টি স্যাইলাইন দরকার হয়; স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে মাঝে মধ্যে দুই একটি দিলেও বাকি স্যালাইন বাহির থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন গরিব অসহায় রোগীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে ৫ শতাধিক ডায়রিয়া রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিয়েছেন। ডায়রিয়া রোগীর চাপ এতটাই বাড়ছে ডায়রিয়া ইউনিট ছাড়িয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের বারেন্দাও জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ডায়ারিয়া নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাবে।

ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, একাবারে নিম্নমানের খাবার বিতরণ করেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সঙ্কর প্রসাদ অধিকারী যুগান্তরকে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্জ্য তো ওখানে রাখার কথা না। হয়ত যে করছে সে সাময়িক ভাবে রাখছে সরানোর জন্য।

এটা স্বাস্থ্যকর কিনা জানতে চাইলে বলেন, না এটা স্বাস্থ্য কর না।

এছাড়াও তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়ার রোগীর চাপ সামাল দেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে তীব্র আকারে ইনজেকশন স্যালাইন সংকট। সব মিলে বেসামাল হয়ে পড়ছে কার্যক্রম। এমতাবস্থায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান ওই কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরেই উন্মুক্ত স্থানে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য

 মো. জুয়েল তালুকদার, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাশে রুমেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। ঠিক তার ১০ ফিট সামনে ফেলে হচ্ছে রোগীদের ব্যবহৃত ক্লিনিক্যাল বর্জ্য।

বর্জ্যের স্তূপ দেখে মনে হয় বেশ কয়েক সপ্তাহের বর্জ্য এখানে পড়ে আছে। বর্জ্যের ছবি ধারণ করার দৃশ্য দেখে করোনার টিকা নিতে আসা কয়েকজন এগিয়ে এসে বলেন, ময়লা আবর্জনা আর ক্লিনিক্যাল বর্জ্যরে দুর্গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। এর মধ্যে ৩০ জন ধারণ করার একটি রুমে কয়েকশ' নারী-পুরুষ দাঁড় করিয়ে করোনাভাইরাসের টিকা দিচ্ছেন।

একদিকে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ অন্যদিকে গাদাগাদি করে টিকা নিচ্ছেন। এখানে সুস্থ মানুষ আসলেও অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। এ অবস্থা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলয় সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেন নিজেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে। যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হলেও এরা কোথাও মানছেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও নেই সাবান, পানি। একটি রুমের ভিতরে কয়কশ' নারী-পুরুষ দাঁড় করিয়ে করোনার টিকা নিতে বাধ্য করাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। চরম অব্যবস্থাপনায় গিয়ে পৌঁছেছে স্বাস্থ্যসেবা।

এদিকে করোনাকালীন রোটেশন করে মাত্র ৩-৪ জন চিকিৎসক দিয়ে চালাচ্ছেন আউটডোর ও ইনডোর রোগীদের সেবা। গত কয়েক দিনে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে লোকবল সংকটের মধ্যেই প্রকট আকার ধারণ করছে ডায়রিয়া। গড়ে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ে। তীব্র ইনজেকশন স্যাইলন সংকটে পড়ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, একেকজনের ১৫ থেকে ১৮টি স্যাইলাইন দরকার হয়; স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে মাঝে মধ্যে দুই একটি দিলেও বাকি স্যালাইন বাহির থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন গরিব অসহায় রোগীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে ৫ শতাধিক ডায়রিয়া রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিয়েছেন। ডায়রিয়া রোগীর চাপ এতটাই বাড়ছে ডায়রিয়া ইউনিট ছাড়িয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের বারেন্দাও জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ডায়ারিয়া নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাবে।

ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, একাবারে নিম্নমানের খাবার বিতরণ করেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সঙ্কর প্রসাদ অধিকারী যুগান্তরকে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্জ্য তো ওখানে রাখার কথা না। হয়ত যে করছে সে সাময়িক ভাবে রাখছে সরানোর জন্য।

এটা স্বাস্থ্যকর কিনা জানতে চাইলে বলেন, না এটা স্বাস্থ্য কর না।

এছাড়াও তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়ার রোগীর চাপ সামাল দেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে তীব্র আকারে ইনজেকশন স্যালাইন সংকট। সব মিলে বেসামাল হয়ে পড়ছে কার্যক্রম। এমতাবস্থায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান ওই কর্মকর্তা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন