‘ঘরে থাকলে না খেয়ে মরমু, বাহিরে গেলে করোনায় মরমু’
jugantor
‘ঘরে থাকলে না খেয়ে মরমু, বাহিরে গেলে করোনায় মরমু’

  শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ২৩:২৫:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

‘সরকার তো লকডাউন দিয়েই শেষ। কিন্তু আমাগোরে তো ঘরে বইসা থাকলে এমনি এমনি পেটে খাওনা আসব না। আমাগোরে অইছে যত জ্বালা, ঘরে থাকলে বৌ-পোলাপান নিয়ে না খেয়ে মরমু আর বাহিরে গেলে করোনায় মরমু।’

রোববার দুপুরে এভাবে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন গোয়ালন্দ পৌরসভার বদিউজ্জামাল বেপারিপাড়ার রিকশাচালক মো. তারক আলী (৪৮)।

তিনি বলেন, পেটের তাগিদে রাস্তায় বের হয়েছি কিন্তু রাস্তায়ও তেমন লেকজন নাই। তাই আয় রোজগারও তেমন নাই। রিকশাটাও ভাড়ায় নেয়া। যে সামান্য আয় হয় তা রিকশা মালিকরে দিব না, আমি রাখব?

তার মতো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার অসংখ্য নিম্নআয়ের পরিবার চলমান লকডাউনে রোজগার বন্ধ হয়ে বা কমে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত বছরের লকডাউনের মতো এবার এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা নাই। কোনো সামর্থ্যবান জনপ্রতিনিধি বা নেতাকেও এ বিপদে আগাইয়্যা আসতে দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে লকডাউনে কড়া অবস্থান নিয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন স্বল্প আয়ের অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ। হাতগুটিয়ে বসে আছে তারা। এ পরিস্থিতিতে পেটের ভাত জোগাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এ অবস্থার মধ্যে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। অনেক মানুষকে খুব কষ্ট করে রোজা রাখতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী অনেকেই বলেন, তারা অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান-রিকশা ক্রয় করে চালান। কেউ ছোট খাট ব্যবসা করেন। এখন রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলার কদমতলি এলাকার রিকশাচালক দেলোয়ার শেখ জানান, লোন নিয়ে তিনি রিকশা কিনেছেন। সপ্তাহে ৬৫০ টাকা এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাসের কারণে লোকজন চলাচল কম করায় যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিস্তি দেব কীভাবে?

উপজেলার আলম চৌধুরীপাড়ার রিকশাচালক ইব্রাহিম শেখ বলেন, আগের মতো রাস্তায় তেমন যাত্রী নাই। অনেকক্ষণ বসে আছি কোনো যাত্রী পাই না। খুব অভাবে দিনযাপন করছি।

অটোচালক সোবহান বলেন, সারা দিনে ভাই ২২০ টাকা কামাইছি। অটোর মালিকরে কি দেব, আর আমিই বা বউ-পোলাপান নিয়ে কী খাব!

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার লকডাউনের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এটা জাতীয় সমস্যা। সবাইকে একটু কষ্ট তো মেনে নিতে হবে। অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য সরকার থেকে এখনো বিশেষ কোনো বরাদ্দ আসেনি। আসলে বিতরণ করা হবে।

‘ঘরে থাকলে না খেয়ে মরমু, বাহিরে গেলে করোনায় মরমু’

 শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘সরকার তো লকডাউন দিয়েই শেষ। কিন্তু আমাগোরে তো ঘরে বইসা থাকলে এমনি এমনি পেটে খাওনা আসব না। আমাগোরে অইছে যত জ্বালা, ঘরে থাকলে বৌ-পোলাপান নিয়ে না খেয়ে মরমু আর বাহিরে গেলে করোনায় মরমু।’

রোববার দুপুরে এভাবে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন গোয়ালন্দ পৌরসভার বদিউজ্জামাল বেপারিপাড়ার রিকশাচালক মো. তারক আলী (৪৮)। 

তিনি বলেন, পেটের তাগিদে রাস্তায় বের হয়েছি কিন্তু রাস্তায়ও তেমন লেকজন নাই। তাই আয় রোজগারও তেমন নাই। রিকশাটাও ভাড়ায় নেয়া। যে সামান্য আয় হয় তা রিকশা মালিকরে দিব না, আমি রাখব?

তার মতো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার অসংখ্য নিম্নআয়ের পরিবার চলমান লকডাউনে রোজগার বন্ধ হয়ে বা কমে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত বছরের লকডাউনের মতো এবার এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা নাই। কোনো সামর্থ্যবান জনপ্রতিনিধি বা নেতাকেও এ বিপদে আগাইয়্যা আসতে দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে লকডাউনে কড়া অবস্থান নিয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন স্বল্প আয়ের অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ। হাতগুটিয়ে বসে আছে তারা। এ পরিস্থিতিতে পেটের ভাত জোগাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এ অবস্থার মধ্যে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। অনেক মানুষকে খুব কষ্ট করে রোজা রাখতে হচ্ছে। 

ভুক্তভোগী অনেকেই বলেন, তারা অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান-রিকশা ক্রয় করে চালান। কেউ ছোট খাট ব্যবসা করেন। এখন রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলার কদমতলি এলাকার রিকশাচালক দেলোয়ার শেখ জানান, লোন নিয়ে তিনি রিকশা কিনেছেন। সপ্তাহে ৬৫০ টাকা এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাসের কারণে লোকজন চলাচল কম করায় যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিস্তি দেব কীভাবে?

উপজেলার আলম চৌধুরীপাড়ার রিকশাচালক ইব্রাহিম শেখ বলেন, আগের মতো রাস্তায় তেমন যাত্রী নাই। অনেকক্ষণ বসে আছি কোনো যাত্রী পাই না। খুব অভাবে দিনযাপন করছি।

অটোচালক সোবহান বলেন, সারা দিনে ভাই ২২০ টাকা কামাইছি। অটোর মালিকরে কি দেব, আর আমিই বা বউ-পোলাপান নিয়ে কী খাব!

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার লকডাউনের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এটা জাতীয় সমস্যা। সবাইকে একটু কষ্ট তো মেনে নিতে হবে। অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য সরকার থেকে এখনো বিশেষ কোনো বরাদ্দ আসেনি। আসলে বিতরণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন