যেখানে পাঁচ টাকায় মিলছে ইফতার
jugantor
যেখানে পাঁচ টাকায় মিলছে ইফতার

  অমিত রায়, ময়মনসিংহ ব্যুরো  

১৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:১০:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

রোজার মাস এলেই ময়মনসিংহ শহরের নামীদামী রেষ্টুরেন্টগুলোসহ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নানা মুখরোচক রকমারি ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে। কিন্তু এবার লকডাউন পরিস্থিতির কারণে নগরীতে হাতেগোনা নামীদামী রেস্টুরেন্ট ছাড়া ইফতারের আয়োজন নেই নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য।

ফলে ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে হিমশিম খেতে গুটিকয়েক দোকানের বিক্রেতাদের।

এদিকে ব্যতিক্রমী আয়োজন জেলা পুলিশের পাঁচ টাকার ইফতারের দোকান নিম্ন আয়ের মানুষের নজর কেড়েছে। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতীকী মূল্য পাঁচ টাকায় দুই থেকে পাঁচ শতাধিক অসহায়, হতদরিদ্র, অটো-রিকশা ও ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের মাঝে সরবরাহ করছে জেলা পুলিশ।

প্রতিবছর রোজার মাস এলেই ক্রেতা আকৃষ্ট করতে শহরের সারিন্দা-সরগরম, ধাঁনসিঁড়ি, নবাবিসহ নামীদামী রেস্টুরেন্টগুলোর পাশাপাশি মৌসুমি বিক্রেতারা মুখরোচক ও রকমারি ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে। আর ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলেই এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে।

কিন্তু এবার লকডাউন পরিস্থিতির কারণে নগরীতে হাতেগোনা নামীদামী রেস্টুরেন্ট ছাড়া ইফতারের আয়োজন নেই নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য। বিষয়টি মাথায় নিয়ে জেলা পুলিশ অসহায় ও হতদরিদ্রদের জন্য ব্যতিক্রম আয়োজন করেছে। রমজানের শুরু থেকে ৬২ টাকা মূল্যের ইফতার সামগ্রী (মুড়ি, ছোলা, পিয়াজু, বেগুনি, শসা, খেজুর, আঙ্গুর, কলা ও জিলাপি) মাত্র ৫ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে প্রতীকী মূল্যে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান জানান, করোনাকালীন এই সময়ে সমাজের নিম্নআয়ের মানুষ এখন বেকার। তাই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নগরীর অসহায়, হতদরিদ্র, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য ৫ টাকা প্রতীকী মূল্যে ইফতার সামগ্রী প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বিতরণ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, করোনার কারণে লকডাউনের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতিতে অসহায়, দুঃস্থ, ভাসমান, দিনমজুর, রিকশা, ভ্যান চালক ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষজন যাতে সহজলভ্য মূল্যে মানসম্মত ইফতার সামগ্রী খেতে পারে, সেই চিন্তা চেতনায় জেলা পুলিশের নিজস্ব (বেতনের টাকা) তহবিল থেকে রমজান মাসজুড়ে ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নামমাত্র মূল্য বা প্রতীকী বা টোকেন মূল্য ৫ টাকায় এই ইফতার সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রতিটি ইফতারে ৫৭ টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। পুরোটাই ভর্তুকি দেয়া সম্ভব। ইফতার ফ্রি নিলাম, কেউ যাতে এমনটা মনে করতে না পারেন এমন ধারণা থেকেই প্রতীকী মূল্য নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই’শ মানুষের মাঝে এই ইফতার সরবরাহ করা হবে। তবে সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা পেলে আরও অধিক সংখ্যক মানুষের মাঝে খাবার দেয়া সম্ভব হবে। তিনি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

যেখানে পাঁচ টাকায় মিলছে ইফতার

 অমিত রায়, ময়মনসিংহ ব্যুরো 
১৯ এপ্রিল ২০২১, ১০:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রোজার মাস এলেই ময়মনসিংহ শহরের নামীদামী রেষ্টুরেন্টগুলোসহ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নানা মুখরোচক রকমারি ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে। কিন্তু এবার লকডাউন পরিস্থিতির কারণে নগরীতে হাতেগোনা নামীদামী রেস্টুরেন্ট ছাড়া ইফতারের আয়োজন নেই নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য।

ফলে ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে হিমশিম খেতে গুটিকয়েক দোকানের বিক্রেতাদের।

এদিকে ব্যতিক্রমী আয়োজন জেলা পুলিশের পাঁচ টাকার ইফতারের দোকান নিম্ন আয়ের মানুষের নজর কেড়েছে। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতীকী মূল্য পাঁচ টাকায় দুই থেকে পাঁচ শতাধিক অসহায়, হতদরিদ্র, অটো-রিকশা ও ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের মাঝে সরবরাহ করছে জেলা পুলিশ।

প্রতিবছর রোজার মাস এলেই ক্রেতা আকৃষ্ট করতে শহরের সারিন্দা-সরগরম, ধাঁনসিঁড়ি, নবাবিসহ নামীদামী রেস্টুরেন্টগুলোর পাশাপাশি মৌসুমি বিক্রেতারা মুখরোচক ও রকমারি ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে। আর ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলেই এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে।

কিন্তু এবার লকডাউন পরিস্থিতির কারণে নগরীতে হাতেগোনা নামীদামী রেস্টুরেন্ট ছাড়া ইফতারের আয়োজন নেই নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য। বিষয়টি মাথায় নিয়ে জেলা পুলিশ অসহায় ও হতদরিদ্রদের জন্য ব্যতিক্রম আয়োজন করেছে। রমজানের শুরু থেকে ৬২ টাকা মূল্যের ইফতার সামগ্রী (মুড়ি, ছোলা, পিয়াজু, বেগুনি, শসা, খেজুর, আঙ্গুর, কলা ও জিলাপি) মাত্র ৫ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে প্রতীকী মূল্যে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান জানান, করোনাকালীন এই সময়ে সমাজের নিম্নআয়ের মানুষ এখন বেকার। তাই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নগরীর অসহায়, হতদরিদ্র, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য ৫ টাকা প্রতীকী মূল্যে ইফতার সামগ্রী প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বিতরণ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, করোনার কারণে লকডাউনের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতিতে অসহায়, দুঃস্থ, ভাসমান, দিনমজুর, রিকশা, ভ্যান চালক ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষজন যাতে সহজলভ্য মূল্যে মানসম্মত ইফতার সামগ্রী খেতে পারে, সেই চিন্তা চেতনায় জেলা পুলিশের নিজস্ব (বেতনের টাকা) তহবিল থেকে রমজান মাসজুড়ে ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নামমাত্র মূল্য বা প্রতীকী বা টোকেন মূল্য ৫ টাকায় এই ইফতার সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রতিটি ইফতারে ৫৭ টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। পুরোটাই ভর্তুকি দেয়া সম্ভব। ইফতার ফ্রি নিলাম, কেউ যাতে এমনটা মনে করতে না পারেন এমন ধারণা থেকেই প্রতীকী মূল্য নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই’শ মানুষের মাঝে এই ইফতার সরবরাহ করা হবে। তবে সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা পেলে আরও অধিক সংখ্যক মানুষের মাঝে খাবার দেয়া সম্ভব হবে। তিনি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন