পা ধরে প্রাণভিক্ষা চেয়েও বাঁচানো গেল না বৃদ্ধকে
jugantor
পা ধরে প্রাণভিক্ষা চেয়েও বাঁচানো গেল না বৃদ্ধকে

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

২০ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৫৫:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বৃদ্ধ সোনা মিয়া শুনু হাওলাদারকে (৭০) বাঁচাতে প্রতিপক্ষের পা জড়িয়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চায় বৃদ্ধের ছোটভাই। তারপরও ফুফাতো ভাই মেনাজ ফকির ও তার লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে ওই বৃদ্ধকে।

ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার পূর্ব সোনাখালী গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে। পুলিশ নিহত সোনা মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব সোনাখালী গ্রামের সোনা মিয়া হাওলাদারের সাথে তার ফুফাতো ভাই পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের কাঞ্চনবাড়ীয়া গ্রামের মেনাজ ফকিরের সঙ্গে এক একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই জমিতে মেনাজ ফকির ২০-২২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষাবাদ শুরু করেন। খবর পেয়ে সোনা মিয়া হাওলাদার তাদের জমি চাষাবাদে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় ফুফাতো ভাই মেনাজ হাওলাদার।

এক পর্যায়ে মেনাজ ফকির, মোতালেব, আদম আলী ফকির, আবুল মৃধা, মোস্তফা ও তার লোকজন বৃদ্ধ সোনা মিয়া হাওলাদারকে মারধর শুরু করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বৃদ্ধ সোনা মিয়াকে রক্ষায় তার ছোটভাই মো. আব্দুর রশিদ হাওলাদার এগিয়ে গিয়ে মেনাজ ফকিরের পা জড়িয়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করে ভাইয়ের প্রাণভিক্ষা চান।

কিন্তু তাতেও তার মন গলেনি। সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকাবাসী সোনা মিয়াকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। ঘাতক মেনাজ ফকির ও তার লোকজন সোনা মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই দিন বিকালে পুলিশ তার মহদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বৃদ্ধ সোনা মিয়াকে প্রকাশ্যে দিবালোকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী সোনা মিয়ার হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, মেনাজ ফকিরের নেতৃত্বে ২০-২২ জন সন্ত্রাসী এসে জমিতে চাষাবাদ শুরু করে। এতে বাধা দেয় সোনা মিয়া হাওলাদার। একপর্যায় তারা সোনা মিয়া হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় আমরা শাস্তি দাবি করছি।

নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের ছোটভাই আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, ভাইকে রক্ষায় আমি মেনাজ ফকিরের পায়ে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছি। কিন্তু তাতে মেনাজ ফকির ও তার লোকজনের মন গলাতে পারিনি। তারা আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় বিচার দাবি করছি।

নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের ছেলে জালাল হাওলাদার বলেন, আমার বাবাকে মেনাজ ফকির, মোতালেব, আদম আলী ফকির, আবুল মৃধা, মোস্তফাসহ ২০-২২ জন সন্ত্রাসী পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

পা ধরে প্রাণভিক্ষা চেয়েও বাঁচানো গেল না বৃদ্ধকে

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
২০ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বৃদ্ধ সোনা মিয়া শুনু হাওলাদারকে (৭০) বাঁচাতে প্রতিপক্ষের পা জড়িয়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চায় বৃদ্ধের ছোটভাই। তারপরও ফুফাতো ভাই মেনাজ ফকির ও তার লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে ওই বৃদ্ধকে।

ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার পূর্ব সোনাখালী গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে। পুলিশ নিহত সোনা মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব সোনাখালী গ্রামের সোনা মিয়া হাওলাদারের সাথে তার ফুফাতো ভাই পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের কাঞ্চনবাড়ীয়া গ্রামের মেনাজ ফকিরের সঙ্গে এক একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। 

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই জমিতে মেনাজ ফকির ২০-২২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষাবাদ শুরু করেন। খবর পেয়ে সোনা মিয়া হাওলাদার তাদের জমি চাষাবাদে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় ফুফাতো ভাই মেনাজ হাওলাদার। 

এক পর্যায়ে মেনাজ ফকির, মোতালেব, আদম আলী ফকির, আবুল মৃধা, মোস্তফা ও তার লোকজন বৃদ্ধ সোনা মিয়া হাওলাদারকে মারধর শুরু করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বৃদ্ধ সোনা মিয়াকে রক্ষায় তার ছোটভাই মো. আব্দুর রশিদ হাওলাদার এগিয়ে গিয়ে মেনাজ ফকিরের পা জড়িয়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করে ভাইয়ের প্রাণভিক্ষা চান। 

কিন্তু তাতেও তার মন গলেনি। সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকাবাসী সোনা মিয়াকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। ঘাতক মেনাজ ফকির ও তার লোকজন সোনা মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই দিন বিকালে পুলিশ তার মহদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করেছে। 

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বৃদ্ধ সোনা মিয়াকে প্রকাশ্যে দিবালোকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী সোনা মিয়ার হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, মেনাজ ফকিরের নেতৃত্বে ২০-২২ জন সন্ত্রাসী এসে জমিতে চাষাবাদ শুরু করে। এতে বাধা দেয় সোনা মিয়া হাওলাদার। একপর্যায় তারা সোনা মিয়া হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় আমরা শাস্তি দাবি করছি।

নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের ছোটভাই আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, ভাইকে রক্ষায় আমি মেনাজ ফকিরের পায়ে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছি। কিন্তু তাতে মেনাজ ফকির ও তার লোকজনের মন গলাতে পারিনি। তারা আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় বিচার দাবি করছি। 

নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের ছেলে জালাল হাওলাদার বলেন, আমার বাবাকে মেনাজ ফকির, মোতালেব, আদম আলী ফকির, আবুল মৃধা, মোস্তফাসহ ২০-২২ জন সন্ত্রাসী পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, নিহত সোনা মিয়া হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন