কুড়িগ্রামে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল
jugantor
কুড়িগ্রামে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

২০ এপ্রিল ২০২১, ২০:১৭:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে ৭ বছরের এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দুই মিনিট ত্রিশ সেকেন্ডের মারপিটের ভিডিওটি সবার হাতে হাতে পৌঁছানোর পর টনক নড়েছে প্রশাসনে।

লকডাউনে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে মাদ্রাসা চালু করে লেখাপড়া এবং নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি তদন্তে মাঠে নেমেছে জেলা পুলিশ বিভাগ।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোমবার বিকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ সালিশ বৈঠকে বসে। বৈঠকে ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক জানান, তাকে পানিশমেন্ট দিয়ে বিষয়টি সংশোধন করে নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ঢেবঢেবি বাজারে অবস্থিত ঢেবঢেবি বাজার কুলছুম কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। সেদিন বাড়ির কাজ না লিখে অন্য লেখা জমা দেয়ায় ঢেবঢেবি বাজারের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনের পুত্র লাম মিয়া ওরফে লাল মিয়াকে (৭) অমানবিকভাবে মারপিট করেন শিক্ষক আবু সাঈদ। লাম মিয়া ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামাতের শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মারপিটের ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়- মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সাঈদ টুপি মাথায় সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পড়া আদায় করছেন। তার বাম হাতে একটি খাতা বা বই ডান হাতে একটি বেত নিয়ে বসে আছেন। কিছুক্ষণ পরপর গোলাপি পাঞ্জাবি পরিহিত একজন শিক্ষার্থীকে কশাঘাত করছেন।

আরেকটি সাদা পাঞ্জাবি পরা শিশু শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে গুঁতা মেরে মাথা নিচু করে মাটিতে ফেলে পশ্চাৎ দেশে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। একপর্যায় অভিযুক্ত শিক্ষক রাগান্বিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাম হাত চেপে ধরে জোরে জোরে পেটাতে থাকেন। মার সহ্য করতে না পেরে ওই শিক্ষার্থী ‘মাগো’ বলে চিৎকার করে উঠে!

এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ওই শিক্ষক গায়ের জোরে শিশুটির উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে যান। এ সময় ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীরা নিশ্চুপ হয়ে যায়। ওই মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী গোপনে দেয়ালের ফুটো দিয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

নির্যাতনে শিকার শিশুটির পিতা মোতালেব হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, বাজারে ভিডিওটি দেখে ছেলেকে চিনতে পারি। নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছি। বাড়িতে গিয়ে ছেলের কাছে জানতে পারি হুজুরের ভয়ে বিষয়টি সে গোপন রেখেছে। এই হুজুর একই আচরণ করেছে আরও ৩-৪ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

তিনি জানান, হুজুররা শাসন করতেই পারে। তবে এমন অমানবিকভাবে মারপিট করা উচিত হয়নি। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা সুরাহা করে দেবে বলে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, ঘটনাটি প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগের। পরীক্ষা চলার সময়ে শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে বেয়াদবি করায় একটু শাসন করেছি। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে পানিশমেন্ট দিয়ে সংশোধন করে নিয়েছে।

অপরদিকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মৌলভী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক পাথরডুবি ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের পুত্র। তিনি দেড় বছর ধরে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। সোমবার বিকেল ৫টায় ওই শিক্ষার্থীর জ্যাঠাকে নিয়ে একটি মিটিং করা হয়েছে। মিটিংয়ে শিক্ষক আবু সাঈদকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে মোবাইলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, বিষয়টি আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি। ঘটনার সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসা চালু রাখা এবং শিশু নির্যাতনের অভিযোগসহ দুটি মামলা করা হবে।

কুড়িগ্রামে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
২০ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে ৭ বছরের এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দুই মিনিট ত্রিশ সেকেন্ডের মারপিটের ভিডিওটি সবার হাতে হাতে পৌঁছানোর পর টনক নড়েছে প্রশাসনে।

লকডাউনে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে মাদ্রাসা চালু করে লেখাপড়া এবং নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি তদন্তে মাঠে নেমেছে জেলা পুলিশ বিভাগ।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোমবার বিকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ সালিশ বৈঠকে বসে। বৈঠকে ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক জানান, তাকে পানিশমেন্ট দিয়ে বিষয়টি সংশোধন করে নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ঢেবঢেবি বাজারে অবস্থিত ঢেবঢেবি বাজার কুলছুম কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। সেদিন বাড়ির কাজ না লিখে অন্য লেখা জমা দেয়ায় ঢেবঢেবি বাজারের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনের পুত্র লাম মিয়া ওরফে লাল মিয়াকে (৭) অমানবিকভাবে মারপিট করেন শিক্ষক আবু সাঈদ। লাম মিয়া ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় জামাতের শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মারপিটের ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়- মাদ্রাসার শিক্ষক আবু সাঈদ টুপি মাথায় সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পড়া আদায় করছেন। তার বাম হাতে একটি খাতা বা বই ডান হাতে একটি বেত নিয়ে বসে আছেন। কিছুক্ষণ পরপর গোলাপি পাঞ্জাবি পরিহিত একজন শিক্ষার্থীকে কশাঘাত করছেন।

আরেকটি সাদা পাঞ্জাবি পরা শিশু শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে গুঁতা মেরে মাথা নিচু করে মাটিতে ফেলে পশ্চাৎ দেশে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। একপর্যায় অভিযুক্ত শিক্ষক রাগান্বিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাম হাত চেপে ধরে জোরে জোরে পেটাতে থাকেন। মার সহ্য করতে না পেরে ওই শিক্ষার্থী ‘মাগো’ বলে চিৎকার করে উঠে!

এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ওই শিক্ষক গায়ের জোরে শিশুটির উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে যান। এ সময় ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীরা নিশ্চুপ হয়ে যায়। ওই মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী গোপনে দেয়ালের ফুটো দিয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

নির্যাতনে শিকার শিশুটির পিতা মোতালেব হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, বাজারে ভিডিওটি দেখে ছেলেকে চিনতে পারি। নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছি। বাড়িতে গিয়ে ছেলের কাছে জানতে পারি হুজুরের ভয়ে বিষয়টি সে গোপন রেখেছে। এই হুজুর একই আচরণ করেছে আরও ৩-৪ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

তিনি জানান, হুজুররা শাসন করতেই পারে। তবে এমন অমানবিকভাবে মারপিট করা উচিত হয়নি। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা সুরাহা করে দেবে বলে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, ঘটনাটি প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগের। পরীক্ষা চলার সময়ে শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে বেয়াদবি করায় একটু শাসন করেছি। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে পানিশমেন্ট দিয়ে সংশোধন করে নিয়েছে।

অপরদিকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মৌলভী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক পাথরডুবি ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের পুত্র। তিনি দেড় বছর ধরে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। সোমবার বিকেল ৫টায় ওই শিক্ষার্থীর জ্যাঠাকে নিয়ে একটি মিটিং করা হয়েছে। মিটিংয়ে শিক্ষক আবু সাঈদকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে মোবাইলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, বিষয়টি আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি। ঘটনার সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসা চালু রাখা এবং শিশু নির্যাতনের অভিযোগসহ দুটি মামলা করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন