‘একটা নিউজ করেন ভাই, আমার মেয়েকে বাঁচান’
jugantor
‘একটা নিউজ করেন ভাই, আমার মেয়েকে বাঁচান’

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩২:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

‘একটা নিউজ করেন ভাই, আমার মেয়েকে বাঁচান’

‘একটা নিউজ করেন ভাই। আমার মেয়েকে বাঁচান।’- সাংবাদিককে সামনে পেয়ে কান্নাজড়িত এই আকুতি জানালেন এক মা।

পাবনার চাটমোহরের পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বড়গুয়াখড়া গ্রামের আসমা খাতুনের কণ্ঠে ঝরল এই আকুতি।

কিডনীর জটিল রোগে ভুগছে তার আঠার মাস বয়সী কন্যা মাইশা। মাইশার মুখমন্ডল ও শরীর ফুলে গেছে। আরামদায়ক ঘুম এ বয়সেই কপাল থেকে উধাও হয়ে গেছে তার। অসহনীয় যন্ত্রণায় বিছানায় ছটফট করেই শিশুটির কাটে প্রতিটি রাত। মাও নির্ঘুম রাত কাটান মেয়ের যন্ত্রণা দেখে কাঁদতে কাঁদতে।

একমাত্র মেয়ের কষ্ট মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই নির্মাণশ্রমিক বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা আসমা খাতুনের।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোমলমতি মাইশার কিডনীতে চর্বি জমেছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তা সারিয়ে ফেলা সম্ভব। এ চিকিৎসায় ব্যয় করতে হবে অনেক টাকা। নতুবা শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না!

চিকিৎসকদের মুখে এমন কথা শুনে মাথায় বাজ পড়েছে দিনমজুর মনিরুল ইসলামের।

করোনাকালীন সময়ে যেখান কর্মহীন হয়ে ঠিক মতো দু-বেলা খাবার খরচ জোগানো দায়, সেখানে মেয়ের চিকিৎসায় এত অর্থ কোথায় পাবেন! ডুকরে ডুকরে কাঁদা ছাড়া অসহায় বাবা-মার আর কিছুই করার নেই।

তবুও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়ের চিকিৎসা খরচ জোগাড়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। কিন্তু আশানুরূপ সহযোগিতা মিলছে না।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৮ মাস আগে মনিরুল-আসমা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় মাইশা। ৬ মাস বয়স পার হতেই হঠাৎ করে অসুস্থ হয় শিশুটি। মাইশাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান বাবা মনিরুর। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কয়েকমাস ভালোই ছিল মাইশা। কিন্তু এর কিছুদিন পর থেকে মাইশার পুরো শরীর ফুলতে থাকে। সারাদিন কান্নাকাটি করতে থাকে শিশুটি।

পরে মেয়ের এমন কষ্ট দেখে পাবনায় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. দিলরুবার কাছে নিয়ে যান বাবা-মা। সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর চিকিৎসক জানান মাইশার কিডনীতে চর্বি জমেছে। উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক টাকার প্রয়োজন।

চিকিৎসকের এমন কথা শুনে দিশেহারা বাবা-মা মাইশাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকও উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন।

কিন্তু ঢাকায় এনে মেয়েকে চিকিৎসা করানোর মতো এতটুকুন সামর্থ্য নেই মনিরুলের। এখন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ছোট্ট মাইশা।

যতোই দিন গড়াচ্ছে অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে মাইশার জীবন। আর মেয়ের চিকিৎসা খরচের সহযোগিতার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বাবা-মা।

কান্নাজড়িত কন্ঠে মাইশার মা আসমা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, গরীব মানুষের ঘরে আল্লাহ এমন রোগ দেন কেন? আল্লাহ তো সব দেখেন, সব জানেন। আমরা নিরুপায়! মেয়ের কষ্ট আমরা সহ্য করতে পারছি না। টাকার অভাবে কী আমার মেয়ে মারা যাবে? প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তশালীদের সহায়তা কামনা করে এ সময় এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘একটা নিউজ করেন ভাই। আমার মেয়েকে বাঁচান।’

সহযোগিতার জন্য মাইশার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই নাম্বারে- ০১৭৯১-০২৬৬১৫।

‘একটা নিউজ করেন ভাই, আমার মেয়েকে বাঁচান’

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘একটা নিউজ করেন ভাই, আমার মেয়েকে বাঁচান’
মায়ের কোলে যন্ত্রণায় কাঁদছে শিশু মাইশা। ছবি: যুগান্তর

‘একটা নিউজ করেন ভাই। আমার মেয়েকে বাঁচান।’- সাংবাদিককে সামনে পেয়ে কান্নাজড়িত এই আকুতি জানালেন এক মা। 

পাবনার চাটমোহরের পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বড়গুয়াখড়া গ্রামের আসমা খাতুনের কণ্ঠে ঝরল এই আকুতি।

কিডনীর জটিল রোগে ভুগছে তার আঠার মাস বয়সী কন্যা মাইশা। মাইশার মুখমন্ডল ও শরীর ফুলে গেছে। আরামদায়ক ঘুম এ বয়সেই কপাল থেকে উধাও হয়ে গেছে তার। অসহনীয় যন্ত্রণায় বিছানায় ছটফট করেই শিশুটির কাটে প্রতিটি রাত। মাও নির্ঘুম রাত কাটান মেয়ের যন্ত্রণা দেখে কাঁদতে কাঁদতে।

একমাত্র মেয়ের কষ্ট মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই নির্মাণশ্রমিক বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা আসমা খাতুনের। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোমলমতি মাইশার কিডনীতে চর্বি জমেছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তা সারিয়ে ফেলা সম্ভব। এ চিকিৎসায় ব্যয় করতে হবে অনেক টাকা। নতুবা শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না! 

চিকিৎসকদের মুখে এমন কথা শুনে মাথায় বাজ পড়েছে দিনমজুর মনিরুল ইসলামের। 

করোনাকালীন সময়ে যেখান কর্মহীন হয়ে ঠিক মতো দু-বেলা খাবার খরচ জোগানো দায়, সেখানে মেয়ের চিকিৎসায় এত অর্থ কোথায় পাবেন! ডুকরে ডুকরে কাঁদা ছাড়া অসহায় বাবা-মার আর কিছুই করার নেই।

তবুও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়ের চিকিৎসা খরচ জোগাড়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। কিন্তু আশানুরূপ সহযোগিতা মিলছে না।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৮ মাস আগে মনিরুল-আসমা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় মাইশা। ৬ মাস বয়স পার হতেই হঠাৎ করে অসুস্থ হয় শিশুটি। মাইশাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান বাবা মনিরুর। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কয়েকমাস ভালোই ছিল মাইশা। কিন্তু এর কিছুদিন পর থেকে মাইশার পুরো শরীর ফুলতে থাকে। সারাদিন কান্নাকাটি করতে থাকে শিশুটি। 

পরে মেয়ের এমন কষ্ট দেখে পাবনায় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. দিলরুবার কাছে নিয়ে যান বাবা-মা। সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর চিকিৎসক জানান মাইশার কিডনীতে চর্বি জমেছে। উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক টাকার প্রয়োজন। 

চিকিৎসকের এমন কথা শুনে দিশেহারা বাবা-মা মাইশাকে  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকও উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন।

কিন্তু ঢাকায় এনে মেয়েকে চিকিৎসা করানোর মতো এতটুকুন সামর্থ্য নেই মনিরুলের। এখন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ছোট্ট মাইশা। 

যতোই দিন গড়াচ্ছে অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে মাইশার জীবন। আর মেয়ের চিকিৎসা খরচের সহযোগিতার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বাবা-মা। 

কান্নাজড়িত কন্ঠে মাইশার মা আসমা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, গরীব মানুষের ঘরে আল্লাহ এমন রোগ দেন কেন? আল্লাহ তো সব দেখেন, সব জানেন। আমরা নিরুপায়! মেয়ের কষ্ট আমরা সহ্য করতে পারছি না। টাকার অভাবে কী আমার মেয়ে মারা যাবে? প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তশালীদের সহায়তা কামনা করে এ সময় এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘একটা নিউজ করেন ভাই। আমার মেয়েকে বাঁচান।’

সহযোগিতার জন্য মাইশার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই নাম্বারে- ০১৭৯১-০২৬৬১৫।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন