খরস্রোতা নদী এখন ফসলের মাঠ
jugantor
খরস্রোতা নদী এখন ফসলের মাঠ

  মো. নাজিম উদ্দিন, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)  

২১ এপ্রিল ২০২১, ১৮:০৩:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের ফুলপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের খরস্রোতা খড়িয়া নদী এখন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা হয়ে খড়িয়া নদী ফুলপুরের রামভদ্রপুর, ভাইটকান্দি, পয়ারী, রূপসী ও ফুলপুর ইউনিয়নের বুক চিরে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে কংশ নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

এক সময় খড়িয়া নদী ছিল প্রমত্তা খরস্রোতা। সারা বছর ছিল বুকভরা অথৈ জল। প্রতিনিয়ত আনাগোনা ছিল নানা জাতের পালতোলা নৌকার। প্রায় ৪০ বছর আগেও পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিরাট ভূমিকা রাখতো এ নদী।

বিভিন্ন জেলার বড় সওদাগর রাত-দিন পরিশ্রম করে মালবাহী নৌকা ও লঞ্চ নিয়ে হাজির হতেন ফুলপুরের বিভিন্ন ঘাটে। এ নদীকে কেন্দ্র করে ফুলপুরের রামভদ্রপুর, বাহাদুরপুর, আমুয়াকান্দা, ছনকান্দা, রূপসী, ডেফুলিয়াসহ ছোট বড় অনেক হাট-বাজার গড়ে উঠেছিল।

প্রায় ২০ বছর আগেও ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার অনেক লোকজন এ নদী পথে নৌকায় যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন করতেন। জেলেসহ আশপাশের লোকজন সারা বছর মাছ আহরণ করতেন। সময়ের বিবর্তনে আজ সেগুলো শুধুই ইতিহাস।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাঁধসহ রামভদ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে স্লুইস গেট নির্মাণ করেন। এতে পানিপ্রবাহ কমে দিন দিন নদীটি ভরাট হয়ে ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। স্রোত না থাকায় বর্ষা মৌসুমে কুচুরিপানায় ভরপুর থাকে। ফলে সে সময়ও নৌকার চলাচল সম্ভব হয় না।

এ ব্যাপারে চরনিয়ামত গ্রামের শিক্ষক মো. এসকান্দর হোসেন জানান, নদীকে বাঁচাতে ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থলসহ খনন করতে হবে।

রূপসী বাজারের পল্লী চিকিৎসক মজিবর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি হলেও রূপসীর নির্মিত ব্রিজটির উচ্চতা কম হওয়ায় নিচ দিয়ে নৌকা যেতে পারে না। খননের পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ ব্রিজ সংস্কার করলে নদীটি হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

খরস্রোতা নদী এখন ফসলের মাঠ

 মো. নাজিম উদ্দিন, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) 
২১ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের ফুলপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের খরস্রোতা খড়িয়া নদী এখন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা হয়ে খড়িয়া নদী ফুলপুরের রামভদ্রপুর, ভাইটকান্দি, পয়ারী, রূপসী ও ফুলপুর ইউনিয়নের বুক চিরে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে কংশ নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 

এক সময় খড়িয়া নদী ছিল প্রমত্তা খরস্রোতা। সারা বছর ছিল বুকভরা অথৈ জল। প্রতিনিয়ত আনাগোনা ছিল নানা জাতের পালতোলা নৌকার। প্রায় ৪০ বছর আগেও পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিরাট ভূমিকা রাখতো এ নদী। 

বিভিন্ন জেলার বড় সওদাগর রাত-দিন পরিশ্রম করে মালবাহী নৌকা ও লঞ্চ নিয়ে হাজির হতেন ফুলপুরের বিভিন্ন ঘাটে। এ নদীকে কেন্দ্র করে ফুলপুরের রামভদ্রপুর, বাহাদুরপুর, আমুয়াকান্দা, ছনকান্দা, রূপসী, ডেফুলিয়াসহ ছোট বড় অনেক হাট-বাজার গড়ে উঠেছিল।

প্রায় ২০ বছর আগেও ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট ও ফুলপুর উপজেলার অনেক লোকজন এ নদী পথে নৌকায় যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন করতেন। জেলেসহ আশপাশের লোকজন সারা বছর মাছ আহরণ করতেন। সময়ের বিবর্তনে আজ  সেগুলো শুধুই ইতিহাস। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাঁধসহ রামভদ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে স্লুইস গেট নির্মাণ করেন। এতে পানিপ্রবাহ কমে দিন দিন নদীটি ভরাট হয়ে ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। স্রোত না থাকায় বর্ষা মৌসুমে কুচুরিপানায় ভরপুর থাকে। ফলে সে সময়ও নৌকার চলাচল সম্ভব হয় না।

এ ব্যাপারে চরনিয়ামত গ্রামের শিক্ষক মো. এসকান্দর হোসেন জানান, নদীকে বাঁচাতে ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থলসহ খনন করতে হবে। 

রূপসী বাজারের পল্লী চিকিৎসক মজিবর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি হলেও রূপসীর নির্মিত ব্রিজটির উচ্চতা কম হওয়ায় নিচ দিয়ে নৌকা যেতে পারে না। খননের পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ ব্রিজ সংস্কার করলে নদীটি হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।     

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন