নিয়ামতপুরে ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮
jugantor
নিয়ামতপুরে ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮

  নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪৯:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁর নিয়ামতপুরে বোরো ধান কাটাকে কেন্দ্র করে তীর ধনুক নিয়ে আদিবাসী দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ২ নারীসহ অন্তত আরো ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় নিয়ামতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকালে উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের মাসনা গ্রামের পাশ্ববর্তী বোরো ধান ক্ষেতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়ন বান্দইল বিচিবাড়ী গ্রামের মৃত-তারণ সরদারের আরএস রেকর্ডভুক্ত ৩ একর ৫৬ শতক কৃষি জমিতে মৃত-মসি সরদারের ছেলে বুধু সরদার, তারানু সরদার, বিধানের ছেলে খোকা টপ্প, মৃত-তারণ সরদারের ছেলে বিধান সরদার বোরো ধান রোপন করেছিলেন। রোপনের পর থেকে সে ধান দেখভালও করছিলেন তারা। রোপিত সে ধান পেকে এখন ঘরে তোলার সময় হওয়ায় তারা বুধবার ধান কাটতে মাঠে নামেন।

এসময় ওঁৎ পেতে থাকা মাসনা গ্রামের বনমালির নেতৃত্বে তার ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা আকস্মিক হাসুয়া, তীর ধনুকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণচালায় তাদের উপর। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৮/১০ জন আহত হন।

আহতরা হলেন, বান্দইল বিচিবাড়ী গ্রামের মসি সরদারের ছেলে বুধু (৬০), তারানু (৬৫), মন্টুর স্ত্রী বুঝমনি (৫০), মৃত- খগনার ছেলে সারিতন (৩৫),চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার হরিসপুর দেওপুরা গ্রামের মজিদের ছেলে বিজয় (১৫), পোরশা উপজেলার নোনাহার গ্রামের সিনাই এর মেয়ে কবিতা (১৯), এবং আক্রমনকারীদের মাসনা গ্রামের মহাদেবের ছেলে অতিস কুজুর (৫০), দেবেন্দ্রর ছেলে রিপন (৩০) ও প্রশান্ত (৩৫)।

এদের মধ্যে বুধুর (৬০) অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাঁকী আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ অবস্থায় সারিতন, কবিতা ও তারানুকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ আহমেদ জানান, প্রত্যেককেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আগেই বিজয়, সারিতন এবং কবিতাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বুধু এবং তারানুকেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। এমতাবস্থায় বুধু মারা যায়।

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ হুমায়ুন কবির বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিয়ামতপুরে ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮

 নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি  
২২ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁর নিয়ামতপুরে বোরো ধান কাটাকে কেন্দ্র করে তীর ধনুক নিয়ে আদিবাসী দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ২ নারীসহ অন্তত আরো ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় নিয়ামতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

বুধবার বিকালে উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের মাসনা গ্রামের পাশ্ববর্তী বোরো ধান ক্ষেতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়ন বান্দইল বিচিবাড়ী গ্রামের মৃত-তারণ সরদারের আরএস রেকর্ডভুক্ত ৩ একর ৫৬ শতক কৃষি জমিতে মৃত-মসি সরদারের ছেলে বুধু সরদার, তারানু সরদার, বিধানের ছেলে খোকা টপ্প, মৃত-তারণ সরদারের ছেলে বিধান সরদার বোরো ধান রোপন করেছিলেন। রোপনের পর থেকে সে ধান দেখভালও করছিলেন তারা। রোপিত সে ধান পেকে এখন ঘরে তোলার সময় হওয়ায় তারা বুধবার ধান কাটতে মাঠে নামেন। 

এসময় ওঁৎ পেতে থাকা মাসনা গ্রামের বনমালির নেতৃত্বে তার ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা আকস্মিক হাসুয়া, তীর ধনুকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায় তাদের উপর। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৮/১০ জন আহত হন।

আহতরা হলেন, বান্দইল বিচিবাড়ী গ্রামের মসি সরদারের ছেলে বুধু (৬০), তারানু (৬৫), মন্টুর স্ত্রী বুঝমনি (৫০), মৃত- খগনার ছেলে সারিতন (৩৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার হরিসপুর দেওপুরা গ্রামের মজিদের ছেলে বিজয় (১৫), পোরশা উপজেলার নোনাহার গ্রামের সিনাই এর মেয়ে কবিতা (১৯), এবং আক্রমনকারীদের মাসনা গ্রামের মহাদেবের ছেলে অতিস কুজুর (৫০), দেবেন্দ্রর ছেলে রিপন (৩০) ও প্রশান্ত (৩৫)। 

এদের মধ্যে বুধুর (৬০) অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাঁকী আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ অবস্থায় সারিতন, কবিতা ও তারানুকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। 

নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ আহমেদ জানান, প্রত্যেককেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আগেই বিজয়, সারিতন এবং কবিতাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বুধু এবং তারানুকেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। এমতাবস্থায় বুধু মারা যায়।

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ হুমায়ুন কবির বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন