টিসিবির পচা পেঁয়াজ জোরপূর্বক বিক্রির অভিযোগ
jugantor
টিসিবির পচা পেঁয়াজ জোরপূর্বক বিক্রির অভিযোগ

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

২২ এপ্রিল ২০২১, ১৮:১০:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের মাঝে টিসিবি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এ চাহিদাকে পুঁজি করে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ক্রেতাদের বৃহস্পতিবার জোরপূর্বক পচা পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গৌরীপুরে সেহরি খাওয়ার পর থেকে উপজেলা পরিষদের ভিতরে টিসিবির পণ্যের জন্য ইট, চটের বস্তা, ব্যাগ আর জুতা দিয়ে চলে স্থান দখল। পণ্য বিতরণের নির্ধারিত তারিখ ও সময় না থাকায় ক্রেতারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সপ্তাহে ২-৩ দিন মাল পেলেও, বাকি ২-৩ দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খালি ব্যাগ নিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে খোদ সরকারি সংস্থা টিসিবি প্রতিদিনই এমন পচা পেঁয়াজ বাজারজাত করার অভিযোগ স্বীকার করেন টিসিবির ডিলার গণেষ সরকার। তিনি বলেন, আমরা নিরুপায়, টিসিবি যে পণ্য সরবরাহ করবে আমরা গ্রাহকদের মাঝে সেই পণ্যই বিক্রি করছি।

এদিকে পচা পেঁয়াজ নিয়ে বিক্ষুব্ধ ক্রেতা মাটিতে পেঁয়াজ ফেলে প্রতিবাদ জানান। গোলকপুর মহল্লার সুরুজ আলী এই প্রতিনিধিকে বলেন, সারাদিন কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে টাকা কামাই। নষ্ট পচা পেঁয়াজ নেব না।
এই ক্রেতার সুরে পূর্বদাপুনিয়ার আছিয়া খাতুন, মধ্যবাজারের আরিফ আহাম্মেদ, গাঁওগৌরীপুরের সবুজ মিয়া, বাড়িওয়ালাপাড়ার তালেব হুসেন মাটিতে পেঁয়াজ ফেলে দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের দাবি, টাকা দিয়ে পচা পেঁয়াজ কেন; শর্ত দিয়ে টিসিবির মাল দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

ইসলামাবাদের আমির হোসেন বলেন, আমার বুটের প্রয়োজন নেই, চিনি আর তেলের প্রয়োজন অথচ আমাদের বুট কিনতেও বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা দিয়ে মাল নেব, শর্ত কেন?

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ। তিনি বিক্ষুব্ধ ক্রেতাদের পেঁয়াজ বদলে দেয়ার জন্য ডিলারকে নির্দেশ দেন।

অপরদিকে তোয়া এন্টারপ্রাইজও অনুরূপ পেঁয়াজ বিক্রি করে যাচ্ছে। গাড়িতে পেঁয়াজ বিক্রির সময় টিসিবির নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, পচা আনছি, পচাই দিমু। পচা পেঁয়াজ নিয়ে অবশ্য তোয়া এন্ট্রারপ্রাইজের ম্যানেজার সুব্রত রায় বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। ভালোটা দিতে, আসলে পেঁয়াজ খারাপ, আমাদের তেমন কিছু করার নেই।

আরেক ডিলার আলী এন্টারপ্রাইজের মালিক আলী হায়দার রবিন জানান, লাভ-লোকসানের জন্য ব্যবসা করি। পচাটা বাদ দিয়ে ভালোটা বিক্রি করব কীভাবে।

টিসিবির অফিসপ্রধান (ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী) মো. বজলুর রশিদ জানান, কোনো অবস্থাতেই ক্রেতাকে পচা বা নষ্ট পেঁয়াজ দেয়ার সুযোগ নেই। যেটুকু ভালো সেটুকুই বিক্রি করবে।

টিসিবির পচা পেঁয়াজ জোরপূর্বক বিক্রির অভিযোগ

 গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
২২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের মাঝে টিসিবি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এ চাহিদাকে পুঁজি করে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ক্রেতাদের বৃহস্পতিবার জোরপূর্বক পচা পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

গৌরীপুরে সেহরি খাওয়ার পর থেকে উপজেলা পরিষদের ভিতরে টিসিবির পণ্যের জন্য ইট, চটের বস্তা, ব্যাগ আর জুতা দিয়ে চলে স্থান দখল। পণ্য বিতরণের নির্ধারিত তারিখ ও সময় না থাকায় ক্রেতারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সপ্তাহে ২-৩ দিন মাল পেলেও, বাকি ২-৩ দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খালি ব্যাগ নিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে খোদ সরকারি সংস্থা টিসিবি প্রতিদিনই এমন পচা পেঁয়াজ বাজারজাত করার অভিযোগ স্বীকার করেন টিসিবির ডিলার গণেষ সরকার। তিনি বলেন, আমরা নিরুপায়, টিসিবি যে পণ্য সরবরাহ করবে আমরা গ্রাহকদের মাঝে সেই পণ্যই বিক্রি করছি। 

এদিকে পচা পেঁয়াজ নিয়ে বিক্ষুব্ধ ক্রেতা মাটিতে পেঁয়াজ ফেলে প্রতিবাদ জানান। গোলকপুর মহল্লার সুরুজ আলী এই প্রতিনিধিকে বলেন, সারাদিন কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে টাকা কামাই। নষ্ট পচা পেঁয়াজ নেব না। 
এই ক্রেতার সুরে পূর্বদাপুনিয়ার আছিয়া খাতুন, মধ্যবাজারের আরিফ আহাম্মেদ, গাঁওগৌরীপুরের সবুজ মিয়া, বাড়িওয়ালাপাড়ার তালেব হুসেন মাটিতে পেঁয়াজ ফেলে দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের দাবি, টাকা দিয়ে পচা পেঁয়াজ কেন; শর্ত দিয়ে টিসিবির মাল দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। 

ইসলামাবাদের আমির হোসেন বলেন, আমার বুটের প্রয়োজন নেই, চিনি আর তেলের প্রয়োজন অথচ আমাদের বুট কিনতেও বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা দিয়ে মাল নেব, শর্ত কেন? 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ। তিনি বিক্ষুব্ধ ক্রেতাদের পেঁয়াজ বদলে দেয়ার জন্য ডিলারকে নির্দেশ দেন। 

অপরদিকে তোয়া এন্টারপ্রাইজও অনুরূপ পেঁয়াজ বিক্রি করে যাচ্ছে। গাড়িতে পেঁয়াজ বিক্রির সময় টিসিবির নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, পচা আনছি, পচাই দিমু। পচা পেঁয়াজ নিয়ে অবশ্য তোয়া এন্ট্রারপ্রাইজের ম্যানেজার সুব্রত রায় বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। ভালোটা দিতে, আসলে পেঁয়াজ খারাপ, আমাদের তেমন কিছু করার নেই। 

আরেক ডিলার আলী এন্টারপ্রাইজের মালিক আলী হায়দার রবিন জানান, লাভ-লোকসানের জন্য ব্যবসা করি। পচাটা বাদ দিয়ে ভালোটা বিক্রি করব কীভাবে। 

টিসিবির অফিসপ্রধান (ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী) মো. বজলুর রশিদ জানান, কোনো অবস্থাতেই ক্রেতাকে পচা বা নষ্ট পেঁয়াজ দেয়ার সুযোগ নেই। যেটুকু ভালো সেটুকুই বিক্রি করবে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন