সেই ইভার পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী পলক
jugantor
সেই ইভার পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী পলক

  বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ১৮:১০:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অদম্য মেধাবী সেই ইভা খাতুনের পাশে দাঁড়ালেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি ইভাকে ফোনে মেডিকেল কলেজে পড়ালেখার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈদের খরচের জন্য দশ হাজার টাকাও পাঠিয়েছেন তিনি। শুক্রবার ইভা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বুধবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির আর্থিক দায়িত্ব নেন বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াংকা দেবী পাল। একই সঙ্গে ‘আমার হৃদয়ে নাটোর’ ও ‘পুসান’ নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

ইভা খাতুন জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি দৃষ্টিগোচরে এলে বৃহস্পতিবার দুপুরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী তাকে ফোন করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। মন্ত্রী ইভাকে মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং মেডিকেল কলেজে পড়ালেখার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান। ওই দিনই সন্ধ্যায় ঈদের খরচের জন্য দশ হাজার টাকাও পাঠিয়ে দেন মন্ত্রী। এজন্য ইভার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এছাড়াও বাগাতিপাড়ার ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পালসহ অনেকে ফোন করে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান ইভা খাতুন।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের বলেন, জীবনসংগ্রামী এক মায়ের চেষ্টায় ইভা খাতুন প্রতিযোগিতাপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ভর্তির সুযোগ করে নিতে পেরেছে জেনে খুশি হয়েছি। এখন তার ডাক্তার হওয়ার জন্য যা যা সহযোগিতা দরকার, তা আমি ব্যক্তিগতভাবে করতে চাই। আমি বেঁচে থাকলে তার ডাক্তারি পড়ায় কোনো সমস্যা হবে না।

প্রসঙ্গত, বাগাতিপাড়া উপজেলার সলইপাড়া গ্রামের ঝরনা বেগম ও মৃত ইউসুফ আলীর মেয়ে ইভা খাতুন। তার বয়স যখন দুই বছর চার মাস, তখন তার বাবা কিডনিজনিত সমস্যায় মারা যান। এরপর থেকে অভাব-অনটনের সংসারে মেয়ে বড় হতে থাকে। শেষ সম্বল ১৫ শতাংশ জমিও স্বামীর চিকিৎসা করাতে বন্ধক রাখতে হয়েছে ঝরনা বেগমকে।

তাকে টিউশনি করে অনেক কষ্টে সংসার ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়েছে। চলতি বছর মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ইভা খাতুন। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি ও পড়ালেখা চালানোর আর্থিক সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। ফলে তার পড়ালেখা ও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ বিষয় নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি সবার দৃষ্টিগোচর হয়।

সেই ইভার পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী পলক

 বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অদম্য মেধাবী সেই ইভা খাতুনের পাশে দাঁড়ালেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। 

তিনি ইভাকে ফোনে মেডিকেল কলেজে পড়ালেখার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈদের খরচের জন্য দশ হাজার টাকাও পাঠিয়েছেন তিনি। শুক্রবার ইভা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে গত বুধবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির আর্থিক দায়িত্ব নেন বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াংকা দেবী পাল। একই সঙ্গে ‘আমার হৃদয়ে নাটোর’ ও ‘পুসান’ নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। 

ইভা খাতুন জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি দৃষ্টিগোচরে এলে বৃহস্পতিবার দুপুরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী তাকে ফোন করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। মন্ত্রী ইভাকে মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং মেডিকেল কলেজে পড়ালেখার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান। ওই দিনই সন্ধ্যায় ঈদের খরচের জন্য দশ হাজার টাকাও পাঠিয়ে দেন মন্ত্রী। এজন্য ইভার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 

এছাড়াও বাগাতিপাড়ার ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পালসহ অনেকে ফোন করে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান ইভা খাতুন। 

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের বলেন, জীবনসংগ্রামী এক মায়ের চেষ্টায় ইভা খাতুন প্রতিযোগিতাপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ভর্তির সুযোগ করে নিতে পেরেছে জেনে খুশি হয়েছি। এখন তার ডাক্তার হওয়ার জন্য যা যা সহযোগিতা দরকার, তা আমি ব্যক্তিগতভাবে করতে চাই। আমি বেঁচে থাকলে তার ডাক্তারি পড়ায় কোনো সমস্যা হবে না।

প্রসঙ্গত, বাগাতিপাড়া উপজেলার সলইপাড়া গ্রামের ঝরনা বেগম ও মৃত ইউসুফ আলীর মেয়ে ইভা খাতুন। তার বয়স যখন দুই বছর চার মাস, তখন তার বাবা কিডনিজনিত সমস্যায় মারা যান। এরপর থেকে অভাব-অনটনের সংসারে মেয়ে বড় হতে থাকে। শেষ সম্বল ১৫ শতাংশ জমিও স্বামীর চিকিৎসা করাতে বন্ধক রাখতে হয়েছে ঝরনা বেগমকে। 

তাকে টিউশনি করে অনেক কষ্টে সংসার ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়েছে। চলতি বছর মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ইভা খাতুন। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি ও পড়ালেখা চালানোর আর্থিক সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। ফলে তার পড়ালেখা ও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ বিষয় নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি সবার দৃষ্টিগোচর হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন