প্রশাসনের ইন্ধনেই রাবির মাটি হরিলুট!
jugantor
প্রশাসনের ইন্ধনেই রাবির মাটি হরিলুট!

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫২:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৫ দিন ধরে পুকুর খননের নামে কোটি কোটি টাকার মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। প্রশাসনের চোখের সামনেই ট্রাকভর্তি মাটি বাইরে বিক্রি করলেও সেটি বন্ধ করতে পারছে না।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ইন্ধনেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মাটি হরিলুট হচ্ছে। শুক্রবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাবি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের শিক্ষকরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- প্রশাসনের ইন্ধন আছে বলেই প্রশাসন এ প্রক্রিয়া বন্ধে বা ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ হরিলুট বা বিধিবহির্ভূতভাবে কারও কাছে ছেড়ে দেয়া অথবা এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা নিশ্চিতভাবেই দুর্নীতি ও হরিলুটকে সমর্থনের শামিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়- বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর প্রতিটি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রশাসনের। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি দফতর যেমন- কৃষি প্রকল্প, এস্টেট এবং প্রক্টরিয়াল অফিসও রয়েছে।

এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্রয় ও ইন্ধন রয়েছে এবং প্রকারান্তরে তারা এ ন্যক্কারজনক কাজে জড়িত বলে জাতির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান তার দায়িত্বের শেষদিকে কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন তারা।

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক ড. মো. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, রাতের অন্ধকারে শত শত ট্রাক মাটি বাইরের ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে। এ প্রকল্পের প্রধান উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহাকে বারবার অবগত করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। অবিলম্বে মাটি চুরি বন্ধ এবং তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

কৃষি প্রকল্পপ্রধান প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা জানান, মাটি চুরির বিষয়টি ভিসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি।

সামগ্রিক বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য রাবি ভিসি এম আব্দুস সোবহানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চে শহিদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বপাশের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের টেন্ডার হয়। এতে মাসুদ রানা ও অহনা ট্রেডার্স নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান এ ইজারা পায়। তবে শর্ত ভঙ্গ করে গত ২৭ মার্চ থেকে খননরত পুকুরের মাটি ট্রাকভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে থাকে জোহা হলের পূর্ব-দক্ষিণ জলাশয় লিজ গ্রহীতা দুই পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি- মাটি বিক্রি বন্ধে দুই দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না।

প্রশাসনের ইন্ধনেই রাবির মাটি হরিলুট!

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৫ দিন ধরে পুকুর খননের নামে কোটি কোটি টাকার মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। প্রশাসনের চোখের সামনেই ট্রাকভর্তি মাটি বাইরে বিক্রি করলেও সেটি বন্ধ করতে পারছে না। 

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ইন্ধনেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মাটি হরিলুট হচ্ছে। শুক্রবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাবি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের শিক্ষকরা। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- প্রশাসনের ইন্ধন আছে বলেই প্রশাসন এ প্রক্রিয়া বন্ধে বা ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ হরিলুট বা বিধিবহির্ভূতভাবে কারও কাছে ছেড়ে দেয়া অথবা এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা নিশ্চিতভাবেই দুর্নীতি ও হরিলুটকে সমর্থনের শামিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়- বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর প্রতিটি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রশাসনের। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি দফতর যেমন- কৃষি প্রকল্প, এস্টেট এবং প্রক্টরিয়াল অফিসও রয়েছে। 

এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্রয় ও ইন্ধন রয়েছে এবং প্রকারান্তরে তারা এ ন্যক্কারজনক কাজে জড়িত বলে জাতির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান তার দায়িত্বের শেষদিকে কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন তারা। 

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক ড. মো. হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, রাতের অন্ধকারে শত শত ট্রাক মাটি বাইরের ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে। এ প্রকল্পের প্রধান উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহাকে বারবার অবগত করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। অবিলম্বে মাটি চুরি বন্ধ এবং তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

কৃষি প্রকল্পপ্রধান প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা জানান, মাটি চুরির বিষয়টি ভিসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি।

সামগ্রিক বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য রাবি ভিসি এম আব্দুস সোবহানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।   

প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চে শহিদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বপাশের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের টেন্ডার হয়। এতে মাসুদ রানা ও অহনা ট্রেডার্স নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান এ ইজারা পায়। তবে শর্ত ভঙ্গ করে গত ২৭ মার্চ থেকে খননরত পুকুরের মাটি ট্রাকভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে থাকে জোহা হলের পূর্ব-দক্ষিণ জলাশয় লিজ গ্রহীতা দুই পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি- মাটি বিক্রি বন্ধে দুই দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন