কেসিসি নির্বাচন শেখ পরিবারকে মাথা না ঘামানোর আহ্বান মঞ্জুর

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ২১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  খুলনা ব্যুরো

মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ফাইল ছবি)

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন শেখ পরিবারের সদস্যরা খুবই কর্মতৎপর হয়ে উঠেছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গভীর রাতে বৈঠক ও বিভিন্ন মেসেজ দিচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগের।

বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কে.ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

তিনি কেসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ পরিবারকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এই ছোটখাটো নির্বাচনে না জড়িয়ে জাতীয়ভাবে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন নিয়ে ভাবুন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহার করতে চায়। তারা যেন সেই অসৎ উদ্দেশ্য, অসৎ স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত না হন। এসব বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে জানানো হবে।

মেয়র প্রার্থী মঞ্জু বলেন, সরকার চায় ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে না যায়। রাষ্ট্রের সব যন্ত্র যেন সরকারি দলের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে। আমরা চাই কেসিসিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এ শহরের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে, ধানের শীষকে ভালোবাসে এবং ধানের শীষে ভোট দিতে তারা অভ্যস্ত। সেই শহরের মানুষের রায়ের প্রতি যাদের আস্থা নেই, তারা কানাগলি খুঁজছেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে চেয়ারপারসনের ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। মঙ্গলবার প্রতীক পেয়ে প্রচার যাত্রার শুরু থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত গণমাধ্যম কর্মীদের জনগণের পাশে থেকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, এই নির্বাচন যদি অবাধ সুষ্ঠু না হয়; এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়,এটিই হবে সরকারের গলার কাঁটা। দেশের একটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ এবং সারা বিশ্ব।

তিনি বলেন, চীন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতও বলেছে একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। তাই এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। কারণ সরকার যে ভোট ডাকাত,আওয়ামী লীগ যে আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করবে সেটি প্রমাণিত হবে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফারুকের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি বাহিনী ১০-১৫টা মোটরসাইকেল নিয়ে তার পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়েছে। আর এ হুমকি দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

এ মেয়র প্রার্থী বলেন, ৩০নং ওয়ার্ডে সাবেক হুইপের ভাই দ্বারা বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ৩১নং ওয়ার্ডে একজন দাঙ্গাবাজ ছাত্রলীগ নেতা ও তার কর্মীরা ওখানে একই হুমকি দিচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মতৎপরতা শুরু হয়েছে গত পরশুদিন রাত থেকে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, আমীর এজাজ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।