হতদরিদ্রদের ঘরের অনিয়মের অভিযোগকারী যুবলীগ নেতাকে তুলে নেন ইউএনও
jugantor
হতদরিদ্রদের ঘরের অনিয়মের অভিযোগকারী যুবলীগ নেতাকে তুলে নেন ইউএনও

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

২৫ এপ্রিল ২০২১, ২১:৫৯:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে হতদরিদ্রদের ঘরের অনিয়মের অভিযোগ দেয়া যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ীকে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশে তার অফিসের কর্মচারী এনামুল হক বাদশার নেতৃত্বে সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ সন্ত্রাসী তুলে আনে। পরে ইউএনওর বাসায় যুবলীগ নেতাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেন যুবলীগ নেতা।

যুবলীগ নেতাকে তুলে নেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সন্ত্রাসী এনামুল হক বাদশা, সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে দ্বিতীয় ধাপে আমতলী উপজেলায় হতদরিদ্রদের জন্য ৩৫০টি ঘর বরাদ্দ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই প্রকল্পের গুলিশাখালী ইউনিয়নে ৫০টি ঘর বরাদ্দ দেন ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান। ওই ঘরগুলোর মধ্যে ইউএনও কার্যালয়ের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. এনামুল হক বাদশার নিজ গ্রাম হরিদ্রবাড়িয়ায় দেয় ৩০টি। তার মধ্যে ১৪টি ঘর পেয়েছেন মো. এনামুল হক বাদশার আত্মীয়রা। তারা সবাই ধনাঢ্য ব্যক্তি।

ইউএনও ও তার অফিসের কর্মচারী এনামুল হক বাদশা ঘরের তালিকা তৈরি ও টাকা নিয়ে ঘর দেয়ার অভিযোগ এনে গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল রাঢ়ী বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য তুলে ধরেন। এতে ক্ষিপ্ত হন ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান ও তার অফিসের কর্মচারী মো. এনামুল হক বাদশা।

এর জের ধরে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউএনওর নির্দেশে এনামুল হক বাদশার নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ জন যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ীকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসেন। সাড়ে চার ঘণ্টা সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়- এমন অভিযোগ যুবলীগ নেতা কামালের।

পরে সন্ত্রাসীরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে যুবলীগ নেতাকে ইউএনও আসাদুজ্জামানের বাসায় নিয়ে আসে। তার বাসায় ইউএনও যুবলীগ নেতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছামতো ভিডিও ধারণ করেন- এমন অভিযোগ যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ীর। রাত দেড়টার দিকে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান তাকে ছেড়ে দেন।

যুবলীগ নেতাকে ইউএনওর লোকজন তুলে আনার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রোববার সকালে সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজী এলাকার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে এনামুল হক বাদশার নেতৃত্বে সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ জন সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে কামাল রাঢ়ীকে তুলে নিয়ে গেছেন। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ী অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশে তার সন্ত্রাসী সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ জন লোক আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে আসে। পরে তারা চার ঘণ্টা আমাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে জীবননাশের হুমকি দেয় এবং অভিযোগ তুলে নিতে চাপপ্রয়োগ করে।

তিনি আরও বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে সন্ত্রাসী সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ সন্ত্রাসী আমাকে ইউএনওর বাসায় তুলে নিয়ে আসে। ওই খানে এনে ইউএনও আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছামতো ভিডিও ধারণ করে। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের আলোকে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হতদরিদ্রদের ঘরের অনিয়মের অভিযোগকারী যুবলীগ নেতাকে তুলে নেন ইউএনও

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে হতদরিদ্রদের ঘরের অনিয়মের অভিযোগ দেয়া যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ীকে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশে তার অফিসের কর্মচারী এনামুল হক বাদশার নেতৃত্বে সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ সন্ত্রাসী তুলে আনে। পরে ইউএনওর বাসায় যুবলীগ নেতাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেন যুবলীগ নেতা।

যুবলীগ নেতাকে তুলে নেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সন্ত্রাসী এনামুল হক বাদশা, সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে দ্বিতীয় ধাপে আমতলী উপজেলায় হতদরিদ্রদের জন্য ৩৫০টি ঘর বরাদ্দ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই প্রকল্পের গুলিশাখালী ইউনিয়নে ৫০টি ঘর বরাদ্দ দেন ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান। ওই ঘরগুলোর মধ্যে ইউএনও কার্যালয়ের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. এনামুল হক বাদশার নিজ গ্রাম হরিদ্রবাড়িয়ায় দেয় ৩০টি। তার মধ্যে ১৪টি ঘর পেয়েছেন মো. এনামুল হক বাদশার আত্মীয়রা। তারা সবাই ধনাঢ্য ব্যক্তি।

ইউএনও ও তার অফিসের কর্মচারী এনামুল হক বাদশা ঘরের তালিকা তৈরি ও টাকা নিয়ে ঘর দেয়ার অভিযোগ এনে গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল রাঢ়ী বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য তুলে ধরেন। এতে ক্ষিপ্ত হন ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান ও তার অফিসের কর্মচারী মো. এনামুল হক বাদশা।

এর জের ধরে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউএনওর নির্দেশে এনামুল হক বাদশার নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ জন যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ীকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসেন। সাড়ে চার ঘণ্টা সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়- এমন অভিযোগ যুবলীগ নেতা কামালের।

পরে সন্ত্রাসীরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে যুবলীগ নেতাকে ইউএনও আসাদুজ্জামানের বাসায় নিয়ে আসে। তার বাসায় ইউএনও যুবলীগ নেতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছামতো ভিডিও ধারণ করেন- এমন অভিযোগ যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ীর। রাত দেড়টার দিকে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান তাকে ছেড়ে দেন।

যুবলীগ নেতাকে ইউএনওর লোকজন তুলে আনার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রোববার সকালে সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজী এলাকার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে এনামুল হক বাদশার নেতৃত্বে সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ জন সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে কামাল রাঢ়ীকে তুলে নিয়ে গেছেন। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ী অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের নির্দেশে তার সন্ত্রাসী সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ জন লোক আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে আসে। পরে তারা চার ঘণ্টা আমাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে জীবননাশের হুমকি দেয় এবং অভিযোগ তুলে নিতে চাপপ্রয়োগ করে।

তিনি আরও বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে সন্ত্রাসী সুজন মুসুল্লী ও হাবিব গাজীসহ ৫-৬ সন্ত্রাসী আমাকে ইউএনওর বাসায় তুলে নিয়ে আসে। ওই খানে এনে ইউএনও আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছামতো ভিডিও ধারণ করে। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে  যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের আলোকে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন