আশুলিয়ায় মহাসড়ক দখল করে কাঁচাবাজার
jugantor
আশুলিয়ায় মহাসড়ক দখল করে কাঁচাবাজার
নেপথ্যে যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজি

  আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি  

২৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৫:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়ক দখল করে কাঁচাবাজার বসিয়ে এক যুবলীগ নেতা প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা চাঁদা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

আশুলিয়া বাইপাইল মহাসড়কের ইউনিক ও দাদা মার্কেট এলাকায় মহাসড়কের পাশ দখল করে ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি বকুল ভূঁইয়া কাঁচাবাজার বসিয়ে এ চাঁদাবাজি করছেন বলে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া যায়।

চাঁদা দিতে দেরি হলেই মারধর করে আহত করে মালামাল লুটের ঘটনাও ঘটে অহরহ। ভয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার ও বিচার চাওয়ারও সাহস পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী কলা বিক্রেতা মো. হোসেন আলী জানান, লকডাউন চলায় কোনো কাজ না পেয়ে ইউনিক দাদা মার্কেটসংলগ্ন রাস্তার পাশের কাঁচাবাজারে কিছু কলা কিনে বিক্রি করতে যান তিনি। কিছু এখানে বসায় বকুল ভূঁইয়ার ম্যানেজার মিঠু এসে চাঁদা নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বকুল ভূঁইয়ার আরেক লোক তাপস এসে আবার চাঁদা চায়।

এ সময় তিনি তাপসকে চাঁদার টাকা আগে একজন নিয়ে গেছে এ কথা বলায় ক্ষেপে গিয়ে চাঁদাবাজির কাজে সহযোগিতাকারী ইমন, শিমুল ও রাজুসহ ৫-৬ জন লোক এসে তাকে বেদম মারধর করে তার সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় তারা তার কলা লুটপাট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি আশুলিয়া থানায় কোনো অভিযোগও করেননি।

এ ব্যাপারে বকুল ভূঁইয়ার কাছে বিচার চাইলে উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আহতাবস্থায় কলা বিক্রেতা হোসেন আলী তার নিজ ভাড়া বাসায় ফিরলে বাড়িওয়ালা আওয়ামী লীগের ইয়ারপুর ইউপির সহসভাপতি বিল্লাল হোসেন তাকে তার লোক দিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

কাঁচাবাজারের দোকানিরা জানান, প্রতিদিন বকুল ভূঁইয়ার ম্যানেজার এ কাঁচাবাজার থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। এখান থেকে মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের কথা বলে এ টাকা আদায় করা হয়।

এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ দিলে সন্ত্রাসীরা বাসায় গিয়ে হামলা করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অনেক ব্যবসায়ীকে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে গেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে বকুল ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, রাত ১০টার পরে ইউনিকের বালুরমাঠে চলে সন্ত্রাসীদের মহড়া। তারা রামদা, ছুরি, হাতুড়ি ও লোহার রড নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। সারারাত এরা শ্রমিকদের বেতনের টাকা ও মোবাইল ছিনতাই থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও খুন পর্যন্ত করে বেড়ায়।

এসব এলাকায় চুরি অথবা ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও থানায় অভিযোগ দিতে সাহস করে না কেউ।

এ ব্যাপরে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতারা জানান, করোনাকালীন নেতারা দুস্থ ত্রাণসামগ্রী দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত, সেই সময় যুবলীগের নেতা বকুল ভূঁইয়ার গরিবদের কাছে চাঁদাবাজি করা ও চাঁদা দিতে দেরি হওয়ায় মারপিট করা খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জানান, আশুলিয়ার ইউনিক দাদা মার্কেট এলাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ আসেনি। রাস্তার পাশের দোকানগুলো তুলে দিলে তারা আবার বসে। তবে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশুলিয়ায় মহাসড়ক দখল করে কাঁচাবাজার

নেপথ্যে যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজি
 আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি 
২৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সাভারের আশুলিয়ায় মহাসড়ক দখল করে কাঁচাবাজার বসিয়ে এক যুবলীগ নেতা প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা চাঁদা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

আশুলিয়া বাইপাইল মহাসড়কের ইউনিক ও দাদা মার্কেট এলাকায় মহাসড়কের পাশ দখল করে ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি বকুল ভূঁইয়া কাঁচাবাজার বসিয়ে এ চাঁদাবাজি করছেন বলে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া যায়।

চাঁদা দিতে দেরি হলেই মারধর করে আহত করে মালামাল লুটের ঘটনাও ঘটে অহরহ।  ভয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার ও বিচার চাওয়ারও সাহস পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী কলা বিক্রেতা মো. হোসেন আলী জানান, লকডাউন চলায় কোনো কাজ না পেয়ে ইউনিক দাদা মার্কেটসংলগ্ন রাস্তার পাশের কাঁচাবাজারে কিছু কলা কিনে বিক্রি করতে যান তিনি। কিছু এখানে বসায় বকুল ভূঁইয়ার ম্যানেজার মিঠু এসে চাঁদা নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বকুল ভূঁইয়ার আরেক লোক তাপস এসে আবার চাঁদা চায়।

এ সময় তিনি তাপসকে চাঁদার টাকা আগে একজন নিয়ে গেছে এ কথা বলায় ক্ষেপে গিয়ে চাঁদাবাজির কাজে সহযোগিতাকারী  ইমন, শিমুল ও রাজুসহ ৫-৬ জন লোক এসে তাকে বেদম মারধর করে তার সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় তারা তার কলা লুটপাট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি আশুলিয়া থানায় কোনো অভিযোগও করেননি।

এ ব্যাপারে বকুল ভূঁইয়ার কাছে বিচার চাইলে উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।  আহতাবস্থায় কলা বিক্রেতা হোসেন আলী তার নিজ ভাড়া বাসায় ফিরলে বাড়িওয়ালা আওয়ামী লীগের ইয়ারপুর ইউপির সহসভাপতি বিল্লাল হোসেন তাকে তার লোক দিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

কাঁচাবাজারের দোকানিরা জানান, প্রতিদিন বকুল ভূঁইয়ার ম্যানেজার এ কাঁচাবাজার থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। এখান থেকে মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে।  সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের কথা বলে এ টাকা আদায় করা হয়।

এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ দিলে সন্ত্রাসীরা বাসায় গিয়ে হামলা করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অনেক ব্যবসায়ীকে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে গেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে বকুল ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, রাত ১০টার পরে ইউনিকের বালুরমাঠে চলে সন্ত্রাসীদের মহড়া।  তারা রামদা, ছুরি, হাতুড়ি ও লোহার রড নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। সারারাত এরা শ্রমিকদের বেতনের টাকা ও মোবাইল  ছিনতাই থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও খুন পর্যন্ত করে বেড়ায়।

এসব এলাকায় চুরি অথবা ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও থানায় অভিযোগ দিতে সাহস করে না কেউ।

এ ব্যাপরে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতারা জানান, করোনাকালীন নেতারা দুস্থ ত্রাণসামগ্রী দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত, সেই সময় যুবলীগের নেতা বকুল ভূঁইয়ার গরিবদের কাছে চাঁদাবাজি করা ও চাঁদা দিতে দেরি হওয়ায় মারপিট করা খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে  আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জানান, আশুলিয়ার ইউনিক দাদা মার্কেট এলাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ আসেনি। রাস্তার পাশের দোকানগুলো তুলে দিলে তারা আবার বসে। তবে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন