কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে ভুট্টাক্ষেত
jugantor
কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে ভুট্টাক্ষেত

  সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, সৈয়দপুর (নীলফামারী)  

২৬ এপ্রিল ২০২১, ১৪:২৪:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে ভুট্টাক্ষেত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা জিআই তার তৈরির কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে কৃষকের ৩০ শতাংশ ভুট্টাক্ষেত।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এর প্রতিকার চেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া অভিযোগ করার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষের নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ায় জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সরকারপাড়ার মৃত মনসুর আলী সরকারের ছেলে নাজমুল হুদা সরকার জানান, কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজের দক্ষিণে কামারপুকুর বাজার থেকে বয়ে যাওয়া খাল ও সড়কসংলগ্ন আমার ১২০ শতক কৃষিজমি আছে। এই জমির পাশেই গত প্রায় ৫ বছর আগে আবাদি কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে ‘এলাহি কুটির শিল্প’ নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এই কারখানা থেকে বর্জ্য হিসেবে বিষাক্ত উত্তপ্ত পানি ও সালফার অ্যাসিড নির্গত হয়। বিগত প্রায় তিন বছর ধরে এই বর্জ্যের প্রভাবে আমার ঊর্বর তেফসলি জমিতে আবাদ কম হওয়াসহ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বিগত বছরের মতো এবার আমি ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতক জমির ফলন্ত ভুট্টাগাছ কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে। এতে আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আগের দুই বছরও এভাবে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কারখানার মালিককে বিষয়টি অবগত করে নিরাপদে অ্যাসিড ও গরম পানি ঝুঁকিমুক্তভাবে নিঃসরণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছি। কিন্তু তারা সে কথা কানে নেয়নি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে যৎসামান্য টাকা দিয়ে ব্যাপারটা ধামাচাপা দিয়েছে। কিন্তু এবার আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এতে বাধ্য হয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১১ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি কৃষি বিভাগের কেউ অভিযোগ তদন্তেও আসেনি। ফলে বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে দেখা দেওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

এ ব্যাপারে এলাহি কুটির শিল্পের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কয়েক দিন হলো আমি এখানে যোগদান করেছি। তাই এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে পারব না। তবে নাজমুল হুদার জমিই ভালো না। তাই ফসল হয় না। এতে কারখানার কোনো দায় নেই। আগে তো ফসল নষ্ট হয়নি। আবাদও শতভাগ হয়েছে।

কামারপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, অবশ্যই কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডের কারণেই এভাবে ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কামারপুকুর ইউনিয়নের ইটভাটা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ক্ষতিপূরণ দিয়েই কৃষকদের সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু যে রকম (লকডাউন) সময় চলছে, তাই বিষয়টি দেখার সুযোগ হয়নি।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিম আহমেদ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে।

কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে ভুট্টাক্ষেত

 সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) 
২৬ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে ভুট্টাক্ষেত
ছবি: যুগান্তর

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা জিআই তার তৈরির কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে কৃষকের ৩০ শতাংশ ভুট্টাক্ষেত।

 ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এর প্রতিকার চেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া অভিযোগ করার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষের নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ায় জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সরকারপাড়ার মৃত মনসুর আলী সরকারের ছেলে নাজমুল হুদা সরকার জানান, কামারপুকুর ডিগ্রি কলেজের দক্ষিণে কামারপুকুর বাজার থেকে বয়ে যাওয়া খাল ও সড়কসংলগ্ন আমার ১২০ শতক কৃষিজমি আছে। এই জমির পাশেই গত প্রায় ৫ বছর আগে আবাদি কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে ‘এলাহি কুটির শিল্প’ নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এই কারখানা থেকে বর্জ্য হিসেবে বিষাক্ত উত্তপ্ত পানি ও সালফার অ্যাসিড নির্গত হয়।  বিগত প্রায় তিন বছর ধরে এই বর্জ্যের প্রভাবে আমার ঊর্বর তেফসলি জমিতে আবাদ কম হওয়াসহ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বিগত বছরের মতো এবার আমি ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতক জমির ফলন্ত ভুট্টাগাছ কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডে ঝলসে গেছে। এতে আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আগের দুই বছরও এভাবে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কারখানার মালিককে বিষয়টি অবগত করে নিরাপদে অ্যাসিড ও গরম পানি ঝুঁকিমুক্তভাবে নিঃসরণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছি। কিন্তু তারা সে কথা কানে নেয়নি। ক্ষতিপূরণ হিসেবে যৎসামান্য টাকা দিয়ে ব্যাপারটা ধামাচাপা দিয়েছে। কিন্তু এবার আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এতে বাধ্য হয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১১ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার এবং জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।  এমনকি কৃষি বিভাগের কেউ অভিযোগ তদন্তেও আসেনি। ফলে বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে দেখা দেওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

এ ব্যাপারে এলাহি কুটির শিল্পের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,  কয়েক দিন হলো আমি এখানে যোগদান করেছি।  তাই এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে পারব না। তবে নাজমুল হুদার জমিই ভালো না। তাই ফসল হয় না। এতে কারখানার কোনো দায় নেই। আগে তো ফসল নষ্ট হয়নি। আবাদও শতভাগ হয়েছে।

কামারপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, অবশ্যই কারখানার বিষাক্ত অ্যাসিডের কারণেই এভাবে ভুট্টাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কামারপুকুর ইউনিয়নের ইটভাটা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ক্ষতিপূরণ দিয়েই কৃষকদের সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু যে রকম (লকডাউন) সময় চলছে, তাই বিষয়টি দেখার সুযোগ হয়নি।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিম আহমেদ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন