‘আর কতো কষ্ট করলে আমি সরকারি ঘর পাব?’
jugantor
‘আর কতো কষ্ট করলে আমি সরকারি ঘর পাব?’

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৫:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

নিজের বিধ্বস্ত ঘরের সামনে বসে আছেন শিরিন খাতুন।

খোলা আকাশের নিচে ভিটায় পড়ে আছে কাঠের ভাঙ্গাচোরা চোকি, কাঁথা-বালিশ ও হাড়ি-পাতিল। এসব আসবাবের ওপরে নেই ছাদ।

তিন বছর আগে কালবৈশাখী ঝড় উড়ে নিয়ে যায় মাথা গোজার ছাপড়া ঘরটি। এরপর পরের ঘরে কাজ করেও সেই ঘর আর তুলতে পারেননি। ঘর মেরামতের জন্য জমানো টাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে চোর।

সেই থেকেই কখনও অন্যের বাড়ি, কখনো পথের ধারে আবার কখনো বা সেই ভাঙ্গাচোরা টিনের ফাঁকে রাতযাপন করেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা নারী শিরিন খাতুন।

একটি ঘরের জন্য বারবার ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যনের কাছে ঘুরেছেন। কিন্তু কিছুই মেলেনি! বর্তমানে অসহায় জীবনযাপন করছেন এই নারী।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে পারিবারিক কলহের কারণে তালাক দিয়ে শিরিন খাতুনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী সিরাজুল ইসলাম। তিন মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে তার ঠাঁই হয় বাবার বাড়ি কাতুলী গ্রামে। বাবার পৈত্রিক অংশে পাওয়া ৫ শতক জায়গার ওপর জমানো কিছু টাকা দিয়ে একটা ছাপড়া ঘর তোলেন তিনি। কিন্তু বছর তিনেক আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় শিরিন খাতুনের সেই বসতঘর।

এরপর খেয়ে না খেয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে ৫ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন ঘর মেরামতের জন্য। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; মারা যাওয়া প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে দেখতে গেলে ভাঙ্গাচোরা ঘরের এক কোণে লুকিয়ে রাখা সেই টাকাগুলো চুরি করে নিয়ে যায় চোর! এখন গৃহকর্মীর কাজ করে পেটের ক্ষুধা মিটলেও শিরিন খাতুনের নির্ঘুম রাত কাটে পথে পথে বা অন্যের বাড়ির বারান্দায়!

কান্নাজড়িত কন্ঠে শিরিন খাতুন বলেন, ‘আমার জন্মই আজন্ম পাপ। সইলো না স্বামী সন্তানের সুখ। এখন শেষ বয়সে এসে অন্যের বাড়ি অথবা রাস্তার ধারে রাত কাটাতে হয়! সারাটা জীবন শুধু কষ্ট করে গেলাম! একটা নতুন ঘরের আশায় কতবার মেম্বর-চেয়ারম্যানকে বললাম, কিন্তু পেলাম না! অথচ যাদের প্রয়োজন নেই তারা সরকারি ঘর পায়! আর কতো কষ্ট করলে আমি সরকারি ঘর পাবো?’

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সত্যিই শিরিন খাতুন অসহায় নারী। তার কাছে কয়েকবার ভোটার আইডি কার্ড চেয়ে পাইনি। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানাব। এছাড়া সরকারি যে কোনো সহযোগিতা পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা করব।

ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছে এসে কেউ খালি হাতে ফেরে না। বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এখন সরকারিভাবে ভূমিহীনদের গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। যেহেতু তার জমি আছে এবং অসহায় সেহেতু বিস্তারিত জেনে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

‘আর কতো কষ্ট করলে আমি সরকারি ঘর পাব?’

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ০২:২৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নিজের বিধ্বস্ত ঘরের সামনে বসে আছেন শিরিন খাতুন।
নিজের বিধ্বস্ত ঘরের সামনে বসে আছেন শিরিন খাতুন। ছবিধ যুগান্তর

খোলা আকাশের নিচে ভিটায় পড়ে আছে কাঠের ভাঙ্গাচোরা চোকি, কাঁথা-বালিশ ও হাড়ি-পাতিল। এসব আসবাবের ওপরে নেই ছাদ।

তিন বছর আগে কালবৈশাখী ঝড় উড়ে নিয়ে যায় মাথা গোজার ছাপড়া ঘরটি। এরপর পরের ঘরে কাজ করেও সেই ঘর আর তুলতে পারেননি। ঘর মেরামতের জন্য জমানো টাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে চোর।

সেই থেকেই কখনও অন্যের বাড়ি, কখনো পথের ধারে আবার কখনো বা সেই ভাঙ্গাচোরা টিনের ফাঁকে রাতযাপন করেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা নারী শিরিন খাতুন।

একটি ঘরের জন্য বারবার ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যনের কাছে ঘুরেছেন। কিন্তু কিছুই মেলেনি! বর্তমানে অসহায় জীবনযাপন করছেন এই নারী।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে পারিবারিক কলহের কারণে তালাক দিয়ে শিরিন খাতুনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী সিরাজুল ইসলাম। তিন মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে তার ঠাঁই হয় বাবার বাড়ি কাতুলী গ্রামে। বাবার পৈত্রিক অংশে পাওয়া ৫ শতক জায়গার ওপর জমানো কিছু টাকা দিয়ে একটা ছাপড়া ঘর তোলেন তিনি। কিন্তু বছর তিনেক আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় শিরিন খাতুনের সেই বসতঘর।

এরপর খেয়ে না খেয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে ৫ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন ঘর মেরামতের জন্য। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; মারা যাওয়া প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে দেখতে গেলে ভাঙ্গাচোরা ঘরের এক কোণে লুকিয়ে রাখা সেই টাকাগুলো চুরি করে নিয়ে যায় চোর! এখন গৃহকর্মীর কাজ করে পেটের ক্ষুধা মিটলেও শিরিন খাতুনের নির্ঘুম রাত কাটে পথে পথে বা অন্যের বাড়ির বারান্দায়!

কান্নাজড়িত কন্ঠে শিরিন খাতুন বলেন, ‘আমার জন্মই আজন্ম পাপ। সইলো না স্বামী সন্তানের সুখ। এখন শেষ বয়সে এসে অন্যের বাড়ি অথবা রাস্তার ধারে রাত কাটাতে হয়! সারাটা জীবন শুধু কষ্ট করে গেলাম! একটা নতুন ঘরের আশায় কতবার মেম্বর-চেয়ারম্যানকে বললাম, কিন্তু পেলাম না! অথচ যাদের প্রয়োজন নেই তারা সরকারি ঘর পায়! আর কতো কষ্ট করলে আমি সরকারি ঘর পাবো?’

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সত্যিই শিরিন খাতুন অসহায় নারী। তার কাছে কয়েকবার ভোটার আইডি কার্ড চেয়ে পাইনি। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানাব। এছাড়া সরকারি যে কোনো সহযোগিতা পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা করব।

ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছে এসে কেউ খালি হাতে ফেরে না। বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এখন সরকারিভাবে ভূমিহীনদের গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। যেহেতু তার জমি আছে এবং অসহায় সেহেতু বিস্তারিত জেনে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন