হারিয়ে গেছে গ্রামীণ ‘বেগার-গাতা’ প্রথা
jugantor
হারিয়ে গেছে গ্রামীণ ‘বেগার-গাতা’ প্রথা

  মোতাহার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৩৯:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে ধান কাটা মৌসুমে গ্রাম-বাংলার ‘বেগার-গাতা’ দেয়ার সেই প্রথা হারিয়ে গেছে।

আউশ-আমন ও বোরো মৌসুমে একই গ্রামের এক পাড়ার মধ্যে দল গঠন করে পালাক্রমে গৃহস্থের ধান কাটা থেকে গোলায় তোলা পর্যন্ত কাজ করে দেয়া হতো; যা গাতা নামে পরিচিতি। এক গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের মধ্যেও প্রায় একইভাবে ধানের কাজ করে দেয়া হতো যা ‘বেগার’ নামে পরিচিতি ছিল।

সেই সময় গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতায় এসব কাজ হতো। কিন্তু আজ সবই অতীত হয়ে গেছে- কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কৃষক আব্দুল মজিদ গাজী।

মাঠ থেকে ধান এনে বাঁশের চটা দিয়ে তৈরিকৃত চরাট কিংবা ব্যারেলের ড্রামের ওপর ধান ঝাড়া হতো। অতীতের সেই স্মৃতিকে নাড়া দিয়েছে সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের কৃষকের ধান কেটে ঝেড়ে দেয়ার দৃশ্য দেখে।
ব্যারেলের ওপর ধান ঝাড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামীণ জনপদের হারিয়ে যাওয়া পুরনো দিনের সেই স্মৃতি অনেককে নাড়া দিয়েছে। একে অনেকেই সেই পুরনো দিনের গ্রামীণ জনপদের গৃহস্থ পরিবারগুলোর সৌহার্দ্যপূর্ণ মেলবন্ধনের স্মৃতি হিসেবে মনে করছেন।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিশ্বের ন্যায় দেশব্যাপী জনজীবন যখন থমকে গেছে। লকডাউনে অন্যান্য পেশার ন্যায় দেশের কৃষক সমাজও বিপাকে পড়েছেন। ঠিক তখনি ছাত্রলীগ কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের ধান কেটে দেয়াসহ ঝাড়ার কাজও তারা করে দিয়ে চলেছেন। তাদের এ কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

জানা যায়, দুই যুগ আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে গরুর গাড়ি ছিল; যা ধান আনা-নেয়ার কাজে বেশি ব্যবহার হতো। ধান কাটা মৌসুমে গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করতো। বৃষ্টির পানিতে ধানের ক্ষতি হওয়া থেকে পরিত্রাণ পেতে এক পাড়ার গৃহস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনের দলের সৃষ্টি হতো। এই দল পালাক্রমে একে অপরের ধান কেটে দেয়া থেকে গোলায় তুলে দেয়ার কাজ করা হতো; যা গাতা নামেই গ্রামীণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিল।

এভাবে এক গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে থাকা মাইন্দারের (তিন বেলা খাওয়া ও মাসিক টাকা চুক্তিতে শ্রমিক) সমন্বয়ে গরুর গাড়ি সমেত ১৫-২০ জনের গঠিত দল পালাক্রমে গৃহস্থের ধান কেটে দেয়া হতো; যা ‘বেগার’ নামে পরিচিত ছিল।

এদিকে চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট অফিস।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবুল হাসান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ২৭ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু ভবদহ তৎসংলগ্ন এলাকায় ধানের আবাদ না হওয়ায় প্রায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়নি।

এর মধ্যে ৭ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ২০ হাজার হেক্টর জমিতে উফসী (উচ্চ ফলনশীল) জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। এবার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

হারিয়ে গেছে গ্রামীণ ‘বেগার-গাতা’ প্রথা

 মোতাহার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর) 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে ধান কাটা মৌসুমে গ্রাম-বাংলার ‘বেগার-গাতা’ দেয়ার সেই প্রথা হারিয়ে গেছে।

আউশ-আমন ও বোরো মৌসুমে একই গ্রামের এক পাড়ার মধ্যে দল গঠন করে পালাক্রমে গৃহস্থের ধান কাটা থেকে গোলায় তোলা পর্যন্ত কাজ করে দেয়া হতো; যা গাতা নামে পরিচিতি। এক গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের মধ্যেও প্রায় একইভাবে ধানের কাজ করে দেয়া হতো যা ‘বেগার’ নামে পরিচিতি ছিল।

সেই সময় গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতায় এসব কাজ হতো। কিন্তু আজ সবই অতীত হয়ে গেছে- কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামের বয়োবৃদ্ধ কৃষক আব্দুল মজিদ গাজী।

মাঠ থেকে ধান এনে বাঁশের চটা দিয়ে তৈরিকৃত চরাট কিংবা ব্যারেলের ড্রামের ওপর ধান ঝাড়া হতো। অতীতের সেই স্মৃতিকে নাড়া দিয়েছে সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের কৃষকের ধান কেটে ঝেড়ে দেয়ার দৃশ্য দেখে।
ব্যারেলের ওপর ধান ঝাড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামীণ জনপদের হারিয়ে যাওয়া পুরনো দিনের সেই স্মৃতি অনেককে নাড়া দিয়েছে। একে অনেকেই সেই পুরনো দিনের গ্রামীণ জনপদের গৃহস্থ পরিবারগুলোর সৌহার্দ্যপূর্ণ মেলবন্ধনের স্মৃতি হিসেবে মনে করছেন।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিশ্বের ন্যায় দেশব্যাপী জনজীবন যখন থমকে গেছে। লকডাউনে অন্যান্য পেশার ন্যায় দেশের কৃষক সমাজও বিপাকে পড়েছেন। ঠিক তখনি ছাত্রলীগ কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের ধান কেটে দেয়াসহ ঝাড়ার কাজও তারা করে দিয়ে চলেছেন। তাদের এ কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

জানা যায়, দুই যুগ আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে গরুর গাড়ি ছিল; যা ধান আনা-নেয়ার কাজে বেশি ব্যবহার হতো। ধান কাটা মৌসুমে গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করতো। বৃষ্টির পানিতে ধানের ক্ষতি হওয়া থেকে পরিত্রাণ পেতে এক পাড়ার গৃহস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনের দলের সৃষ্টি হতো। এই দল পালাক্রমে একে অপরের ধান কেটে দেয়া থেকে গোলায় তুলে দেয়ার কাজ করা হতো; যা গাতা নামেই গ্রামীণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিল।

এভাবে এক গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে থাকা মাইন্দারের (তিন বেলা খাওয়া ও মাসিক টাকা চুক্তিতে শ্রমিক) সমন্বয়ে গরুর গাড়ি সমেত ১৫-২০ জনের গঠিত দল পালাক্রমে গৃহস্থের ধান কেটে দেয়া হতো; যা ‘বেগার’ নামে পরিচিত ছিল।

এদিকে চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট অফিস।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবুল হাসান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ২৭ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু ভবদহ তৎসংলগ্ন এলাকায় ধানের আবাদ না হওয়ায় প্রায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়নি।

এর মধ্যে ৭ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ২০ হাজার হেক্টর জমিতে উফসী (উচ্চ ফলনশীল) জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। এবার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন