চাল কম দেওয়ার অভিযোগ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে
jugantor
চাল কম দেওয়ার অভিযোগ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে

  রংপুর ব্যুরো  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ২১:২২:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরের পীরগাছায় করোনাকালীন গরিব, অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য দেয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠছে পারুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আফজাল খাঁনের বিরুদ্ধে।

তিনি পারুল ইউনিয়নের গুঞ্জর খাঁ হাউদারপাড় বাজারের মেসার্স খাঁন ট্রেডার্সের মালিক ও সরকার কর্তৃক পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার।

১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চালের পরির্বতে ২৫-২৬ কেজি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদের গত রোববার রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের হাউদারপাড় বাজারে সড়ক অবরোধ করে ভুক্তভোগী শতাধিক কার্ডধারী। তারা আফজাল খাঁনের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারীরা। এ ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, নানা দুর্যোগকালীন সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার হাউদারপাড় বাজারের ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে ওই এলাকার ৫০৪ জন গরিব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে চাল বিক্রি করে আসছিল ডিলার মেসার্স খান ট্রেডার্সের মালিক আফজাল খাঁন।

গত সোমবার এবং মঙ্গলবার আবারো চাল বিক্রি করেন তিনি। এতে ৩০ কেজি চালের পরির্বতে ২৫-২৬ কেজি করে দিতে থাকেন। প্রতি কার্ডে ৪-৫ কেজি চাল কম দেওয়ার বিষয়ে কার্ডধারীরা প্রতিবাদ করলে তাদের নানা ভাবে হয়রানি ও হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন ডিলার আফজাল খাঁন ও তার ছেলে হারুন খাঁন।

এ নিয়ে বিক্ষুদ্ধ কার্ডধারীরা গত মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের হাউদারপাড় বাজারে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সাধারণ মানুষও এসে যোগ দেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়।

পরে পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ শামসুল আরেফীন, ওসি আজিজুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অমুল্য কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে সঠিক মাপে চাল বিক্রি ও ডিলারের শাস্তির আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

এদিকে ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী রোস্তম আলী, হোসেন আলী, শাহজাহান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই মেসার্স খান ট্রেডার্সের মালিক আফজাল খাঁন এবং তার ছেলে হারুন খাঁন মিলে সুবিধাভোগীদের ঠকিয়ে আসছেন। আমরা অনেকবার তাদের জানানোর পরেও তারা পাত্তা দেননি। আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কার্ডধারী বলেন, ৩শ' টাকার স্থলে ৩২০ টাকা নেয়া হয়। তাতেও চাল কম। ডিলারের ছেলে হারুন খাঁন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের টাকা দিতে হয় এবং ডিলার চালাইতে অনেক খরচ, তাই টাকা দিতে আমাদের বাধ্য করে। না দিলে কার্ড বাতিলের হুমকি দেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে ডিলার আফজাল খাঁনের সঙ্গে যোগায়োগ করা হলে চাল কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বস্তায় চাল কম থাকে। আমি কী করব। এতে আবার পরিবহন খরচ আছে।

এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাল কম দেওয়ার অভিযোগ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে

 রংপুর ব্যুরো 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরের পীরগাছায় করোনাকালীন গরিব, অসহায় দুস্থ মানুষের জন্য দেয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠছে পারুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আফজাল খাঁনের বিরুদ্ধে। 

তিনি পারুল ইউনিয়নের গুঞ্জর খাঁ হাউদারপাড় বাজারের মেসার্স খাঁন ট্রেডার্সের মালিক ও সরকার কর্তৃক পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার। 

১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চালের পরির্বতে ২৫-২৬ কেজি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদের গত রোববার রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের হাউদারপাড় বাজারে সড়ক অবরোধ করে ভুক্তভোগী শতাধিক কার্ডধারী। তারা আফজাল খাঁনের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান। 

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারীরা। এ ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, নানা দুর্যোগকালীন সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার হাউদারপাড় বাজারের ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে ওই এলাকার ৫০৪ জন গরিব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে চাল বিক্রি করে আসছিল ডিলার মেসার্স খান ট্রেডার্সের মালিক আফজাল খাঁন। 

গত সোমবার এবং মঙ্গলবার আবারো চাল বিক্রি করেন তিনি। এতে ৩০ কেজি চালের পরির্বতে ২৫-২৬ কেজি করে দিতে থাকেন। প্রতি কার্ডে ৪-৫ কেজি চাল কম দেওয়ার বিষয়ে কার্ডধারীরা প্রতিবাদ করলে তাদের নানা ভাবে হয়রানি ও হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন ডিলার আফজাল খাঁন ও তার ছেলে হারুন খাঁন। 

এ নিয়ে বিক্ষুদ্ধ কার্ডধারীরা গত মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের হাউদারপাড় বাজারে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সাধারণ মানুষও এসে যোগ দেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। 

পরে পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ শামসুল আরেফীন, ওসি আজিজুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অমুল্য কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে সঠিক মাপে চাল বিক্রি ও ডিলারের শাস্তির আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। 

এদিকে ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী রোস্তম আলী, হোসেন আলী, শাহজাহান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই মেসার্স খান ট্রেডার্সের মালিক আফজাল খাঁন এবং তার ছেলে হারুন খাঁন মিলে সুবিধাভোগীদের ঠকিয়ে আসছেন। আমরা অনেকবার তাদের জানানোর পরেও তারা পাত্তা দেননি। আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কার্ডধারী বলেন, ৩শ' টাকার স্থলে ৩২০ টাকা নেয়া হয়। তাতেও চাল কম। ডিলারের ছেলে হারুন খাঁন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের টাকা দিতে হয় এবং ডিলার চালাইতে অনেক খরচ, তাই টাকা দিতে আমাদের বাধ্য করে। না দিলে কার্ড বাতিলের হুমকি দেন তিনি। 

এ বিষয়ে জানতে ডিলার আফজাল খাঁনের সঙ্গে যোগায়োগ করা হলে চাল কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বস্তায় চাল কম থাকে। আমি কী করব। এতে আবার পরিবহন খরচ আছে। 

এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন