পুলিশি প্রহরায় ধান কাটলেন কৃষকরা
jugantor
পুলিশি প্রহরায় ধান কাটলেন কৃষকরা

  ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৮:১২:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনায় মামলার পর পুলিশি প্রহরায় ধান কাটলেন সেই দুই গ্রামের কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সকালে ১২-১৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষকরা কাটার পর এসব ধান তাদের ঘরে তুলেন।

গত ১৭ এপ্রিল উপজেলার খলাপাড়া ও লুন্দিয়া গ্রামে ধান মাড়াইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ঝগড়া সংঘর্ষে দুইজন খুন হন এবং আহত হন ৬০-৭০ জন। এদিন প্রায় শতাধিক বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষে ৫টি মামলা হয় ভৈরব থানায়। এসব মামলায় আসামি করা হয় প্রায় ৭০০ জনকে। মামলা করার পর দুই গ্রামের মানুষ পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই এলাকায় এবার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জমিতে অধিকাংশ ধান পেকে গেছে।

গ্রামে খুন হওয়ায় মামলার কারণে গ্রামগুলো এখন পুরুষশূন্য। ফলে পাকা ধান কাটা অনিশ্চয়তার মধ্য পড়ে যায়। কারণ পুরুষরা বাড়িতে না থাকায় ধান কাটতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে কৃষি বিভাগ ও পুলিশের টনক নড়ে।

এরপর পুলিশ এলাকায় মাইকিং করে বলে- মামলার আসামি ছাড়া কোনো নিরীহ মানুষকে পুলিশ গ্রেফতার বা হয়রানি করবে না। যাদের জমির ধান পেকেছে তারা যেন ধান কেটে ফেলেন। প্রয়োজনে পুলিশ কৃষকদের নিরাপত্তা দেবে বলে জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। পুলিশ জানায়, এখন থেকে প্রতিদিন পাকা ধান কাটা অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে কৃষি বিভাগ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধান কাটার ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, আমি নিজে তদারকি করে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির পাকা ধান কাটার ব্যবস্থা করেছি।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, যারা মামলার আসামি নয় তাদের কোনো ভয় নেই। কৃষি বিভাগের অনুরোধে বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষকরা নির্বিঘ্নে ধান কেটেছে। যতদিন জমিতে পাকা ধান থাকবে ততদিন পুলিশ উপস্থিত থেকে ধান কাটতে সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।

পুলিশি প্রহরায় ধান কাটলেন কৃষকরা

 ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনায় মামলার পর পুলিশি প্রহরায় ধান কাটলেন সেই দুই গ্রামের কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সকালে ১২-১৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষকরা কাটার পর এসব ধান তাদের ঘরে তুলেন।

গত ১৭ এপ্রিল উপজেলার খলাপাড়া ও লুন্দিয়া গ্রামে ধান মাড়াইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ঝগড়া সংঘর্ষে দুইজন খুন হন এবং আহত হন ৬০-৭০ জন। এদিন প্রায় শতাধিক বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষে ৫টি মামলা হয় ভৈরব থানায়। এসব মামলায় আসামি করা হয় প্রায় ৭০০ জনকে। মামলা করার পর দুই গ্রামের মানুষ পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই এলাকায় এবার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জমিতে অধিকাংশ ধান পেকে গেছে।

গ্রামে খুন হওয়ায় মামলার কারণে গ্রামগুলো এখন পুরুষশূন্য। ফলে পাকা ধান কাটা অনিশ্চয়তার মধ্য পড়ে যায়। কারণ পুরুষরা বাড়িতে না থাকায় ধান কাটতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে কৃষি বিভাগ ও পুলিশের টনক নড়ে।

এরপর পুলিশ এলাকায় মাইকিং করে বলে- মামলার আসামি ছাড়া কোনো নিরীহ মানুষকে পুলিশ গ্রেফতার বা হয়রানি করবে না। যাদের জমির ধান পেকেছে তারা যেন ধান কেটে ফেলেন। প্রয়োজনে পুলিশ কৃষকদের নিরাপত্তা দেবে বলে জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। পুলিশ জানায়, এখন থেকে প্রতিদিন পাকা ধান কাটা অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে কৃষি বিভাগ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধান কাটার ব্যবস্থা করে।

তিনি বলেন, আমি নিজে তদারকি করে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির পাকা ধান কাটার ব্যবস্থা করেছি।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, যারা মামলার আসামি নয় তাদের কোনো ভয় নেই। কৃষি বিভাগের অনুরোধে বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষকরা নির্বিঘ্নে ধান কেটেছে। যতদিন জমিতে পাকা ধান থাকবে ততদিন পুলিশ উপস্থিত থেকে ধান কাটতে সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন