অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং, কোটি টাকা লেনদেন করেন তারা
jugantor
অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং, কোটি টাকা লেনদেন করেন তারা

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৮:২৫:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে অ্যাপস ব্যবহার করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলার ওপর মোবাইলে বাজি ধরার সময় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং ও কোটি টাকা লেনদেন করেন বলে জানান গ্রেফতারকৃতরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মশিউর রহমান (৩৪), সাদেকুর ইসলাম (২২) ও মাহবুবার রহমান মাহবুব (২৮)। তাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৩০/৩৫ এবং জুয়া আইন ৪/৫ ধারায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার রায়সহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম পৌরসভাধীন কলেজ মোড়ের ভাই ভাই ডিজিটাল স্টুডিও হতে বাজিকর মশিউর রহমানকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত এন্ড্রোয়েড মোবাইলে ‘সাট স্পোর্টস’ নামের একটি অ্যাপসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হচ্ছিল।

তিনি জানান, মশিউর রহমানের সঙ্গে বাজিতে সম্পৃক্ত ছিল ১১২ জন মেম্বার। মোবাইলে সেসময় ট্রানজেকশন করা হয়েছে ৩৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং ব্যালেন্স ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১১৫ টাকা। মশিউর রহমান স্বীকার করেন- তিনি একজন সাব এজেন্ট। মূল এজেন্টের অধীনে কুড়িগ্রামে ৭-১০ জন সাব এজেন্ট হয়ে কাজ করছে।

পরে পুলিশ তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর এজেন্ট সাদেকুর ইসলামকে শহরের বানিয়াপাড়া মোড় থেকে এবং বাজিকর মাহবুবার রহমান মাহবুবকে শহরের কৃষ্ণপুর চড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে আটক করে।

তিনি আরও জানান, একজন সাব-এজেন্ট এক লাখ টাকা লেনদেন করলে ৭ হাজার টাকা কমিশন পায়। এছাড়াও জিতলেও পার্সেন্টেজ দেয়া হয়। এই ধ্বংসাত্মক বাজির নেশায় জড়িয়েছে জেলার তরুণ সমাজ।

সাব-এজেন্ট মাহবুব জানান, মার্চে তার ৪১ জন ক্লায়েন্টের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা লেনদেন করেছে। শুধু আইপিএল নয়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা-লিগাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার ওপর এই বাজির খেলা পরিচালনা করা হয়। এতে কোটি টাকা লেনদেন হয় বলে তিনি জানান।

আটক মশিউর রহমান সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বিশ্বেশ্বর গ্রামের আব্দুল মজিদ সরকারের পুত্র। সাদেকুর ইসলাম পৌরসভা এলাকার পলাশবাড়ী বাণিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র এবং মাহবুবার রহমান মাহবুব পৌরসভা এলাকার কৃষ্ণপুর চড়ুয়াপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের পুত্র।

পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে আটকৃতদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৩০/৩৫ এবং জুয়া আইন ৪/৫ ধারায় মামলা করেছে। মূল এজেন্ট ও অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং, কোটি টাকা লেনদেন করেন তারা

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামে অ্যাপস ব্যবহার করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলার ওপর মোবাইলে বাজি ধরার সময় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং ও কোটি টাকা লেনদেন করেন বলে জানান গ্রেফতারকৃতরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মশিউর রহমান (৩৪), সাদেকুর ইসলাম (২২) ও মাহবুবার রহমান মাহবুব (২৮)। তাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৩০/৩৫ এবং জুয়া আইন ৪/৫ ধারায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার রায়সহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম পৌরসভাধীন কলেজ মোড়ের ভাই ভাই ডিজিটাল স্টুডিও হতে বাজিকর মশিউর রহমানকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত এন্ড্রোয়েড মোবাইলে ‘সাট স্পোর্টস’ নামের একটি অ্যাপসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হচ্ছিল।

তিনি জানান, মশিউর রহমানের সঙ্গে বাজিতে সম্পৃক্ত ছিল ১১২ জন মেম্বার। মোবাইলে সেসময় ট্রানজেকশন করা হয়েছে ৩৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং ব্যালেন্স ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১১৫ টাকা। মশিউর রহমান স্বীকার করেন- তিনি একজন সাব এজেন্ট। মূল এজেন্টের অধীনে কুড়িগ্রামে ৭-১০ জন সাব এজেন্ট হয়ে কাজ করছে।

পরে পুলিশ তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর এজেন্ট সাদেকুর ইসলামকে শহরের বানিয়াপাড়া মোড় থেকে এবং বাজিকর মাহবুবার রহমান মাহবুবকে শহরের কৃষ্ণপুর চড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে আটক করে।

তিনি আরও জানান, একজন সাব-এজেন্ট এক লাখ টাকা লেনদেন করলে ৭ হাজার টাকা কমিশন পায়। এছাড়াও জিতলেও পার্সেন্টেজ দেয়া হয়। এই ধ্বংসাত্মক বাজির নেশায় জড়িয়েছে জেলার তরুণ সমাজ।

সাব-এজেন্ট মাহবুব জানান, মার্চে তার ৪১ জন ক্লায়েন্টের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা লেনদেন করেছে। শুধু আইপিএল নয়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা-লিগাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার ওপর এই বাজির খেলা পরিচালনা করা হয়। এতে কোটি টাকা লেনদেন হয় বলে তিনি জানান।

আটক মশিউর রহমান সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বিশ্বেশ্বর গ্রামের আব্দুল মজিদ সরকারের পুত্র। সাদেকুর ইসলাম পৌরসভা এলাকার পলাশবাড়ী বাণিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র এবং মাহবুবার রহমান মাহবুব পৌরসভা এলাকার কৃষ্ণপুর চড়ুয়াপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের পুত্র।

পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে আটকৃতদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ৩০/৩৫ এবং জুয়া আইন ৪/৫ ধারায় মামলা করেছে। মূল এজেন্ট ও অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আইপিএল-২০২১

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন