চুল কেটে খুঁটিতে বেঁধে দুই ভাইকে নির্যাতন
jugantor
চুল কেটে খুঁটিতে বেঁধে দুই ভাইকে নির্যাতন

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি  

৩০ এপ্রিল ২০২১, ২২:০১:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুরে ভেজাল মধু বিক্রি করার অপবাদ দিয়ে মাথার চুল কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে দুই ভাইকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া নুরজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দাঁদপুর গ্রামের আলম সরদারের দুই ছেলে আল আমিন (২৪) ও আলাল সরদার (১৮)।

পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাহাপুরের ভিলেজ ফ্রেশ ফুড এ্যান্ড এগ্রো কোম্পানিতে ভেজাল মধু সরবরাহের অপবাদে সকাল থেকে আল আমিন ও আলালকে বিদ্যুতের খাম্বার সঙ্গে বেঁধে রাখে কর্মচারীরা। পরে দুপুর দুইটার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জিসান হোসেন এসে তাদের ব্যাপক মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে জিসান তাদের ছেড়ে দেয়।

এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানার আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভিলেজ ফ্রেশ অ্যান্ড এগ্রো কোম্পানির মালিক জিসান হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে মারধরের ব্যাপারটি স্বীকার করে জিসান হোসেন বলেন, তার প্রতিষ্ঠান মধুসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বাজারজাত করেন। এ প্রতিষ্ঠানে পাইকারি খাটি মধু সরবরাহের জন্য প্রায় এক বছর আগে চুক্তিবন্ধ হন আল আমিন ও আলাল।

প্রথমে খাঁটি মধু সরবরাহ করলেও কিছুদিন পর থেকেই ভেজাল মধু সরবরাহ করতে থাকেন। গ্রাহকরা এ ভেজাল মধুর বিষয়ে অভিযোগ দিতে থাকেন। বিষয়টি তাদের জানালে নানা তালবাহনা করতে থাকেন।

পরবর্তীতে ভালো মধু দেয়ার কথা বলে আবারো ভেজাল মধু দেন। তারা প্রায় ৩শ’ কেজি মধু সরবরাহ করেছেন। এর মধ্যে ভেজালের কারণে ১২০ কেজি মধু এখনও অবিক্রিত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আবারো ভেজাল মধু সরবরাহের জন্য এলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন এসে দুজনকে আটকে রেখে উত্তম মধ্যম দিয়ে উপজেলা ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, বিকালে আল আমিন ও আলালের পরিবারসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজন এসে ভেজাল মধুর ক্ষতিপূরণ ও জনসম্মুখে দুজনকে চরথাপ্পড় দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

নির্যাতিত দুই সহোদরের বাবা আলম সরদার বলেন, তারা আমার ছেলেদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে মেরেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে দুপুরে ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান আসাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুই যুবক নির্যাতনের খবর এক সাংবাদিকের কাছে জানতে পারি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

চুল কেটে খুঁটিতে বেঁধে দুই ভাইকে নির্যাতন

 ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি 
৩০ এপ্রিল ২০২১, ১০:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুরে ভেজাল মধু বিক্রি করার অপবাদ দিয়ে মাথার চুল কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে দুই ভাইকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া নুরজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দাঁদপুর গ্রামের আলম সরদারের দুই ছেলে আল আমিন (২৪) ও আলাল সরদার (১৮)।

পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাহাপুরের ভিলেজ ফ্রেশ ফুড এ্যান্ড এগ্রো কোম্পানিতে ভেজাল মধু সরবরাহের অপবাদে সকাল থেকে আল আমিন ও আলালকে বিদ্যুতের খাম্বার সঙ্গে বেঁধে রাখে কর্মচারীরা। পরে দুপুর দুইটার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জিসান হোসেন এসে তাদের ব্যাপক মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে জিসান তাদের ছেড়ে দেয়।

এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানার আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভিলেজ ফ্রেশ অ্যান্ড এগ্রো কোম্পানির মালিক জিসান হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে মারধরের ব্যাপারটি স্বীকার করে জিসান হোসেন বলেন, তার প্রতিষ্ঠান মধুসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বাজারজাত করেন। এ প্রতিষ্ঠানে পাইকারি খাটি মধু সরবরাহের জন্য প্রায় এক বছর আগে চুক্তিবন্ধ হন আল আমিন ও আলাল।

প্রথমে খাঁটি মধু সরবরাহ করলেও কিছুদিন পর থেকেই ভেজাল মধু সরবরাহ করতে থাকেন। গ্রাহকরা এ ভেজাল মধুর বিষয়ে অভিযোগ দিতে থাকেন। বিষয়টি তাদের জানালে নানা তালবাহনা করতে থাকেন।

পরবর্তীতে ভালো মধু দেয়ার কথা বলে আবারো ভেজাল মধু দেন। তারা প্রায় ৩শ’ কেজি মধু সরবরাহ করেছেন। এর মধ্যে ভেজালের কারণে ১২০ কেজি মধু এখনও অবিক্রিত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আবারো ভেজাল মধু সরবরাহের জন্য এলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন এসে দুজনকে আটকে রেখে উত্তম মধ্যম দিয়ে উপজেলা ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, বিকালে আল আমিন ও আলালের পরিবারসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজন এসে ভেজাল মধুর ক্ষতিপূরণ ও জনসম্মুখে দুজনকে চরথাপ্পড় দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

নির্যাতিত দুই সহোদরের বাবা আলম সরদার বলেন, তারা আমার ছেলেদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে মেরেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে দুপুরে ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান আসাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুই যুবক নির্যাতনের খবর এক সাংবাদিকের কাছে জানতে পারি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন