এনজিওর ঋণের চাপে প্রতিবন্ধী যুবকের আত্মহত্যা
jugantor
এনজিওর ঋণের চাপে প্রতিবন্ধী যুবকের আত্মহত্যা

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

০২ মে ২০২১, ১৭:৩২:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঋণের কিস্তির চাপে রুবেল মিয়া (৩৫) নামের শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু দায়ের রুজু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ডোমবাড়ীচালা গ্রামে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন রুবেল মিয়া। তিনি ডোমবাড়ীচালা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

একটি এনজিওর জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী শাখার ব্যবস্থাপক রাশেদুল আলম জানান, রুবেল মিয়ার স্ত্রী সেলিনা আক্তার তাদের সমিতির সদস্য। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর সুফলন ঋণের আওতায় তিনি পাঁচ মাস মেয়াদি ২ হাজার টাকা সুদে ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। যার সময়সীমা গত এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ উত্তীর্ণ হয়েছে।

নিহত রুবেলের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বলেন, রুবেল শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসারে আরাফাত, শাহাদাত ও রুমেলা নামে তিনজন সন্তান আছে। প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে স্ত্রী সেলিনা সংসারের হাল ধরছিলেন। কৃষিকাজকে প্রাধান্য দিয়ে দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চলছিল তাদের। বাড়ির আঙিনায় পতিত জমি চাষে টাকার সংকট পড়ায় ওই এনজিও থেকে পাঁচ মাস মেয়াদি ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। গত ১০ মার্চ মেয়াদ শেষ হলে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন। বুধবার ওই এনজিওর মাঠকর্মী নাঈম বাড়িতে এসে ঋণের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে রুবেল শনিবার ঋণের টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে মাঠকর্মী চলে যান।

সেলিনা আক্তার আরও বলেন, শনিবারও কোনো টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। মাঠকর্মী আসলে তাকে কয়েক ঘণ্টা পর আসতে বলেন রুবেল। এ নিয়ে তার স্বামীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় শনিবার দুপুরে তিনি ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন। বাড়ির উঠানে গোঙানির শব্দ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য তারেক হাসান বাচ্চু বলেন, পারিবারিক নানা ঝামেলা ও কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে এ যুবকের বিষণ্ণতা তৈরি হয়। এর থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছে। তবে করোনার এই সময়ে কিস্তি উত্তোলন বন্ধ করার প্রয়োজন ছিল। কেননা প্রান্তিক কৃষকরা এমনিতেই ভালো অবস্থায় নেই।

ব্যবস্থাপক রাশেদুল আলম আরও বলেন, তার ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বুধবার মাঠকর্মী তার বাড়িতে গিয়েছিল টাকা আদায়ের জন্য। শনিবার টাকা দেয়ার তারিখ দিয়েছিল তারা। পরে আমরা জানতে পারি শনিবার সেলিনার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। তবে প্রতিষ্ঠানের কেউ ঋণের কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেননি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার এসআই মো. জিন্নাহ বলেন, রুবেল প্রতিবন্ধী ছিলেন। এছাড়াও তিনি পারিবারিক বিভিন্ন কারণে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি এনজিওসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এসব কারণেই আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পরিবার থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে।

এনজিওর ঋণের চাপে প্রতিবন্ধী যুবকের আত্মহত্যা

 শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
০২ মে ২০২১, ০৫:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঋণের কিস্তির চাপে রুবেল মিয়া (৩৫) নামের শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু দায়ের রুজু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ডোমবাড়ীচালা গ্রামে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন রুবেল মিয়া। তিনি ডোমবাড়ীচালা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

একটি এনজিওর জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী শাখার ব্যবস্থাপক রাশেদুল আলম জানান, রুবেল মিয়ার স্ত্রী সেলিনা আক্তার তাদের সমিতির সদস্য। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর সুফলন ঋণের আওতায় তিনি পাঁচ মাস মেয়াদি ২ হাজার টাকা সুদে ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। যার সময়সীমা গত এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ উত্তীর্ণ হয়েছে।

নিহত রুবেলের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বলেন, রুবেল শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসারে আরাফাত, শাহাদাত ও রুমেলা নামে তিনজন সন্তান আছে। প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে স্ত্রী সেলিনা সংসারের হাল ধরছিলেন। কৃষিকাজকে প্রাধান্য দিয়ে দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চলছিল তাদের। বাড়ির আঙিনায় পতিত জমি চাষে টাকার সংকট পড়ায় ওই এনজিও থেকে পাঁচ মাস মেয়াদি ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। গত ১০ মার্চ মেয়াদ শেষ হলে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন। বুধবার ওই এনজিওর মাঠকর্মী নাঈম বাড়িতে এসে ঋণের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে রুবেল শনিবার ঋণের টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে মাঠকর্মী চলে যান।

সেলিনা আক্তার আরও বলেন, শনিবারও কোনো টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। মাঠকর্মী আসলে তাকে কয়েক ঘণ্টা পর আসতে বলেন রুবেল। এ নিয়ে তার স্বামীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় শনিবার দুপুরে তিনি ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন। বাড়ির উঠানে গোঙানির শব্দ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য তারেক হাসান বাচ্চু বলেন, পারিবারিক নানা ঝামেলা ও কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে এ যুবকের বিষণ্ণতা তৈরি হয়। এর থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছে। তবে করোনার এই সময়ে কিস্তি উত্তোলন বন্ধ করার প্রয়োজন ছিল। কেননা প্রান্তিক কৃষকরা এমনিতেই ভালো অবস্থায় নেই।

ব্যবস্থাপক রাশেদুল আলম আরও বলেন, তার ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বুধবার মাঠকর্মী তার বাড়িতে গিয়েছিল টাকা আদায়ের জন্য। শনিবার টাকা দেয়ার তারিখ দিয়েছিল তারা। পরে আমরা জানতে পারি শনিবার সেলিনার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। তবে প্রতিষ্ঠানের কেউ ঋণের কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেননি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার এসআই  মো. জিন্নাহ বলেন, রুবেল প্রতিবন্ধী ছিলেন। এছাড়াও তিনি পারিবারিক বিভিন্ন কারণে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি এনজিওসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এসব কারণেই আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পরিবার থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন