কাস্টমস কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়ম-ঘুষের প্রতিবাদ ব্যবসায়ীদের
jugantor
কাস্টমস কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়ম-ঘুষের প্রতিবাদ ব্যবসায়ীদের

  ফেনী প্রতিনিধি  

০২ মে ২০২১, ১৮:৩২:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেনীতে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত সরকারি কর দেওয়ার পরেও জেলার কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

রোববার বিকালে ফেনীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জাফর উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিটি ইটভাটার মালিককে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে সরকারি করের বাইরে তাকে প্রতি ভাটা থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। তার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে ফুঁসে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা। তাকে ফেনী থেকে অপসারণ করে ও অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

জাফর উদ্দিন বলেন, কামরুজ্জামানের মতো কর্মকর্তা ফেনীতে থাকলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে আগ্রহ হারাবে। কামরুজ্জামান ফেনীতে কাস্টম সুপার হয়ে ফেনীতে যোগদান করার পর থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সময় উৎকোচ দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নিজে ও পরিবারের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফেনীতে আগমন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফার্নিচার ক্রয় করতে উপঢৌকন দিতে ব্যবসায়ীদের চাপ প্রয়োগ করেন। ব্যবসায়ীরা তার এসব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করে আসলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

প্রচলিত আইনের বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে সকাল সন্ধ্যায় বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ করে উৎকোচ দিতে বাধ্য করেন। ১৫ এপ্রিল কামরুজ্জামান উৎকোচের জন্য মাইজবাড়িয়ার আলম ব্রিক ফিল্ডে হানা দিয়ে তার ইটবোঝাই গাড়ি আটক করে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আমির হোসেন বাহারের সমঝতায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তার এ অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ফেনী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আবুল কাশেম, বজলুল করিম মজুমদার, শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী, ফেনী জেলা জুয়েলারি মালিক সমিতির সভাপতি ইসমাইল হোসেন খোকন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল গোফরান বাচ্চু, ইট প্রস্ততকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক মজুমদার, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমন উল হক, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা, থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী সমিতির ফকরুল হাসান মাহমুদ ও গ্র্যান্ড সুলতান কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেবিএম জাহাঙ্গীর আলম, আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের মালিক সামছুল হক মজুমদার।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জেলার কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, আমি সরকারি রাজস্ব আদায় করতে যা যা করণীয় তাই করছি।

কিছু দিন পূর্বে একটি ইটভাটা থেকে গাড়ি আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, গাড়ি আটকের ঘটানাটি সত্য। পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহারের অনুরোধে আমি গাড়িটি ছেড়েও দিয়েছি।

কাস্টমস কর্মকর্তার দুর্নীতি-অনিয়ম-ঘুষের প্রতিবাদ ব্যবসায়ীদের

 ফেনী প্রতিনিধি 
০২ মে ২০২১, ০৬:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেনীতে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত সরকারি কর দেওয়ার পরেও জেলার কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

রোববার বিকালে ফেনীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জাফর উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিটি ইটভাটার মালিককে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে সরকারি করের বাইরে তাকে প্রতি ভাটা থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। তার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে ফুঁসে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা। তাকে ফেনী থেকে অপসারণ করে ও অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

জাফর উদ্দিন বলেন, কামরুজ্জামানের মতো কর্মকর্তা ফেনীতে থাকলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে আগ্রহ হারাবে। কামরুজ্জামান ফেনীতে কাস্টম সুপার হয়ে ফেনীতে যোগদান করার পর থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সময় উৎকোচ দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নিজে ও পরিবারের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফেনীতে আগমন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফার্নিচার ক্রয় করতে উপঢৌকন দিতে ব্যবসায়ীদের চাপ প্রয়োগ করেন। ব্যবসায়ীরা তার এসব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করে আসলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

প্রচলিত আইনের বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে সকাল সন্ধ্যায় বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ করে উৎকোচ দিতে বাধ্য করেন। ১৫ এপ্রিল কামরুজ্জামান উৎকোচের জন্য মাইজবাড়িয়ার আলম ব্রিক ফিল্ডে হানা দিয়ে তার ইটবোঝাই গাড়ি আটক করে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আমির হোসেন বাহারের সমঝতায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তার এ অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ফেনী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আবুল কাশেম, বজলুল করিম মজুমদার, শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী, ফেনী জেলা জুয়েলারি মালিক সমিতির সভাপতি ইসমাইল হোসেন খোকন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল গোফরান বাচ্চু, ইট প্রস্ততকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক মজুমদার, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমন উল হক, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা, থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী সমিতির ফকরুল হাসান মাহমুদ ও গ্র্যান্ড সুলতান কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেবিএম জাহাঙ্গীর আলম, আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের মালিক সামছুল হক মজুমদার।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জেলার কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, আমি সরকারি রাজস্ব আদায় করতে যা যা করণীয় তাই করছি।

কিছু দিন পূর্বে একটি ইটভাটা থেকে গাড়ি আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, গাড়ি আটকের ঘটানাটি সত্য। পরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহারের অনুরোধে আমি গাড়িটি ছেড়েও দিয়েছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন