মাকে অন্যের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যা!
jugantor
মাকে অন্যের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যা!

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

০২ মে ২০২১, ২০:১৪:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে মাকে অন্যের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় মেয়ে মাহীকে (৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা গুচ্ছগ্রামে।

রোববার এ নিয়ে দিনভর দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক শেষে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত না করে এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই খুন হওয়া ওই শিশুটির মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে বাস্তা গুচ্ছগ্রামের মো. আব্দুর রহমানের মেয়ে পোশাক শ্রমিক মৌসুমী আক্তারের (২৫) যাদবপুর ইউনিয়নের আমছিমুর গ্রামের লেবু ব্যবসায়ী মো. মিনহাজ উদ্দিনের সঙ্গে কাবিন রেজিস্ট্রিমূলে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে মাহী আক্তার নামে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

কন্যাসন্তান জন্মের ৪-৫ বছর বেশ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হলে মৌসুমী তার মেয়েকে নিয়ে পিত্রালয় চলে আসেন। দুই বছর যাবত পিতার বাড়িতে থেকেই তিনি ধামরাই উপজেলা সদরের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করে আসছেন।

এই দুই বছরে একদিনও স্ত্রী-সন্তানের কোনো খোঁজখবর রাখেনি কিংবা ভরণপোষণও দেয়নি তার স্বামী। ফলে ওই পোশাক শ্রমিক মৌসুমী নি:সঙ্গ জীবন থেকে পরিত্রাণের আশায় পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।

এলাকাবাসীর ধারণা, ঘটনার রাতে পরকীয়া প্রেমিক ওই নারী পোশাক শ্রমিকের শয়নকক্ষে এসে গোপন অভিসারে মিলিত হয়। এ দৃশ্য ওই শিশুকন্যা মাহী দেখে ফেলায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই ওই শিশু মাহীর মুখ চেপে ধরে মাথায় আঘাত করে। এতেই তার মৃত্যু ঘটে।

লোক মারফত ঘটনাটি জেনে যান মাহীর পিতা মিনহাজ উদ্দিন। এরপর তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি মো. জিয়াউর রহমান জিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বাস্তা গুচ্ছগ্রামে চলে যান এবং তিনি তার শিশু মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। মেয়ের মরদেহ তিনি তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর বনেরচর গ্রামের ইউপি মেম্বার মো. এমারত হোসেন, আমছিমুর গ্রামের ইউপি মেম্বার মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেজুয়ান আহাম্মেদ রিজন ও শাহীন আলমের নেতৃত্বে এ নিয়ে দিনভর দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

একপর্যায়ে দিন শেষে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয় মরদেহ দাফন করার জন্য। এরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে থানা পুলিশকে না জানিয়ে এবং কোনো প্রকার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি আমছিমুর এলাকায় দাফন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে শিশু মাহীর পিতা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, পরকীয়ার প্রেমিককে বাঁচাতে আমার মেয়েকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এলাকাবাসীর চাপে আমি আমার মেয়ের মরদেহ দাফনে রাজি হয়েছি।

শিশু মাহীর মা মৌসুমী আক্তার মেয়ে হত্যা করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ওপরে অহেতুক দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার মেয়ে হার্টঅ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেজুয়ান আহাম্মেদ রিজন জানান, শান্তির লক্ষ্যে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কারণ সন্তান মারা গেছে। এক্ষেত্রে মা-বাবা উভয়েরই মনে কষ্ট। কাজেই থানা পুলিশকে না জানিয়েই বিষয়টি তাদের মধ্যে সমঝোতা করা হয়েছে।

যাদবপুর ইউপি সদস্য মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, গ্রামের লোক হিসেবে তাদের ডেকে নিয়েছি মাত্র; যা কিছু করার গ্রামবাসীই করেছেন। আমি এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে বালিয়া ইউপি মেম্বার মো. এমারত হোসেন বলেন, মেয়েটি বাস্তা গুচ্ছগ্রামে মায়ের সঙ্গে থাকত। মেয়েটির বাবা ২ বছর ধরে তাদের কোনো খোঁজখবর রাখে না এবং ভরণপোষণও দেয় না। মা পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মেয়েটির মৃত্যু সংবাদ পেয়েই ওই বাড়িতে যাই। বিষয়টি কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. রাসেল মোল্লাকে অবহিত করি। এরপর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমঝোতা করে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

এ ব্যাপারে কাওয়ারীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি লিখিতভাবে কেউ আমাকে জানায়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাকে অন্যের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যা!

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
০২ মে ২০২১, ০৮:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে মাকে অন্যের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় মেয়ে মাহীকে (৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা গুচ্ছগ্রামে। 

রোববার এ নিয়ে দিনভর দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক শেষে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত না করে এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই খুন হওয়া ওই শিশুটির মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে বাস্তা গুচ্ছগ্রামের মো. আব্দুর রহমানের মেয়ে পোশাক শ্রমিক মৌসুমী আক্তারের (২৫) যাদবপুর ইউনিয়নের আমছিমুর গ্রামের লেবু ব্যবসায়ী মো. মিনহাজ উদ্দিনের সঙ্গে কাবিন রেজিস্ট্রিমূলে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে মাহী আক্তার নামে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। 

কন্যাসন্তান জন্মের ৪-৫ বছর বেশ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হলে মৌসুমী তার মেয়েকে নিয়ে পিত্রালয় চলে আসেন। দুই বছর যাবত পিতার বাড়িতে থেকেই তিনি ধামরাই উপজেলা সদরের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করে আসছেন। 

এই দুই বছরে একদিনও স্ত্রী-সন্তানের কোনো খোঁজখবর রাখেনি কিংবা ভরণপোষণও দেয়নি তার স্বামী। ফলে ওই পোশাক শ্রমিক মৌসুমী নি:সঙ্গ জীবন থেকে পরিত্রাণের আশায় পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। 

এলাকাবাসীর ধারণা, ঘটনার রাতে পরকীয়া প্রেমিক ওই নারী পোশাক শ্রমিকের শয়নকক্ষে এসে গোপন অভিসারে মিলিত হয়। এ দৃশ্য ওই শিশুকন্যা মাহী দেখে ফেলায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই ওই শিশু মাহীর মুখ চেপে ধরে মাথায় আঘাত করে। এতেই তার মৃত্যু ঘটে।

লোক মারফত ঘটনাটি জেনে যান মাহীর পিতা মিনহাজ উদ্দিন। এরপর তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি মো. জিয়াউর রহমান জিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বাস্তা গুচ্ছগ্রামে চলে যান এবং তিনি তার শিশু মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। মেয়ের মরদেহ তিনি তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর বনেরচর গ্রামের ইউপি মেম্বার মো. এমারত হোসেন, আমছিমুর গ্রামের ইউপি মেম্বার মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেজুয়ান আহাম্মেদ রিজন ও শাহীন আলমের নেতৃত্বে এ নিয়ে দিনভর দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

একপর্যায়ে দিন শেষে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয় মরদেহ দাফন করার জন্য। এরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে থানা পুলিশকে না জানিয়ে এবং কোনো প্রকার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি আমছিমুর এলাকায় দাফন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

এ ব্যাপারে শিশু মাহীর পিতা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, পরকীয়ার প্রেমিককে বাঁচাতে আমার মেয়েকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এলাকাবাসীর চাপে আমি আমার মেয়ের মরদেহ দাফনে রাজি হয়েছি।

শিশু মাহীর মা মৌসুমী আক্তার মেয়ে হত্যা করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ওপরে অহেতুক দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার মেয়ে হার্টঅ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেজুয়ান আহাম্মেদ রিজন জানান, শান্তির লক্ষ্যে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কারণ সন্তান মারা গেছে। এক্ষেত্রে মা-বাবা উভয়েরই মনে কষ্ট। কাজেই থানা পুলিশকে না জানিয়েই বিষয়টি তাদের মধ্যে সমঝোতা করা হয়েছে।

যাদবপুর ইউপি সদস্য মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, গ্রামের লোক হিসেবে তাদের ডেকে নিয়েছি মাত্র; যা কিছু করার গ্রামবাসীই করেছেন। আমি এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে বালিয়া ইউপি মেম্বার মো. এমারত হোসেন বলেন, মেয়েটি বাস্তা গুচ্ছগ্রামে মায়ের সঙ্গে থাকত। মেয়েটির বাবা ২ বছর ধরে তাদের কোনো খোঁজখবর রাখে না এবং ভরণপোষণও দেয় না। মা পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মেয়েটির মৃত্যু সংবাদ পেয়েই ওই বাড়িতে যাই। বিষয়টি কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. রাসেল মোল্লাকে অবহিত করি। এরপর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমঝোতা করে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

এ ব্যাপারে কাওয়ারীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি লিখিতভাবে কেউ আমাকে জানায়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ আইনগত  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন