দিনাজপুরেরে যে উপজেলায় করোনায় এখনো কেউ মারা যায়নি
jugantor
দিনাজপুরেরে যে উপজেলায় করোনায় এখনো কেউ মারা যায়নি

  বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি  

০৩ মে ২০২১, ১৭:২৬:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারত সীমান্তবেষ্টিত জেলা দিনাজপুরে হঠাৎ করেই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার এক দিনে মারা গেছে ৪ জন। দিনাজপুর জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর এটিই রেকর্ড বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ জেলার ১৩ উপজেলার ১২ উপজেলায়ই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। শুধু একটি উপজেলায় এখনো করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। আর সে উপজেলা হলো ঘোড়াঘাট। জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু ঘটনা ঘটেনি।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে গতবছরের এপ্রিল মাসে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্ত হলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরবর্তী মে মাস থেকে দিনাজপুরে মৃত্যু তালিকায় নাম আসতে শুরু করে। এরপর দিনাজপুর জেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটেছে ১১৫ জনের।

এর মধ্যে গতবছরের মে মাসে ২ জন, জুন মাসে ৯ জন, জুলাই মাসে ২৭ জন, আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ২৯ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৭ জন, অক্টোবর মাসে ৫ জন, নভেম্বর মাসে ৯ জন, ডিসেম্বর মাসে ১০ জন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২ জন, মার্চ মাসে ৪ জন, এপ্রিল মাসে ৯ জন এবং চলতি মে মাসের ২ দিনে মারা গেছে ৪ জন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

করোনায় মৃত এই ১১৫ জনের ব্যক্তিদের মধ্যে শুধুমাত্র দিনাজপুর সদর উপজেলাতেই ৫২ জন। চিরিরবন্দর উপজেলায় ১১ জন, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ৮ জন করে, বিরল উপজেলায় ৭ জন, বীরগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলায় ৬ জন করে, কাহারোল উপজেলায় ৫ জন, বোচাগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায় ৪ জন করে, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩ জন এবং হাকিমপুর উপজেলায় ১ জন। ঘোড়াঘাট উপজেলায় এ পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।

এদিকে শনিবার করোনায় মৃত চারজনের মধ্যে একজন ভারত ফেরত হওয়ায় এটি ভারতের ভয়াবহ ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাস কী না, এমন শঙ্কায় রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ওই মৃত ব্যক্তির নমুনা ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এটি করোনা ভাইরাসের ভারতের ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট হলে আমাদের জন্য হবে উদ্বেগজনক।

দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া এক রিপোর্টে জানিয়েছে, দিনাজপুরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন। এরা হচ্ছেন- হারিসুল ইসলাম (৩০), কান্তলাল সাহা (৬৫), খলিলুর রহমান (১০১) এবং ওয়াহেদ আলী (৬৫)। এর আগের দিন দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মুসা চৌধুরী (৫৮) নামে আরও এক ব্যক্তি। এদের সকলেরই বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলায়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে গতবছর মে মাসে প্রথম ২ জনের মৃত্যু হয়। আর এ পর্যন্ত দিনাজপুরে মারা গেছে ১১৫ জন। কিন্তু একদিনে চারজনের মৃত্যুর এটিই প্রথম।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হক জানান, করোনায় একদিনে মৃত চারজনের মধ্যে একজন গত কয়েকদিন আগে ভারত থেকে এসেছেন। ভারত থেকে এসেই তার গোটা পরিবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এরপর দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার ভোরে তিনি মারা যান। যেহেতু তিনি ভারত থেকে আসার পরপরই তার করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং এর কয়েকদিনের মধ্যে তিনি মারা গেছেন। সেহেতু এটি ভারতের ভয়াবহ ট্রিপল ভ্যারিয়েন্টের ভাইরাস কী-না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, দিনাজপুরে এই ভ্যারিয়েন্ট পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ জন্য এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই মৃত ব্যক্তির নমুনা ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হচ্ছে। যদি এটি ভারতের ভয়াবহ সেই ভ্যারিয়েন্ট হয়ে থাকে, তাহলে দিনাজপুর তথা দেশের জন্য হবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কারণ এই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুততম সময়ে মৃত্যু ঘটাতে পারে।

দিনাজপুরেরে যে উপজেলায় করোনায় এখনো কেউ মারা যায়নি

 বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
০৩ মে ২০২১, ০৫:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারত সীমান্তবেষ্টিত জেলা দিনাজপুরে হঠাৎ করেই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার এক দিনে মারা গেছে ৪ জন। দিনাজপুর জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর এটিই রেকর্ড বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ জেলার ১৩ উপজেলার ১২ উপজেলায়ই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। শুধু একটি উপজেলায় এখনো করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। আর সে উপজেলা হলো ঘোড়াঘাট। জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু ঘটনা ঘটেনি।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে গতবছরের এপ্রিল মাসে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্ত হলেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরবর্তী মে মাস থেকে দিনাজপুরে মৃত্যু তালিকায় নাম আসতে শুরু করে। এরপর দিনাজপুর জেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটেছে ১১৫ জনের।

এর মধ্যে গতবছরের মে মাসে ২ জন, জুন মাসে ৯ জন, জুলাই মাসে ২৭ জন, আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ২৯ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৭ জন, অক্টোবর মাসে ৫ জন, নভেম্বর মাসে ৯ জন, ডিসেম্বর মাসে ১০ জন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২ জন, মার্চ মাসে ৪ জন, এপ্রিল মাসে ৯ জন এবং চলতি মে মাসের ২ দিনে মারা গেছে ৪ জন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

করোনায় মৃত এই ১১৫ জনের ব্যক্তিদের মধ্যে শুধুমাত্র দিনাজপুর সদর উপজেলাতেই ৫২ জন। চিরিরবন্দর উপজেলায় ১১ জন, পার্বতীপুর  ও ফুলবাড়ী উপজেলায় ৮ জন করে, বিরল উপজেলায় ৭ জন, বীরগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলায় ৬ জন করে, কাহারোল উপজেলায় ৫ জন, বোচাগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায় ৪ জন করে, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩ জন এবং হাকিমপুর উপজেলায় ১ জন। ঘোড়াঘাট উপজেলায় এ পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।

এদিকে শনিবার করোনায় মৃত চারজনের মধ্যে একজন ভারত ফেরত হওয়ায় এটি ভারতের ভয়াবহ ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাস কী না, এমন শঙ্কায় রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ওই মৃত ব্যক্তির নমুনা ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এটি করোনা ভাইরাসের ভারতের ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট হলে আমাদের জন্য হবে উদ্বেগজনক।

দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া এক রিপোর্টে জানিয়েছে, দিনাজপুরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন। এরা হচ্ছেন- হারিসুল ইসলাম (৩০), কান্তলাল সাহা (৬৫), খলিলুর রহমান (১০১) এবং ওয়াহেদ আলী (৬৫)। এর আগের দিন দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মুসা চৌধুরী (৫৮) নামে আরও এক ব্যক্তি। এদের সকলেরই বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলায়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে গতবছর মে মাসে প্রথম ২ জনের মৃত্যু হয়। আর এ পর্যন্ত দিনাজপুরে মারা গেছে ১১৫ জন। কিন্তু একদিনে চারজনের মৃত্যুর এটিই প্রথম।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হক জানান, করোনায় একদিনে মৃত চারজনের মধ্যে একজন গত কয়েকদিন আগে ভারত থেকে এসেছেন। ভারত থেকে এসেই তার গোটা পরিবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এরপর দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার ভোরে তিনি মারা যান। যেহেতু তিনি ভারত থেকে আসার পরপরই তার করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং এর কয়েকদিনের মধ্যে তিনি মারা গেছেন। সেহেতু এটি ভারতের ভয়াবহ ট্রিপল ভ্যারিয়েন্টের ভাইরাস কী-না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, দিনাজপুরে এই ভ্যারিয়েন্ট পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ জন্য এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই মৃত ব্যক্তির নমুনা ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হচ্ছে। যদি এটি ভারতের ভয়াবহ সেই ভ্যারিয়েন্ট হয়ে থাকে, তাহলে দিনাজপুর তথা দেশের জন্য হবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। কারণ এই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুততম সময়ে মৃত্যু ঘটাতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন