আশ্রমে গৃহবধূকে হত্যা, ভণ্ড পীর পান্টু হুজুর গ্রেফতার
jugantor
আশ্রমে গৃহবধূকে হত্যা, ভণ্ড পীর পান্টু হুজুর গ্রেফতার

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি  

০৩ মে ২০২১, ১৭:৫০:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভণ্ড পীরের আশ্রমে গৃহবধূ মুক্তা মালাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগে আশ্রমের পীরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে হত্যা মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রাম থেকে রোববার রাত ১১টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে রোববার সকালে মুক্তা মালাকে (৩২) পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে পিতার অভিযোগ।

নিহত মুক্তা মালা ছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার আবদুর রশিদের মেয়ে এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রামের ইছাহক আলীর ছেলে স্বামী জহুরুল ইসলাম, তার মা জহুরা বেগম ও মৃত মুনছুর আলীর ছেলে ভণ্ড পীর সালাউদ্দীন ওরফে পান্টু হুজুর।

এর আগেও ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করা, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করাসহ একাধিক অভিযোগে একাধিকবার ভণ্ড পীর সালাউদ্দীন ওরফে পান্টু হুজুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া ফুঁসলিয়ে অন্যের স্ত্রী, যুবতীদের নিজের আখড়ায় রাখা, যুবতীদের নিয়ে গানের আসর বসানো, রোগ চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রশিদ দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। লোকমুখে শুনে মেয়ে মুক্তা মালা পিতাকে আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামের পান্টু হুজুরের আশ্রমে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। এক পর্যায়ে পান্টু হুজুরের খাদেম এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মুক্তা মালার পেম সম্পর্ক তৈরি হয়। গত ৬-৭ মাস আগে তারা বিয়েও করেন। বিয়ের পর থেকে মুক্তা মালা তার স্বামীর সঙ্গে পান্টু হুজুরের আশ্রমেই থাকতেন।

রোববার সকাল ৮টার দিকে মুক্তা মালাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আশ্রমের কয়েকজন। পরে লাশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পান্টু হুজুরের ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখে তারা।

কয়েক ঘণ্টা পর আশ্রমের নিজস্ব ভ্যানযোগে লাশ মুক্তা মালার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঘটনাটি কাউকে না বলতে তারা মুক্তা মালার বাবাকে হুমকিও দেয়। পরে দুপুরের দিকে লাশ নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় হাজির হন নিহতের বাবা আবদুর রশিদ। রাত ১০টার দিকে তিনি বাদী হয়ে জহুরুল ইসলাম ও পান্টু হুজুরসহ ৪ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মুক্তা মালার পিতা আব্দুর রশিদ জানান, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর তার শাশুড়ি জহুরা বেগম, স্বামী জহুরুল ও ভণ্ড পীর পান্টু হুজুর অত্যাচার করতেন। তারা পরিকল্পনা করে আমার মেয়েকে হত্যা করেছেন। আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবীর বলেন, নিহত মুক্তা মালার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আশ্রমে গৃহবধূকে হত্যা, ভণ্ড পীর পান্টু হুজুর গ্রেফতার

 চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 
০৩ মে ২০২১, ০৫:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভণ্ড পীরের আশ্রমে গৃহবধূ মুক্তা মালাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগে আশ্রমের পীরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে হত্যা মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রাম থেকে রোববার রাত ১১টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  

এর আগে রোববার সকালে মুক্তা মালাকে (৩২) পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে পিতার অভিযোগ।

নিহত মুক্তা মালা ছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার আবদুর রশিদের মেয়ে এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রামের ইছাহক আলীর ছেলে স্বামী জহুরুল ইসলাম, তার মা জহুরা বেগম ও মৃত মুনছুর আলীর ছেলে ভণ্ড পীর সালাউদ্দীন ওরফে পান্টু হুজুর।

এর আগেও ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করা, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করাসহ একাধিক অভিযোগে একাধিকবার ভণ্ড পীর সালাউদ্দীন ওরফে পান্টু হুজুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়া ফুঁসলিয়ে অন্যের স্ত্রী, যুবতীদের নিজের আখড়ায় রাখা, যুবতীদের নিয়ে গানের আসর বসানো, রোগ চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বাথানপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রশিদ দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। লোকমুখে শুনে মেয়ে মুক্তা মালা পিতাকে আলমডাঙ্গার এরশাদপুর গ্রামের পান্টু হুজুরের আশ্রমে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। এক পর্যায়ে পান্টু হুজুরের খাদেম এরশাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মুক্তা মালার পেম সম্পর্ক তৈরি হয়। গত ৬-৭ মাস আগে তারা বিয়েও করেন। বিয়ের পর থেকে মুক্তা মালা তার স্বামীর সঙ্গে পান্টু হুজুরের আশ্রমেই থাকতেন।

রোববার সকাল ৮টার দিকে মুক্তা মালাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আশ্রমের কয়েকজন। পরে লাশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পান্টু হুজুরের ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখে তারা।

কয়েক ঘণ্টা পর আশ্রমের নিজস্ব ভ্যানযোগে লাশ মুক্তা মালার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঘটনাটি কাউকে না বলতে তারা মুক্তা মালার বাবাকে হুমকিও দেয়। পরে দুপুরের দিকে লাশ নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় হাজির হন নিহতের বাবা আবদুর রশিদ। রাত ১০টার দিকে তিনি বাদী হয়ে জহুরুল ইসলাম ও পান্টু হুজুরসহ ৪ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মুক্তা মালার পিতা আব্দুর রশিদ জানান, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর তার শাশুড়ি জহুরা বেগম, স্বামী জহুরুল ও ভণ্ড পীর পান্টু হুজুর অত্যাচার করতেন। তারা পরিকল্পনা করে আমার মেয়েকে হত্যা করেছেন। আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবীর বলেন, নিহত মুক্তা মালার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। নিহতের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন