চিরকুট লিখে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা, মায়ের দাবি হত্যা
jugantor
চিরকুট লিখে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা, মায়ের দাবি হত্যা

  মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি  

০৩ মে ২০২১, ২৩:০৫:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাপাচি মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ায় বাবার ওপর অভিমান করে চিরকুট লিখে যশোরের মনিরামপুরে কলেজছাত্র রাকিবুল হাসান (২০) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার মায়ের দাবি- বাবা ও সৎমা মিলে তাকে হত্যা করেছে।

রাকিবুল হাসান মনিরামপুর উপজেলার নোয়ালি গ্রামের আবু মুছা গাজীর ছেলে। সোমবার সকালে শোয়ার ঘর থেকে রাকিবুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করেন স্বজনরা।

তবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ ওই কলেজছাত্রের মা লিলিমা খাতুন। তার দাবি, সৎমা ও বাবা মিলে শ্বাসরোধে মেরে রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ছেলের লাশ ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছে।

খবর পেয়ে সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

জানা যায়, ৫ বছর বয়সে মৃত রাকিবুল হাসানের মা ও বাবার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই রাকিবুল ও তার ছোটবোন লাবনী সৎমা রেশমা খাতুন ও বাবার পরিবারে ছিল। সে সাতক্ষীরা জেলার কলোরোয়া উপজেলার নাসির উদ্দীন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

কয়েক দিন ধরে তার বাবার কাছে অ্যাপাচি মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য বায়না ধরে রাকিবুল। ধান বিক্রি করে কিনে দেবে এ আশ্বাস দেয়ার পরও অভিমানে রাকিবুল হাসান আত্মহত্যা করেছে বলে বাবার দাবি।

রাকিবুলের মা লিলিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রাপ্ত বয়সের আগেই পাশের বাড়ির ছেলে আবু মুছার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন চালাত মুছা। দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। এর মধ্যে তার স্বামী রেশমা খাতুন (বর্তমান স্ত্রী) নামের এক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং মামলার শিকার হয়।

একপর্যায়ে রেশমাকে বিয়ে করে বাড়িতে আনলে তার ও সন্তানদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। তাকে তালাক দেয়ার ৮ বছর পর তিনি অন্যত্র বিয়ে করে ঘরসংসার করেন। তার দাবি সৎমা রেশমা ও স্বামী আবু মুছা মিলে ছেলেকে মেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে।

এদিকে যে ঘরের আড়ায় রাকিবুল গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দেখানো হচ্ছে সেটি শোবার খাট থেকে উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। আর গলায় রশি দিয়ে মৃত রাকিবুল ইসলামের উচ্চতাও প্রায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। সেই কারণে এত কম উচ্চতায় গলায় রশি দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন।

স্থানীয় রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শাহাজাহান আলী জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর সত্য বেরিয়ে আসবে।

থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

চিরকুট লিখে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা, মায়ের দাবি হত্যা

 মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 
০৩ মে ২০২১, ১১:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাপাচি মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ায় বাবার ওপর অভিমান করে চিরকুট লিখে যশোরের মনিরামপুরে কলেজছাত্র রাকিবুল হাসান (২০) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার মায়ের দাবি- বাবা ও সৎমা মিলে তাকে হত্যা করেছে।

রাকিবুল হাসান মনিরামপুর উপজেলার নোয়ালি গ্রামের আবু মুছা গাজীর ছেলে। সোমবার সকালে শোয়ার ঘর থেকে রাকিবুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করেন স্বজনরা।

তবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ ওই কলেজছাত্রের মা  লিলিমা খাতুন। তার দাবি, সৎমা ও বাবা মিলে শ্বাসরোধে মেরে রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ছেলের লাশ ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছে।

খবর পেয়ে সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

জানা যায়, ৫ বছর বয়সে মৃত রাকিবুল হাসানের মা ও বাবার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই রাকিবুল ও তার ছোটবোন লাবনী সৎমা রেশমা খাতুন ও বাবার পরিবারে ছিল। সে সাতক্ষীরা জেলার কলোরোয়া উপজেলার নাসির উদ্দীন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

কয়েক দিন ধরে তার বাবার কাছে অ্যাপাচি মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য বায়না ধরে রাকিবুল। ধান বিক্রি করে কিনে দেবে এ আশ্বাস দেয়ার পরও অভিমানে রাকিবুল হাসান আত্মহত্যা করেছে বলে বাবার দাবি।

রাকিবুলের মা লিলিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রাপ্ত বয়সের আগেই পাশের বাড়ির ছেলে আবু মুছার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন চালাত মুছা। দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। এর মধ্যে তার স্বামী রেশমা খাতুন (বর্তমান স্ত্রী) নামের এক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং মামলার শিকার হয়।

একপর্যায়ে রেশমাকে বিয়ে করে বাড়িতে আনলে তার ও সন্তানদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। তাকে তালাক দেয়ার ৮ বছর পর তিনি অন্যত্র বিয়ে করে ঘরসংসার করেন। তার দাবি সৎমা রেশমা ও স্বামী আবু মুছা মিলে ছেলেকে মেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে।

এদিকে যে ঘরের আড়ায় রাকিবুল গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দেখানো হচ্ছে সেটি শোবার খাট থেকে উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। আর গলায় রশি দিয়ে মৃত রাকিবুল ইসলামের উচ্চতাও প্রায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। সেই কারণে এত কম উচ্চতায় গলায় রশি দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন।

স্থানীয় রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শাহাজাহান আলী জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর সত্য বেরিয়ে আসবে।

থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন