সাড়া ফেলেছে নিরাপদ সবজি বিক্রয় কেন্দ্র
jugantor
সাড়া ফেলেছে নিরাপদ সবজি বিক্রয় কেন্দ্র

  বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি  

০৪ মে ২০২১, ১৭:৫৫:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে সবজি উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এর ফলে দেশের মানুষ যেমন রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তেমনি আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে।

এ থেকে মুক্তি পেতে কৃষি বিভাগ সারা দেশে ৮ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় রংপুর বিভাগের দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নকে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) মডেল ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ওই ইউনিয়নে ২০টি দলের ৫০০ জন কৃষক-কৃষাণী আইপিএম পদ্ধতির প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০০ একর জমিতে সারা বছর ধরে রাসায়নিক ও বিষমুক্ত লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, করলা, শসা ইত্যাদি উৎপাদন করছে। এছাড়াও জৈব প্রযুক্তি ও জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে অন্যান্য কৃষকরা নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছে।

উৎপাদিত সবজি বিক্রয়ের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে বীরগঞ্জ পৌর শহরের দৈনিক বাজারে একটি নিরাপদ সবজি বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ক্রেতা সাধারণের হাতের কাছে নিরাপদ সবজি পৌঁছে দেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

সবজি বিক্রয় কেন্দ্রে আসা ক্রেতা মো. শাহাজাহান সিরাজ বুলবুল জানান, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এই বিক্রয় কেন্দ্রের পণ্য নিরাপদ এবং বিষমুক্ত। এটি ক্রেতাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে এবং ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে পারলে এই উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে। আমরাও চাই নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি কিনতে। কিন্তু কোথায় পাওয়া যাবে এটি আমাদের জানা ছিল না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আফরোজ সুলতানা লুনা বলেন, নিঃসন্দেহে কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। এই প্রকল্পটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে মানুষ অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাবে। কারণ সবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মানুষ কিডনি, লিভার, চর্মরোগসহ মরণব্যাধি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এ উদ্যোগের ফলে মানুষ কিছুটা হলেও এর থেকে পরিত্রাণ পাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, আইপিএম মডেল বলতে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রেখে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকর পোকা ও রোগ-বালাইকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমার নিচে রেখে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করাকে বুঝায়। আইপিএম মডেল ইউনিয়নে ২০টি নিরাপদ সবজি উৎপাদনকারী দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে ২৫ জন সদস্য হিসেবে ৫০০ জন কৃষক-কৃষাণী রয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ ভাগ নারী সদস্য রয়েছেন। প্রত্যেক সদস্যের ২০শতাংশ জমি নিয়ে ৫ একর জমিতে সারা বছর আইপিএম পদ্ধতিতে সারা বছর বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদিত সবজি ক্রেতাদের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। চাহিদা বাড়লে বিক্রয় কেন্দ্র বাড়ানো হবে।

সাড়া ফেলেছে নিরাপদ সবজি বিক্রয় কেন্দ্র

 বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
০৪ মে ২০২১, ০৫:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশে সবজি উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এর ফলে দেশের মানুষ যেমন রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তেমনি আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে।

এ থেকে মুক্তি পেতে কৃষি বিভাগ সারা দেশে ৮ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় রংপুর বিভাগের দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নকে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) মডেল ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ওই ইউনিয়নে ২০টি দলের ৫০০ জন কৃষক-কৃষাণী আইপিএম পদ্ধতির প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০০ একর জমিতে সারা বছর ধরে রাসায়নিক ও বিষমুক্ত লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, করলা, শসা ইত্যাদি উৎপাদন করছে। এছাড়াও জৈব প্রযুক্তি ও জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করে অন্যান্য কৃষকরা নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছে।

উৎপাদিত সবজি বিক্রয়ের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে বীরগঞ্জ পৌর শহরের দৈনিক বাজারে একটি নিরাপদ সবজি বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ক্রেতা সাধারণের হাতের কাছে নিরাপদ সবজি পৌঁছে দেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

সবজি বিক্রয় কেন্দ্রে আসা ক্রেতা মো. শাহাজাহান সিরাজ বুলবুল জানান, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এই বিক্রয় কেন্দ্রের পণ্য নিরাপদ এবং বিষমুক্ত। এটি ক্রেতাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে এবং ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে পারলে এই উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে। আমরাও চাই নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি কিনতে। কিন্তু কোথায় পাওয়া যাবে এটি আমাদের জানা ছিল না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আফরোজ সুলতানা লুনা বলেন, নিঃসন্দেহে কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। এই প্রকল্পটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে মানুষ অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাবে। কারণ সবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মানুষ কিডনি, লিভার, চর্মরোগসহ মরণব্যাধি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এ উদ্যোগের ফলে মানুষ কিছুটা হলেও এর থেকে পরিত্রাণ পাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, আইপিএম মডেল বলতে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রেখে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকর পোকা ও রোগ-বালাইকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমার নিচে রেখে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করাকে বুঝায়। আইপিএম মডেল ইউনিয়নে ২০টি নিরাপদ সবজি উৎপাদনকারী দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে ২৫ জন সদস্য হিসেবে ৫০০ জন কৃষক-কৃষাণী রয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ ভাগ নারী সদস্য রয়েছেন। প্রত্যেক সদস্যের ২০শতাংশ জমি নিয়ে ৫ একর জমিতে সারা বছর আইপিএম পদ্ধতিতে সারা বছর বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদিত সবজি ক্রেতাদের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। চাহিদা বাড়লে বিক্রয় কেন্দ্র বাড়ানো হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন