ধর্ষণের শিকার তরুণীর গর্ভের সন্তান নষ্টে আলটিমেটাম, অতঃপর...
jugantor
ধর্ষণের শিকার তরুণীর গর্ভের সন্তান নষ্টে আলটিমেটাম, অতঃপর...

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

০৪ মে ২০২১, ১৯:২৫:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ের চৌহাট এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় এক তরুণী। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। ওই তরুণীর ৪ মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে স্থানীয় মাতবর ও ধর্ষকের পরিবার ধর্ষিতাকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেয়।

এতে ওই তরুণী ও তার পরিবার মহাবিপাকে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় ওই তরুণী ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে সোমবার বিকালে পুলিশ হেফাজতে আনা হয় এবং এ ব্যাপারে থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেফাজতে ওই ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ঘটনায় ওই তরুণীকে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদানেরও আশ্বাস দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক ইউনিয়নের সিনাবর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. জনি মিয়া (৩২) ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার চৌহাট নানা মো. ভেন্দু মিয়ার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। বিয়ের প্রলোভনে চৌহাট ইউনিয়নের এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চার মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওই তরুণীর সঙ্গে দৈহিক মেলামেশাও করেন। এতে ওই তরুণী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

জনিকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিয়ে না করে নানা টালবাহানায় শুধু সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ফলে ওই তরুণী বিষয়টি তার পরিবারের কাছে সব কিছু জানায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. তোতা মিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যান পারভীন হাসান প্রীতিকে অবহিত করেন।

এতে হিতে বিপরীত হয়ে যায়। উল্টো ওই ধর্ষক তার নিজ বাড়িতে এক সালিশি বৈঠকের ব্যবস্থা করে। এ সালিশি বৈঠকে তরুণীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলার জন্য মাতবররা পরিবারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেয়।

মাতবরদের কথামত গর্ভের সন্তান নষ্ট না করা হলে ওই ধর্ষিতাকে সপরিবারে এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদান করে ওই মাতবররা। এতে ওই ধর্ষিতা ও তার পরিবার মহাবিপাকে পড়ে যায়।

সোমবার বিকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন।

ওই তরুণী বলেন, আমরা মহাবিপাকে পড়ে গিয়েছিলাম। এ পুলিশ অফিসার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের কোনো উপায় ছিল না মাতবরদের কথার বাইরে যাওয়ার। আমি আমার গর্ভের সন্তান মারতে চাই না। আমরা এখন বিচার পাব। ওদের শাস্তি চাই।

কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. রাসেল মোল্লা বলেন, এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষিতাকে পুলিশ ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্ষণের শিকার তরুণীর গর্ভের সন্তান নষ্টে আলটিমেটাম, অতঃপর...

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
০৪ মে ২০২১, ০৭:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ের চৌহাট এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় এক তরুণী। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। ওই তরুণীর ৪ মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে স্থানীয় মাতবর ও ধর্ষকের পরিবার ধর্ষিতাকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেয়।

এতে ওই তরুণী ও তার পরিবার মহাবিপাকে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় ওই তরুণী ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে সোমবার বিকালে পুলিশ হেফাজতে আনা হয় এবং এ ব্যাপারে থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেফাজতে ওই ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ঘটনায় ওই তরুণীকে যথাযথ আইনি  সহায়তা প্রদানেরও আশ্বাস দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক ইউনিয়নের সিনাবর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. জনি মিয়া (৩২) ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার চৌহাট নানা মো. ভেন্দু মিয়ার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। বিয়ের প্রলোভনে চৌহাট ইউনিয়নের এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চার মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওই তরুণীর সঙ্গে দৈহিক মেলামেশাও করেন। এতে ওই তরুণী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

জনিকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিয়ে না করে নানা টালবাহানায় শুধু সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ফলে ওই তরুণী বিষয়টি তার পরিবারের কাছে সব কিছু জানায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. তোতা মিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যান পারভীন হাসান প্রীতিকে অবহিত করেন।

এতে হিতে বিপরীত হয়ে যায়। উল্টো ওই ধর্ষক তার নিজ বাড়িতে এক সালিশি বৈঠকের ব্যবস্থা করে। এ সালিশি বৈঠকে তরুণীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলার জন্য মাতবররা পরিবারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেয়।

মাতবরদের কথামত গর্ভের সন্তান নষ্ট না করা হলে ওই ধর্ষিতাকে সপরিবারে এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদান করে ওই মাতবররা। এতে ওই ধর্ষিতা ও তার পরিবার মহাবিপাকে পড়ে যায়।

সোমবার বিকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন।

ওই তরুণী বলেন, আমরা মহাবিপাকে পড়ে গিয়েছিলাম। এ পুলিশ অফিসার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের কোনো উপায় ছিল না মাতবরদের কথার বাইরে যাওয়ার। আমি আমার গর্ভের সন্তান মারতে চাই না। আমরা এখন বিচার পাব। ওদের শাস্তি চাই।

কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. রাসেল মোল্লা বলেন, এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষিতাকে পুলিশ ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন