নিজ পরিবারে ফিরতে চান স্মৃতিভ্রম এক নারী
jugantor
নিজ পরিবারে ফিরতে চান স্মৃতিভ্রম এক নারী

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

০৪ মে ২০২১, ২১:৫১:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে স্মৃতিভ্রম নাম পরিচয়হীন চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন। এরই মধ্যে আশ্রয়দাত্রী মারা গেছেন। তার সন্তানেরা আগলে রেখেছেন সেই নারীকে।

এখন নারীর সঙ্গে সেই পরিবারের লোকজনও চান স্মৃতিভ্রম ওই নারীটি শেষ বয়সে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাক। পাক পরিবারের সান্নিধ্য। এজন্য নারীটির ছবি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

আশ্রয়দাতা সুইট রানা বলেন, ২০১২ সালের দিকে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহটি এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে দেখতে পাওয়া যায়। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় চাকিরপশার ইউনিয়নের ফুলকার চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও আমার মা ফাতেমা বেগম লোকজনের অনুরোধে অসুস্থ নারীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, নারীকে আমাদের চাকিরপশার ইউনিয়নের কমল ওঝার বাড়িতে এনে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা হয়। কিন্তু তার পুরনো স্মৃতি আর ফিরে আসেনি। ফলে বাড়িতেই তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেই কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি।

সুইট রানা বলেন, এরই মধ্যে আমার মা গত ২০১৯ সালে পরলোকগমন করেন। এরপর থেকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তাকে আমার কাছেই রেখেছি। এখন আমরাও ওই নারীর মতো চাই তিনি শেষ সময়ে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাক। এতে তিনি তাদের ভালোবাসার সান্নিধ্য পাবেন, আমরাও দায়মুক্ত হব।

স্মৃতিভ্রষ্ট ওই নারী জানান, আমার কিছু মনে পড়ে না। আমি আমার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই। ফিরে যেতে চাই তাদের কাছে। জানি না সেটা সম্ভব কিনা।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ জানান, ওই মহিলাকে সম্মানজনকভাবে মাথা গোঁজার ও খাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম ও তার পুত্র সুইট রানা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারীর ছবি প্রকাশ করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলে সবচেয়ে ভালো হয়।

এ ব্যাপারে চাকিরপশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নাম-পরিচয়হীন নারীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ করা হলে ছবি দেখে তার পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসতে পারবেন।

নিজ পরিবারে ফিরতে চান স্মৃতিভ্রম এক নারী

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
০৪ মে ২০২১, ০৯:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে স্মৃতিভ্রম নাম পরিচয়হীন চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন। এরই মধ্যে আশ্রয়দাত্রী মারা গেছেন। তার সন্তানেরা আগলে রেখেছেন সেই নারীকে।

এখন নারীর সঙ্গে সেই পরিবারের লোকজনও চান স্মৃতিভ্রম ওই নারীটি শেষ বয়সে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাক। পাক পরিবারের সান্নিধ্য। এজন্য নারীটির ছবি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

আশ্রয়দাতা সুইট রানা বলেন, ২০১২ সালের দিকে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহটি এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে দেখতে পাওয়া যায়। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় চাকিরপশার ইউনিয়নের ফুলকার চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও আমার মা ফাতেমা বেগম লোকজনের অনুরোধে অসুস্থ নারীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, নারীকে আমাদের চাকিরপশার ইউনিয়নের কমল ওঝার বাড়িতে এনে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা হয়। কিন্তু তার পুরনো স্মৃতি আর ফিরে আসেনি। ফলে বাড়িতেই তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেই কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি।

সুইট রানা বলেন, এরই মধ্যে আমার মা গত ২০১৯ সালে পরলোকগমন করেন। এরপর থেকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তাকে আমার কাছেই রেখেছি। এখন আমরাও ওই নারীর মতো চাই তিনি শেষ সময়ে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাক। এতে তিনি তাদের ভালোবাসার সান্নিধ্য পাবেন, আমরাও দায়মুক্ত হব।

স্মৃতিভ্রষ্ট ওই নারী জানান, আমার কিছু মনে পড়ে না। আমি আমার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই। ফিরে যেতে চাই তাদের কাছে। জানি না সেটা সম্ভব কিনা।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ জানান, ওই মহিলাকে সম্মানজনকভাবে মাথা গোঁজার ও খাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম ও তার পুত্র সুইট রানা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারীর ছবি প্রকাশ করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলে সবচেয়ে ভালো হয়।

এ ব্যাপারে চাকিরপশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নাম-পরিচয়হীন নারীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ করা হলে ছবি দেখে তার পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসতে পারবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন