বিদ্যুতের শর্টসার্কিটেই রংপুরে ২ মাসে ৫৮৪টি অগ্নিকাণ্ড
jugantor
বিদ্যুতের শর্টসার্কিটেই রংপুরে ২ মাসে ৫৮৪টি অগ্নিকাণ্ড

  রংপুর ব্যুরো  

০৪ মে ২০২১, ২২:৪৮:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় গত ২ মাসে ৫৮৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে। তাই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে বিদ্যুতের নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারকে দায়ী করছেন।

রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ রংপুর জেলায় গত মার্চ মাসে ২৬৬টি আর এপ্রিলে ৩১৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব জেলার মধ্যে সব চেয়ে রংপুর ও পরের অবস্থানে নীলফামারী জেলায় বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

এসব দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুতের দুর্বল সংযোগ, লো-ভোল্টেজ থেকে হঠাৎ উচ্চ ভোল্টেজ, লোজ কানেকশন, দুর্বল ফিটিংকসকে ব্যবহার দায়ী বলে ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়াও রয়েছে মানুষের অবহেলা, অসচেতনতা, বাসা-বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রংপুর আঞ্চলিক স্টেশনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ মাসে রংপুরের ৮ উপজেলায় ৬৬টি, গাইবান্ধা জেলায় ৫৭টি, নীলফামারী জেলায় ৬২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৩৮ আর কুড়িগ্রাম জেলায় ৪৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এপ্রিল মাসে রংপুর জেলায় ১০২টি, গাইবান্ধা জেলায় ৪৫টি, নীলফামারী জেলায় ৮১টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি ও কুড়িগ্রাম জেলায় ৪১টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল মধ্যরাতে রংপুরের কেরানীর হাট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬টি দোকান, ওই রাতেই নগরীর সেনপাড়ায় একটি মুদির দোকানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আর ৩০ এপ্রিল রাত পৌনে ১টায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে রংপুর মহানগরীর পশ্চিম খাসবাগ এলাকায় একটি সেমাই কারখানায়।

রংপুর সেনপাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মুদি ব্যবসায়ী সামিউল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বদ্ধ দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার ধারণা, বিদ্যুতের মিটার থেকে দোকানে যে সংযোগটি এসেছে সেখানে থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় দোকানটি।

একই কথা বলেছেন আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

তবে সামিউল দাবি করছেন, বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ চলছে। হঠাৎ করেই ভোল্টেজ বেশি হওয়ায় ফায়ারিং শুরু হয়। এতে করেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নগরীর পশ্চিম খাসবাগ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রেজাউল হোসেন জানান, সেমাই কারখানায় যে সংযোগ নেয়া হয়েছে তা বাসার মিটার থেকে। এখানে বিদ্যুতের কানেকশন লোজ থাকায় এটা হতে পারে বলেও ধারণা তার।

তিনি বলেন, আমরা মৌসুমী ব্যবসায়ী। সে কারণে আলাদা লাইন নেয়া হয়নি। বাসার লাইন থেকেই সংযোগটি নেয়া হয়েছে। ২৯ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে নগরীর ১১নং ওয়ার্ডের কেরানীরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছোট-বড় ১৬টি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ওহিদুল ইসলাম বলেন, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় গত ২ মাসে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটেছে তা সবই বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি।

তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, অফিস, কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেখানেই হোক না কেন কোনোভাবেই নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা যাবে না। এ সংযোগগুলো কমপক্ষে ৬ মাস পরপর চেক করা প্রয়োজন। সম্ভব হলে দশ বছর হতে না হতেই পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়াও গুদাম ঘর গুলোতে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার কোনো বিধানই নেই সেগুলোতেই সংযোগ দেয়া হচ্ছে। গুদামজাতে নিয়মই আছে, কাজ করার সময় এলইডি লাইট ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানার কারণেই দুর্ঘটনাগুলো বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লোড শেডিং, লো ভোল্টেজ এবং হাই ভোল্টেজ এই বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে সব থেকে বেশি সতর্ক হতে হবে। কারণ কখনো লো ভোল্টেজে লাইন চলছে আবার হঠাৎ করেই হাই ভোল্টেজ এলো, তখনই স্পার্ক বা ফায়ারিং করেই এই অগ্নিকাণ্ডগুলো ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা মনে করেন, অগ্নিনির্বাপণ করতে গিয়ে নির্বাপক দল সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় পড়েন তা হলো প্রশস্ত রাস্তার অভাব। শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই এখন রাস্তা বা সড়ক অপ্রশস্ত। এজন্য নগর পরিকল্পনায় আরও সচেতন হতে হবে। সে সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতাও তৈরির বিকল্প কিছুই নেই।

রংপুর নেসকো লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল-১) মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, লো ভোল্টেজ এবং হাই ভোল্টেজের কারণে অগ্নিকাণ্ড- এই দাবিটি সঠিক নয়। বরং অফিস, বাসাবাড়ি, ফ্যাক্টরিতে নিম্নমানের ওয়ারিং এবং বৈদ্যুতিক সামগ্রীর কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন হতে হবে।

বিদ্যুতের শর্টসার্কিটেই রংপুরে ২ মাসে ৫৮৪টি অগ্নিকাণ্ড

 রংপুর ব্যুরো 
০৪ মে ২০২১, ১০:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় গত ২ মাসে ৫৮৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে। তাই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে বিদ্যুতের নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারকে দায়ী করছেন। 

রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ রংপুর জেলায় গত মার্চ মাসে ২৬৬টি আর এপ্রিলে ৩১৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব জেলার মধ্যে সব চেয়ে রংপুর ও পরের অবস্থানে নীলফামারী জেলায় বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

এসব দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুতের দুর্বল সংযোগ, লো-ভোল্টেজ থেকে হঠাৎ উচ্চ ভোল্টেজ, লোজ কানেকশন, দুর্বল ফিটিংকসকে ব্যবহার দায়ী বলে ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়াও রয়েছে মানুষের অবহেলা, অসচেতনতা, বাসা-বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রংপুর আঞ্চলিক স্টেশনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ মাসে রংপুরের ৮ উপজেলায় ৬৬টি, গাইবান্ধা জেলায় ৫৭টি, নীলফামারী জেলায় ৬২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৩৮ আর কুড়িগ্রাম জেলায় ৪৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এপ্রিল মাসে রংপুর জেলায় ১০২টি, গাইবান্ধা জেলায় ৪৫টি, নীলফামারী জেলায় ৮১টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি ও কুড়িগ্রাম জেলায় ৪১টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল মধ্যরাতে রংপুরের কেরানীর হাট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬টি দোকান, ওই রাতেই নগরীর সেনপাড়ায় একটি মুদির দোকানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আর ৩০ এপ্রিল রাত পৌনে ১টায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে রংপুর মহানগরীর পশ্চিম খাসবাগ এলাকায় একটি সেমাই কারখানায়।

রংপুর সেনপাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মুদি ব্যবসায়ী সামিউল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বদ্ধ দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার ধারণা, বিদ্যুতের মিটার থেকে দোকানে যে সংযোগটি এসেছে সেখানে থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় দোকানটি।

একই কথা বলেছেন আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

তবে সামিউল দাবি করছেন, বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ চলছে। হঠাৎ করেই ভোল্টেজ বেশি হওয়ায় ফায়ারিং শুরু হয়। এতে করেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নগরীর পশ্চিম খাসবাগ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রেজাউল হোসেন জানান, সেমাই কারখানায় যে সংযোগ নেয়া হয়েছে তা বাসার মিটার থেকে। এখানে বিদ্যুতের কানেকশন লোজ থাকায় এটা হতে পারে বলেও ধারণা তার।

তিনি বলেন, আমরা মৌসুমী ব্যবসায়ী। সে কারণে আলাদা লাইন নেয়া হয়নি। বাসার লাইন থেকেই সংযোগটি নেয়া হয়েছে। ২৯ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে নগরীর ১১নং ওয়ার্ডের কেরানীরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছোট-বড় ১৬টি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ওহিদুল ইসলাম বলেন, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় গত ২ মাসে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটেছে তা সবই বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি।

তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, অফিস, কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেখানেই হোক না কেন কোনোভাবেই নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা যাবে না। এ সংযোগগুলো কমপক্ষে ৬ মাস পরপর চেক করা প্রয়োজন। সম্ভব হলে দশ বছর হতে না হতেই পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়াও গুদাম ঘর গুলোতে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার কোনো বিধানই নেই সেগুলোতেই সংযোগ দেয়া হচ্ছে। গুদামজাতে নিয়মই আছে, কাজ করার সময় এলইডি লাইট ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানার কারণেই দুর্ঘটনাগুলো বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, লোড শেডিং, লো ভোল্টেজ এবং হাই ভোল্টেজ এই বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে সব থেকে বেশি সতর্ক হতে হবে। কারণ কখনো লো ভোল্টেজে লাইন চলছে আবার হঠাৎ করেই হাই ভোল্টেজ এলো, তখনই স্পার্ক বা ফায়ারিং করেই এই অগ্নিকাণ্ডগুলো ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা মনে করেন, অগ্নিনির্বাপণ করতে গিয়ে নির্বাপক দল সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় পড়েন তা হলো প্রশস্ত রাস্তার অভাব। শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই এখন রাস্তা বা সড়ক অপ্রশস্ত। এজন্য নগর পরিকল্পনায় আরও সচেতন হতে হবে। সে সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতাও তৈরির বিকল্প কিছুই নেই।

রংপুর নেসকো লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল-১) মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, লো ভোল্টেজ এবং হাই ভোল্টেজের কারণে অগ্নিকাণ্ড- এই দাবিটি সঠিক নয়। বরং অফিস, বাসাবাড়ি, ফ্যাক্টরিতে নিম্নমানের ওয়ারিং এবং বৈদ্যুতিক সামগ্রীর কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন হতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন